মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

প্রথম আলোর দুই ‘স্যরি’: কৌতুক, ব্যাজোক্তি আর আসল ক্ষমা চাওয়ার পার্থক্য

১ নভেম্বর প্রথম আলোর রম্য ক্রোড়পত্র রস+আলোয় ‘স্যরি!’ নামে একটি কৌতুক-লেখা বেরোয়। ৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদক মতিউর রহমানের ‘স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’ লেখাটি আসে। সম্পাদকের লেখায় চার দফা ব্যাজোক্তির স্যরি আছে। এর পাশে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ‘আন্তরিক স্যরি’ও আছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো ভুলের উল্লেখ নেই। ঢাকা টাইমস ২৪ লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করেছে। অন্য গণমাধ্যম বা সেলিব্রিটির আলাদা ‘স্যরি’ পোস্টের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ মেলেনি। ২০১৬ সালের একটি গবেষণায় দায় স্বীকারকে ক্ষমা চাওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপাদান বলা হয়েছে।#ProthomAlo #Sorry #Journalism #Apology #MeehaNews

প্রথম আলোর দুই ‘স্যরি’: কৌতুক, ব্যাজোক্তি আর আসল ক্ষমা চাওয়ার পার্থক্য
ছবিঃ এ.আই সম্পাদিত

১ নভেম্বর (রোববার) ভোর চারটায় প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ‘স্যরি!’ নামে একটি লেখা ওঠে। রম্য ক্রোড়পত্র রস+আলোর এ লেখায় আহমেদ ইশতিয়াক জানান, আইডিয়ার সংকটে এ সংখ্যায় কভার দেওয়া যায়নি, তাই পাঠকের কাছে স্যরি। বিকল্প হিসেবে পাঠকদের বলা হয়েছে নিজের মতো কভার এঁকে রস+আলোর পাতা ট্যাগ করে ফেসবুকে পোস্ট করতে। সেরা তিনটি ছাপা হবে পরের সংখ্যায়, সঙ্গে ৫০০ টাকার পুরস্কার। লেখাটি আগাগোড়া কৌতুক।

তিন দিন পর, ৪ নভেম্বর, প্রথম আলোর ২৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সম্পাদক মতিউর রহমানের লেখায় একই শব্দ ফিরে আসে: ‘স্যরি, সবাইকে খুশি করতে পারিনি’। তিনি চারবার স্যরি বলেন, প্রতিবারই বন্ধনীতে উল্টো কথা। সবাইকে খুশি করা প্রথম আলোর কাজ নয়। ভিন্নমতই সমাজের চালিকা শক্তি। অনিয়মে চুপ না থাকাই সংবাদমাধ্যমের কাজ। আঘাতেও থেমে না থাকা কোনো অপরাধ নয়। এই অংশকে তিনি নিজেই ‘ব্যাজোক্তি’ (প্রশংসার ছলে নিন্দা, বা দোষের ছলে গর্ব) বলেছেন। এরপর ‘একটু সিরিয়াস স্যরি’: ২৮ বছরে ভুল হলে উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ ও সংশোধন করা হয়েছে, তবু অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আন্তরিক স্যরি। তাঁর শেষ কথা, অন্যায়ের কাছে কোনো দুঃখপ্রকাশ নয়। লেখায় তিনি দাবি করেন, প্রায় সব সরকারের আমলেই প্রথম আলো ক্ষমতাসীনদের বিরাগভাজন হয়েছে এবং গত বছর ১৮ ডিসেম্বর রাতে কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। এগুলো প্রথম আলোর নিজের বক্তব্য, এখানে স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা হয়নি।

লেখাটি কতটা ছড়িয়েছে, সে প্রশ্নে উত্তর পাতলা। ঢাকা টাইমস ২৪ একই দিন পুরো লেখা পুনঃপ্রকাশ করেছে। প্রথম আলো নিজে ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করেছে এবং ‘সময়ের চালচিত্র’ ক্রোড়পত্র ছেপেছে, ৬, ৮ ও ১০ নভেম্বর আরও তিনটি আসছে। অন্য কোনো গণমাধ্যম বা সেলিব্রিটি এই শব্দবন্ধ নিয়ে আলাদা কিছু পোস্ট করেছেন, এমন নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এ অনুসন্ধানে মেলেনি।

