মিনার ধসে পড়া উজ্জয়িনীর শাহি মসজিদ মেরামতে মুসলমানেরা
২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলার জন্য সড়ক প্রশস্ত করতে উজ্জয়িনীর শাহি মসজিদের একাংশ ভাঙা হয়েছে। এ সময় মসজিদের মিনার ধসে পড়ে। স্থানীয় মুসলমানেরা এখন মসজিদটি মেরামতের চেষ্টা করছেন। আল-জাজিরার হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ৬০০ বছর। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট মসজিদ কমিটির আবেদন ও আপিল দুটিই খারিজ করেছেন। প্রশাসনের ভাষ্য, একই সড়কে ১০টি মন্দিরের অংশও সরানো হয়েছে।#Ujjain #ShahiMosque #India #MadhyaPradesh #MeehaNews

ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে সড়ক প্রশস্ত করতে গিয়ে আংশিক ভাঙা শাহি মসজিদ মেরামতে নেমেছেন স্থানীয় মুসলমানেরা। ভাঙার কাজ চলার সময় মসজিদটির মিনার ধসে পড়ে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা গতকাল শুক্রবার মসজিদটি রক্ষার এই চেষ্টা নিয়ে একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাদের হিসাবে মসজিদটির বয়স প্রায় ৬০০ বছর।
মসজিদটির অবস্থান উজ্জয়িনীর ছত্রি চক এলাকায়, মহাকালেশ্বর মন্দিরের প্রায় বিপরীতে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলা সামনে রেখে পুণ্যার্থীদের চলাচল সামলাতে প্রশাসন সড়কটি প্রশস্ত করছে। প্রতি ১২ বছর পরপর শিপ্রা নদীর তীরে এই হিন্দু ধর্মীয় সমাবেশ হয়। গত ১৪ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উজ্জয়িনী পৌর করপোরেশন মসজিদ কর্তৃপক্ষকে কয়েক দফা নোটিশ দেয়।
মসজিদ কমিটি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে গেলেও ৯ সেপ্টেম্বর বিচারপতি সন্দীপ এন ভাট তাদের আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের পদক্ষেপ স্বেচ্ছাচারী বা বৈষম্যমূলক নয়, আর মসজিদটিকে আলাদা করে লক্ষ্যবস্তুও করা হয়নি। ২৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চও আপিল খারিজ করেন।
আল-জাজিরার ৩০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশাসনের চাপে ২৮ সেপ্টেম্বর মুসলমানেরা নিজেরাই হাতুড়ি দিয়ে মসজিদের পাশের একটি চাতাল ভাঙেন। পরদিন কর্তৃপক্ষ মিনারের একাংশ সরিয়ে নেয়। আলোচনার পর ভাঙার পরিমাণ সড়ক থেকে সাত ফুটের বেশি থেকে কমিয়ে তিন ফুটে নামানো হয়েছিল। আল-জাজিরা জানিয়েছে, মিনার ধসে পড়ার ঘটনাকে কর্মকর্তারা “ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্রের কারণে দুর্ঘটনা” বলেছেন।
এর আগে গুজবকে কেন্দ্র করে মসজিদের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হলে সংঘর্ষ বাধে। দ্য প্রিন্টের তথ্যমতে, বিক্ষোভকারীরা পাথর ছোড়েন, আর পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে ও লাঠিপেটা করে। আল-জাজিরা জানিয়েছে, অন্তত এক ডজন মানুষ আহত হন।
মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ ইব্রাহিমের দাবি, স্থাপনাটি ১৩৯০ সালের। তবে মসজিদটির বয়স নিয়ে ভিন্নমত আছে, আর আদালত এ বিষয়ে কোনো রায় দেননি। জামায়াতে ইসলামী হিন্দের সভাপতি সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হোসাইনি আল-জাজিরাকে বলেন, আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করে উপাসনালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।
প্রশাসনের ভাষ্য, শুধু মসজিদ নয়, একই সড়কে ১০টি মন্দিরের অংশও সরানো হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শিক সংগঠন আরএসএসের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত অর্গানাইজারের দাবি, শহরজুড়ে প্রায় ৮০টি ধর্মীয় স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, একই প্রকল্পের আওতায় মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবও উজ্জয়িনীতে নিজের পৈতৃক বাড়ির একাংশ ভাঙা শুরু করেছেন।





