বক্সারে অস্তমিত নবাবি সূর্য

আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬। ২৬২ বছর আগে এই দিনে বিহারের বক্সারে এমন এক যুদ্ধ হয়েছিল, যার পর বাংলার ইতিহাস আর আগের মতো থাকেনি। পলাশীর প্রান্তরে যে পরাধীনতার সূচনা, বক্সারের মাঠে তা পাকা হয়। ভাঙে বাংলা ও বিহারের স্বাধীন নবাবি শাসনের শেষ প্রতিরোধ।
বক্সার: নবাবি আমলের শেষ লড়াই
১৭৬৪ সালের ২২ অক্টোবর গঙ্গার তীরে বক্সারে মুখোমুখি হয় দুই পক্ষ। একদিকে বাংলার ক্ষমতাচ্যুত নবাব মীর কাসিম, অযোধ্যার নবাব সুজাউদ্দৌলা ও মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের সম্মিলিত বাহিনী। অন্যদিকে মেজর হেক্টর মুনরোর নেতৃত্বে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনারা। সংখ্যায় অনেক বেশি হয়েও পরাজিত হয় নবাব ও সম্রাটের জোট।
যুদ্ধের পর মীর কাসিম পালিয়ে যান, আর সম্রাট শাহ আলম কোম্পানির সঙ্গে আপস করেন। ১৭৬৫ সালের এলাহাবাদ চুক্তিতে কোম্পানি পায় বাংলা, বিহার ও ওডিশার দেওয়ানি, অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের অধিকার। নবাবের পদ নামে থাকলেও প্রকৃত ক্ষমতা চলে যায় কোম্পানির হাতে। ১৭৭২ সালে কোম্পানি বাংলা-বিহারের শাসনভার সরাসরি নিজের হাতে নেয়। ইতিহাসবিদেরা তাই পলাশীকে পরাধীনতার শুরু আর বক্সারকে কোম্পানির রাজত্বের ভিত্তি বলে মনে করেন।
আরও যা ঘটেছিল
১৯৫৫: ২১ থেকে ২৩ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী মুসলিম লীগের তৃতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে দলের নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে দলটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির পথে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে।
১৯৬২: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি টেলিভিশন ভাষণে কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কথা জানান এবং কিউবার চারপাশে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়েই কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট প্রকাশ্যে আসে।
জন্ম
১৮১১: হাঙ্গেরীয় সুরকার ও পিয়ানোবাদক ফ্রাঞ্জ লিস্ট। রোমান্টিক যুগের অন্যতম প্রভাবশালী এই সংগীতজ্ঞের বিখ্যাত সৃষ্টির মধ্যে আছে “হাঙ্গেরিয়ান র্যাপসোডি”।
১৯৫২: মার্কিন অভিনেতা জেফ গোল্ডব্লাম। “জুরাসিক পার্ক” ও “দ্য ফ্লাই” ছবির জন্য তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
মৃত্যু
১৯৫৪: কবি জীবনানন্দ দাশ। ১৪ অক্টোবর কলকাতায় ট্রামের ধাক্কায় আহত হওয়ার আট দিন পর হাসপাতালে মারা যান তিনি। ১৮৯৯ সালে বরিশালে জন্ম নেওয়া এই কবি “রূপসী বাংলা” ও “বনলতা সেন”-এর মতো কাব্যগ্রন্থে বাংলার প্রকৃতি আর মানুষের নিঃসঙ্গতাকে দিয়েছেন অনন্য রূপ। লিখেছিলেন, “আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—এই বাংলায়”।
১৯৬৪: পাকিস্তানের দ্বিতীয় গভর্নর জেনারেল ও দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন। এর আগে তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। ঢাকার তিন নেতার মাজারে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