শব্দটির ইতিহাস অবশ্য পুরোনো। ইংরেজি ‘sorry’ এসেছে প্রাচীন ইংরেজি ‘sārig’ থেকে, যার অর্থ ব্যথায় কাতর। এর মূলে ‘sār’ (ক্ষত), অর্থাৎ ‘sore’-এর সঙ্গে সম্পর্ক, আপাতদৃষ্টিতে মিলে যাওয়া ‘sorrow’ (দুঃখ)-এর সঙ্গে নয়। ক্ষমা চাওয়ার অর্থে ‘I’m sorry’-এর সংক্ষেপ হিসেবে শব্দটি ১৮৩৪ সালের কাছাকাছি সময়ে দেখা যায় বলে ইটিমনলাইন জানায়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষমা চাওয়ার ধারণার শুরু ঈশ্বরের কাছে অনুতাপ ও স্বীকারোক্তিতে, পরে তা মানুষের কাছে ক্ষমার আবেদনে পরিণত হয়।

প্রাতিষ্ঠানিক স্যরি আরও কঠিন। অস্ট্রেলিয়ায় ‘ব্রিংিং দেম হোম’ (Bringing Them Home) প্রতিবেদন সংসদে পেশ হয় ১৯৯৭ সালের ২৬ মে। এক বছর পর, ১৯৯৮ সালের ২৬ মে প্রথম ‘জাতীয় স্যরি দিবস’ (National Sorry Day) পালিত হয়। আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চান প্রধানমন্ত্রী কেভিন রাড ২০০৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি। এসবিএসের ‘এনআইটিভি’ লিখেছে, ওই ক্ষমা প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোর একটি অংশমাত্র ছিল।

কখন স্যরি বলা উচিত, তার একটি গবেষণা আছে। ২০১৬ সালে রয় লুইকি, বেথ পোলিন ও রবার্ট লাউন্ট ৭৫৫ জনকে নিয়ে দুটি পরীক্ষা চালান। তাতে ক্ষমা চাওয়ার ছয় উপাদান: অনুশোচনার প্রকাশ, কী ঘটেছিল তার ব্যাখ্যা, দায় স্বীকার, ভবিষ্যতে না করার অঙ্গীকার, ক্ষতি মেরামতের প্রস্তাব ও ক্ষমা চাওয়ার অনুরোধ। এর মধ্যে সবচেয়ে কার্যকর দায় স্বীকার, তারপর মেরামতের প্রস্তাব; ক্ষমার অনুরোধ সবচেয়ে কম। অংশগ্রহণকারীরা কাল্পনিক পরিস্থিতির লিখিত ক্ষমা মূল্যায়ন করেছেন। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মার্কিন সোসাইটি অব প্রফেশনাল জার্নালিস্টসের নীতিমালা বলে, ভুল স্বীকার করে দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে সংশোধন করতে হবে, সংশোধনের কারণও পরিষ্কার জানাতে হবে।

এই মানদণ্ডে সম্পাদকের চার দফা স্যরি ক্ষমা নয়, অবস্থানের ঘোষণা। তাতে দায় স্বীকার বা মেরামতের প্রস্তাব নেই, থাকার কথাও নয়। ‘সিরিয়াস স্যরি’-তে দায়ের স্বীকার আছে, কিন্তু কোন ভুল, কবে, কীভাবে শোধরানো হয়েছে, তার উল্লেখ নেই। সে জায়গা সংশোধনের পাতা। প্রথম আলোর সংশোধনের কোনো তালিকা অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি। সত্য বলার জন্য স্যরি না বলার যুক্তি ঠিক, তবে তা তখনই দাঁড়ায় যখন সত্যটা যাচাইকৃত। তাই ব্যাজোক্তি পাঠকের হাততালি পেতে পারে, কিন্তু আস্থা জমে ঠিক ভুলের তালিকা প্রকাশে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

আবু আনান

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।