ঝিনাইদহে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা, জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
ঝিনাইদহের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ২৯ অক্টোবর সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডু ও তাঁর সহযোগীকে প্রথম মামলায় একদিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। পুলিশ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিল। একই দিন তাঁদের বিরুদ্ধে ১০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির আরেকটি মামলার তথ্য এসেছে। প্রথম মামলাটি ৫০ হাজার টাকার, বাদী একটি কলেজের অধ্যক্ষ। অরিত্রকে কনডেম সেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জেল সুপার বলেছেন, নিরাপত্তার কারণে রাখা হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা ও অরিত্রর বাবা মামলা সাজানোর অভিযোগ করেছেন।#Jhenaidah #Journalist #PressFreedom #MeehaNews

ঝিনাইদহে সাংবাদিক অরিত্র কুণ্ডু ও তাঁর সহযোগীর বিরুদ্ধে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে। ১০ হাজার টাকার এ মামলায় স্থানীয় যুবদল নেতা মো. রোকনুজ্জামানের নাম যুক্ত আছে বলে কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বাদী কে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। এর আগে একটি কলেজের অধ্যক্ষ তাঁদের বিরুদ্ধে ৫০ হাজার টাকা চাঁদাবাজির মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক গোলাম নবী প্রথম মামলায় দুজনকে এক দিন জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। আইনজীবী আব্দুল মান্নান এ তথ্য জানিয়েছেন। আদালত সূত্র বলছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম বিল্লাহ পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন। আসামিপক্ষ রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশে অরিত্রর জব্দ করা মোবাইল ফোনের পাসওয়ার্ড থানা পুলিশকে দেওয়া হয়েছে।
কালবেলার আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি অরিত্র কুমার কুণ্ডু ও বাংলা-৭১-এর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান রুবেল সরকারি কলেজের অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন।
আইনজীবী আব্দুল মান্নান কালবেলাকে বলেন, সাংবাদিকদের ফাঁসাতে পুলিশ একেক জনকে দিয়ে মামলা বাড়াচ্ছে, পুলিশ নিরপেক্ষ নয়।
অরিত্রকে কারাগারে কনডেম সেলে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ফোন করা হলে ঝিনাইদহের জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থেই তাঁকে সেখানে রাখা হয়েছে। বন্দিদের সঙ্গে রাখলে ক্ষতি হতে পারে বলে তাঁকে আলাদা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য কোনো কারণ নেই।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর অরিত্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনাকে ‘বাড়াবাড়ি’ বলেছেন। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে মুখ খুলতে ঝিনাইদহের সাংবাদিকদের প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের নেতারা নিষেধ করছেন। তিনি আরও জানান, অরিত্রের বিরুদ্ধে আরও কঠিন মামলা তৈরি করা হচ্ছে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বাড়াবাড়ি চলতে থাকলে সাংবাদিকেরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন বলেও তিনি সতর্ক করেন।
অরিত্রর বাবার অভিযোগ, স্থানীয় ডিবি পুলিশের মাদক-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সংবাদ করায় তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।





