চীন সীমান্তের অরুণাচলে বাঁধবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ, থানায় আগুন
সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসী সংগঠনগুলোর ডাকা ১২ ঘণ্টার বন্ধের দিন অরুণাচল প্রদেশের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। কাঁদানে গ্যাসে নারীরা আহত হয়েছেন। তবে আহতের সংখ্যা নিয়ে পুলিশ, বিক্ষোভকারী ও সংবাদমাধ্যমের তথ্যে মিল নেই। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, পাসিঘাটে থানা ও এনএইচপিসির কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে।#Arunachal #SiangDam #IndigenousProtest #India #MeehaNews

চীন সীমান্তবর্তী ভারতের অরুণাচল প্রদেশে প্রস্তাবিত সিয়াং আপার বহুমুখী প্রকল্পের (Siang Upper Multipurpose Project) বিরুদ্ধে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। আজ শনিবারও এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য সেন্টিনেল জানিয়েছে, পূর্ব সিয়াং জেলার পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীরা থানা, রাষ্ট্রায়ত্ত জলবিদ্যুৎ সংস্থা এনএইচপিসির (NHPC) একটি কার্যালয় ও পুলিশের সাতটি গাড়িতে আগুন দেন। বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবর, পাসিঘাটে বিক্ষোভকারীদের ছোড়া পাথরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। রাজ্য বিজেপির সভাপতির বাড়িতেও ভাঙচুর হয়েছে।
সিয়াং, আপার সিয়াং ও পূর্ব সিয়াং জেলায় গতকাল ১২ ঘণ্টার বন্ধ ডেকেছিল আদি বানে কেবাং (Adi Bane Kebang), সিয়াং ইন্ডিজেনাস ফার্মার্স ফোরামের যুব শাখাসহ কয়েকটি সংগঠন। বন্ধের ব্যাপক প্রভাব পড়ে। রাজ্যের বিজেপি সরকার আগে থেকেই আপার সিয়াংয়ে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী মোতায়েন করে রেখেছিল।
বিক্ষোভকারীদের দাবি চারটি:
গ্রেপ্তার ১০ আন্দোলনকারীর মুক্তি
বরখাস্ত গাঁওবুড়াদের (গ্রামপ্রধান) পুনর্বহাল
বাঁধের প্রাথমিক সমীক্ষার সব কাজ বন্ধ
এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রত্যাহার
সিয়াং জেলার পুলিশ সুপার কামদাম সিকম জানান, শুক্রবার সকালে ১৫০ থেকে ২০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়। ইটিভি ভারতের খবর অনুযায়ী, প্রশাসনের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করেন এবং নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে পাথর ছোড়েন।
বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাঁদানে গ্যাসের শেল অনেকের গায়ে সরাসরি লেগেছে, কারও কারও শ্বাসকষ্ট হয়েছে। আহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে:
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অন্তত ছয় নারী গুরুতর আহত হয়েছেন
নর্থইস্ট নাউ এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে লিখেছে, চার নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি
ইটিভি ভারত লিখেছে, পাঁচ নারী আহত হয়েছেন
অরুণাচল প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি পুলিশি পদক্ষেপের কড়া নিন্দা জানিয়ে মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে। দলটির অভিযোগ, সরকার আগে গ্রেপ্তার তরুণদের মুক্তি ও সমীক্ষা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রাখেনি। কংগ্রেস বলেছে, ‘বলপ্রয়োগ করে কখনো মানুষের সম্মতি পাওয়া যায় না।’ নর্থইস্ট নাউ জানিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডু গত ১৩ অক্টোবর আটক তরুণদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
প্রকল্পটির প্রস্তাবিত উৎপাদনক্ষমতা প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট। স্থানীয় আদিবাসীদের আশঙ্কা, এতে পরিবেশ ও জীবিকার ক্ষতি হবে।
সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ নিয়ে রাজ্য সরকার বা বিজেপির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।





