মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬৬ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

শিল্পবর্জ্যে কালো পানি, মাছ নেই: মরা খাল হবিগঞ্জের সুতাং

ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ সুতাং নদী নাব্যতা হারিয়ে এখন অনেকটাই মরা খাল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জের কারখানার বর্জ্যে নদীর পানি কালো ও বিষাক্ত হয়ে গেছে। হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা নদীর পানি ও মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিক পেয়েছেন। গবেষণায় প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ৭টি কণা মিলেছে। একসময় নদীর পানিতে প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হতো। এখন কৃষকেরা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করায় চাষের খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#Habiganj #SutangRiver #RiverPollution #Environment #MeehaNews

শিল্পবর্জ্যে কালো হয়ে যাওয়া হবিগঞ্জের সুতাং নদীর পানি
শিল্পবর্জ্যে কালো হয়ে গেছে সুতাং নদীর পানি। হবিগঞ্জছবি: আমার দেশ

নাব্যতা হারিয়ে হবিগঞ্জের সুতাং নদী এখন অনেকটাই মরা খাল। যেটুকু পানি আছে, তা-ও কারখানার বর্জ্যে কালো ও বিষাক্ত হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। নদীতে মাছ ও জলজ প্রাণী প্রায় নেই। কাজ হারিয়েছেন কয়েক হাজার জেলে। সেচের পানি না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

ভারতের ত্রিপুরার পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে সুতাং নদী চুনারুঘাট উপজেলা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে। এরপর শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার সুতাং বাজার ও লাখাই উপজেলার মাদনা এলাকা পেরিয়ে কিশোরগঞ্জে গিয়ে মেঘনার শাখা কালনী নদীতে মিশেছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ৮২ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ৩৬ মিটার। উজানের ঢল, পাহাড়ি পানি ও ভারী বৃষ্টিতে আসা পলিতে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর এলাকার শিল্পকারখানার বর্জ্য ভূগর্ভস্থ পাইপের মাধ্যমে শৈলজুড়া খালে ফেলা হয়, আর সেখান থেকে তা নামে সুতাংয়ে। তাঁদের দাবি, এর মধ্যে প্রাণ-আরএফএল ও স্কয়ার গ্রুপের কারখানার বর্জ্যই সবচেয়ে বেশি। অনেক কারখানায় বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নেই। কোনোটিতে থাকলেও খরচ বাঁচাতে তা বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একসময় নদীর পানিতে লাখাই ও সদর উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হতো। সদরের রাজিউড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখন ভূগর্ভস্থ পানি দিয়ে চাষ করতে হওয়ায় খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, অনেকে বোরো চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। লাখাইয়ের করাব গ্রামের কৃষক চালেক মিয়ার ভাষ্য, আগে বন্যার পানি জমির উর্বরতা বাড়াত, এখন দূষিত পানি জমির ক্ষতি করছে। সাধুর বাজারের ব্যবসায়ী মহসিন আহমেদ জানান, দূষিত পানিতে ধানের চারা মরে যায়, নদীতে নামা গরু-ছাগল ও হাঁস অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এলাকায় চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয় লোকজনের।

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক নদীর পানি, মাছ ও পলির নমুনা পরীক্ষা করে পানি ও মাছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন। শৈলজুড়া খালের মোহনার কাছে কোনো মাছ বা জলজ প্রাণীর দেখা মেলেনি। গবেষক দলের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াটিক রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক ইফতেখার আহমেদ ফাগুন বলেন, নদীর ভাটির অংশ মাছ টিকিয়ে রাখতে পারছে না। বাংলা ট্রিবিউনের খবর অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরে এক সেমিনারে উপস্থাপিত এই গবেষণার ফলাফলে প্রতিটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ৭টি এবং প্রতি লিটার পানিতে ৬ দশমিক ৬৭ থেকে ৪৬ দশমিক ৬টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়।

খোয়াই রিভার ওয়াটারকিপার তোফাজ্জল সোহেল বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সুতাং একসময় শুধু স্মৃতিতে থাকবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর হবিগঞ্জের উপপরিচালক মো. ইউসুফ আলী জানান, বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক জি এম সরফরাজ বলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জি কে গউছের নির্দেশে ঢাকা থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল এলাকা পরিদর্শন করেছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

অনলাইন ডেস্ক

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।