সবকিছু ছিল, শুধু সুখটা ছিল না
এম এইচ খোকনের ‘লজ্জা’ সিনেমায় পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করছেন নুসরাত ফারিয়া। চরিত্রের জন্য তিনি ওজন কমিয়েছেন, আর সিনেমার আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন আজমেরী হক বাঁধন। শুটিং শেষ হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফারিয়া বলেছেন, বিয়েতে বয়সের চেয়ে পরিপক্বতা বেশি জরুরি, আর সুখ টাকার অঙ্কে মাপা যায় না। #নুসরাতফারিয়া #লজ্জা #আজমেরীহকবাঁধন #ঢালিউড #বাংলাসিনেমা #MeehaNews

ক্যামেরার সামনে এবার তিনি উর্দি পরা এক পুলিশ কর্মকর্তা। গ্ল্যামারের চেনা রং খানিকটা ধুয়ে, শরীরের ওজন ঝরিয়ে নুসরাত ফারিয়া ঢুকে পড়েছেন অপরাধের গল্পে। এম এইচ খোকনের ‘লজ্জা’ সিনেমায় আরেক কেন্দ্রীয় চরিত্রে আছেন আজমেরী হক বাঁধন। সিনেমাটির শুটিং এগিয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে নতুন কাজের খবরের পাশাপাশি বিয়ে, বিচ্ছেদ আর সুখ নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন এই চিত্রনায়িকা।
সাক্ষাৎকারে ফারিয়া জানান, ‘লজ্জা’র শুটিং ৬০ শতাংশ শেষ হয়েছে, বাকি আরও ৪০ শতাংশ। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার যৌথ প্রযোজনার সিনেমাটির গল্প লিখেছেন জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজ। দ্য ডেইলি স্টার বাংলার তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে চ্যানেল আই কার্যালয়ে সিনেমাটির চুক্তি সই হয়, শুটিং শুরুর কথা ছিল ২০ সেপ্টেম্বর। মুক্তির তারিখ এখনো জানানো হয়নি।
গল্পটি ফারিয়ার কাছে এসেছিল এক বছর আগে, ‘কন্যা’ গানের শুটিংয়ের ফাঁকে। তখনই পরিচালক এম এইচ খোকন তাঁকে ‘লজ্জা’র গল্প শোনান। ফারিয়ার ভাষায়, “আমাদের দেশে এ ধরনের অপরাধনির্ভর গল্পে কাজ খুব একটা হয় না।” পুলিশের পোশাক অবশ্য তাঁর গায়ে নতুন নয়। ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’ সিনেমাতেও তিনি পুলিশ কর্মকর্তা হয়েছিলেন, তবে সেটি ছিল গ্ল্যামারনির্ভর বাণিজ্যিক চরিত্র। তাঁর মতে, এবারের চরিত্রের সঙ্গে সেটির “আকাশ-পাতাল পার্থক্য”। সে কারণেই চরিত্রের প্রয়োজনে অনেকটা ওজন কমিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমার কাছে চরিত্রের বিশ্বাসযোগ্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।” সহশিল্পী সম্পর্কে বলেছেন, “বাঁধন আপু খুব ভালো অভিনয় করেন।”
‘লজ্জা’র বাইরেও ফারিয়ার হাতে কাজ আছে। মেহেদী হাসানের ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’র শুটিং শেষ, তবে পরিচালক আরও একটি গান যোগ করার কথা ভাবছেন। অনম বিশ্বাসের পরিচালনায় তাঁর একটি সিনেমা ডিসেম্বরে মুক্তির কথা রয়েছে। কলকাতার কাজ আপাতত থেমে আছে, যদিও সেখানকার প্রযোজকদের সঙ্গে প্রতিবছর একটি করে গানের কাজ হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। নতুন বছর নিয়ে তাঁর লক্ষ্য স্পষ্ট: “২০২৬ সালে এমন কাজ করতে চাই, যা এই সময়ের দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে।”
অভিনয়ে ফারিয়ার পথচলা ১১ বছরের। কাজ শুরু করেছিলেন ১৭–১৮ বছর বয়সে, এ বছর পূর্ণ করেছেন ৩১। কৈশোর থেকে তারুণ্য, জীবনের সবচেয়ে রঙিন বছরগুলো কেটেছে ক্যামেরার আলোয়। তাই সাফল্যের পেছনে দেওয়া সময়টাকেই তিনি সবচেয়ে বড় ত্যাগ বলে মনে করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গে তাঁর অনুরোধ, মন্তব্য করার আগে সবার আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
বিয়ে প্রসঙ্গে ফারিয়ার যুক্তি, “বয়সের চেয়ে ম্যাচিউরিটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই।” সম্পর্কে সবচেয়ে জরুরি কী, এমন প্রশ্নে তাঁর উত্তর বন্ধুত্ব। কবে বিয়ে করবেন, তা নির্ভর করছে মনের প্রস্তুতির ওপর: “আশা করছি, এই মানসিক প্রস্তুতি শিগগিরই চলে আসবে, তখন বিয়ে করব।” বিচ্ছেদ নিয়েও তাঁর অবস্থান স্পষ্ট। দুজন মানুষ একসঙ্গে সুখী না হলে শুধু লোকের কথার ভয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাকে তিনি বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেন না। মানুষ এখন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলছেন, পরামর্শ নিচ্ছেন, আর ফারিয়া এটিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন। তবে সম্পর্ক যখন আর জোড়া লাগে না, তখন তাঁর মতে “তিক্ততা বাড়ার আগেই সম্মানের সঙ্গে সরে আসা ভালো।” হাসতে হাসতে জানিয়েছেন, বন্ধুরা নাকি বলেন, তিনি সব সমস্যার সমাধান দিতে পারেন।
পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখেন, এই প্রশ্নে একাধিক সম্ভাবনার কথা বলেছেন ফারিয়া। হয়তো আইন পেশায় থাকবেন, নয়তো সংসার ও সন্তান নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন, আবার দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবেও ঘুরে বেড়াতে পারেন। পথ যেটাই হোক, সুখের মাপকাঠি তিনি আগেই ঠিক করে রেখেছেন। ব্যাংকের টাকা, দামি গাড়ি বা ফ্ল্যাট দিয়ে তিনি সুখ মাপেন না। কারণটাও লুকাননি: “জীবনে এমন সময় গেছে, যখন সবকিছু ছিল, শুধু সুখটা ছিল না।”





