আঁতাতের প্রমাণ দিন, প্রধানমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ
আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ নাকচ করেছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। কোথায়, কবে, কীভাবে আঁতাত হলো, তা খোলাসা করতে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি। আওয়ামী লীগকে ক্ষমা করার কথা তিনি কোথাও বলেছেন, এমন প্রমাণ কেউ দিতে পারলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে "দুই পক্ষ এক হয়েছে" বলেছিলেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি কোনো দলের নাম নেননি। প্রধানমন্ত্রী বা বিএনপির প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।#JamaatEIslami #ShafiqurRahman #BangladeshPolitics #AwamiLeague #MeehaNews

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের ‘আঁতাত’-এর অভিযোগ নাকচ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। এ অভিযোগ প্রমাণ করতে প্রধানমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন তিনি। কোথায়, কবে, কার সঙ্গে, কীভাবে আঁতাত হয়েছে, তা খোলাসা করতে বলেছেন।
আজ শনিবার মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিরোধী দলের প্রতি এভাবে ইঙ্গিত না করে উনি খোলাসা করে বলুন।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হয়ে তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এভাবে ঢালাও কথা বলা অন্যায়।’
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী শহরের মাদ্রাসা মাঠে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিক অসন্তোষ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।’ একই বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এই দুই পক্ষ এক হয়েছে।’ প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সেদিন কোনো দলের নাম নেননি। তবে তাঁর বক্তব্যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত ছিল।
জামায়াত আওয়ামী লীগকে ‘ক্ষমা করে দিয়েছে’, এমন প্রচারকেও মিথ্যা ও রাজনৈতিক অপপ্রচার বলেছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, কোনো ফোরামে তিনি এমন কথা বলেননি। কেউ প্রমাণ দিতে পারলে জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন।
গত ১২ আগস্টের এক সংবাদ সম্মেলনের প্রসঙ্গও টানেন জামায়াত আমির। তাঁর ভাষ্য, সেদিন তিনি বলেছিলেন জামায়াত ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নেবে না। তবে ভুক্তভোগী বা তাঁদের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে দল পূর্ণ সমর্থন দেবে। তাঁর অভিযোগ, একটি টেলিভিশন চ্যানেল ফটোকার্ড বানিয়ে ওই বক্তব্য বিকৃত করে ছড়িয়েছে। তবে চ্যানেলটির নাম তিনি বলেননি। শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমার ওই ২২ মিনিটের গোটা বক্তব্যে একবারের জন্যও “আওয়ামী লীগ” শব্দটি উচ্চারণ করিনি।’
কোনো দলের নাম না করে তিনি অভিযোগ করেন, ‘ডিও লেটার’ (ডিমান্ড অফিশিয়াল লেটার) দিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের পদ-পদবি ও পুনর্বাসনের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ দায় চাপানো হচ্ছে জামায়াতের ঘাড়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রবাদ টানেন, ‘ঠাকুরঘরে কে রে, আমি কলা খাই না।’
সীমান্ত প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কোনো সরকারের আমলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র, টাকা বা মাদক ঢুকলে সেই ব্যর্থতা সরকারেরই। এ ব্যর্থতার দায়ে কার পদত্যাগ চেয়েছেন, তা নিয়ে দুই পত্রিকার প্রতিবেদনে ভিন্নতা আছে। আমার দেশ লিখেছে, তিনি “সংশ্লিষ্টদের” পদত্যাগের কথা বলেছেন। সময়ের কণ্ঠস্বর লিখেছে, তিনি সরাসরি সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছেন।
আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মতবিনিময়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সরকারের ভুলের দায় বিরোধী দল নেবে কেন?’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজে আরও মনোযোগী হওয়া উচিত।’
শফিকুর রহমানের এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী, সরকার বা বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।





