মূল কনটেন্টে যান
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

জেন-জির বিদ্রোহ: সরকার পড়ে, কিন্তু ব্যবস্থা বদলায় কি?

নাগরিক সমাজের বৈশ্বিক জোট সিভিকাসের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্তত ১৫টি দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে বুলগেরিয়া, মাদাগাস্কার ও নেপালে সরকার পদত্যাগ করেছে। ভারতে প্রধান বিচারপতির "তেলাপোকা" মন্তব্য আর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার অনিয়ম ঘিরে তরুণদের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। ফ্রান্সে স্কুলের দুরবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভে ১৭ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের হিসাবে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। যুক্তরাষ্ট্রে "নো কিংস" কর্মসূচিতে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ অংশ নেন বলে আয়োজকদের দাবি। সরকার পতনের পর পথ এক রকম হয়নি: মাদাগাস্কারে সেনাবাহিনী ক্ষমতা নিয়েছে। নেপালে নতুন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, আর বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের দল পেয়েছে অল্প কয়েকটি আসন। #GenZProtests #YouthUprising #NoKings #Democracy #MeehaNews

কাঠমান্ডুতে জেন-জি আন্দোলনে তরুণ বিক্ষোভকারীদের মিছিল
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাঠমান্ডুতে তরুণদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নেপাল সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার পর কাঠমান্ডুর রাস্তায় তরুণদের যে ঢল নামে, তার আসল লক্ষ্য ছিল দুর্নীতি আর বৈষম্য। কানাডার দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইলের বার্ষিক পর্যালোচনা অনুযায়ী, সেই বিক্ষোভে ৭০ জনের বেশি নিহত হন এবং প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি পদত্যাগ করেন। এরপর আন্দোলনকারীরা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে (Discord) ভোট দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেন সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে। ছয় মাস পর, ২০২৬ সালের ৫ মার্চের নির্বাচনে নতুন দল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি ২৭৫ আসনের মধ্যে ১৮২টি পায়, প্রধানমন্ত্রী হন বালেন শাহ।

নেপাল ছিল একটি বড় ঢেউয়ের অংশ। হার্ভার্ডের গবেষক এরিকা চেনোয়েথ ও ম্যাথিউ সেবুল জার্নাল অব ডেমোক্রেসির জানুয়ারি ২০২৬ সংখ্যায় এই তরুণ বিদ্রোহের মানচিত্রে রেখেছেন ২০২৪ সালে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতন, তারপর নেপাল, মাদাগাস্কার, পেরু, কেনিয়া, মরক্কো, তানজানিয়া, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া আর ফিলিপাইন। নাগরিক সমাজের বৈশ্বিক জোট সিভিকাসের (CIVICUS) ২০২৬ সালের প্রতিবেদনে অন্তত ১৫টি দেশে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের হিসাব আছে, যার মধ্যে বুলগেরিয়া, মাদাগাস্কার ও নেপালে সরকার পদত্যাগ করেছে। ২০২৬ সালে সেই ঢেউ পৌঁছেছে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্র ভারত, ইউরোপের ফ্রান্স আর যুক্তরাষ্ট্রেও, যদিও প্রতিটি দেশে তার রূপ আলাদা।

ভারতে প্রথম রক্তাক্ত সংকেত এসেছিল লাদাখ থেকে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজ্যের মর্যাদা, কর্মসংস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণের দাবিতে লেহে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত হন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, পুলিশ “আত্মরক্ষায়” গুলি চালিয়েছে, আর সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দায়ী করেছে। ওয়াংচুক অভিযোগ অস্বীকার করে শান্তি ও আলোচনার আহ্বান জানান। এরপর তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদেশি অনুদান আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয় এবং তাঁর সংগঠনের বিদেশি অনুদানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ওয়াংচুকের দাবি, এসব পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০২৬ সালে ভারতে আন্দোলন ছড়ায় দেশজুড়ে। উইকিপিডিয়ার সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার তরুণ ও সামাজিক মাধ্যমকর্মীকে “তেলাপোকা” বলে মন্তব্য করেন। পরে তিনি জানান, তিনি ভুয়া সনদধারীদের কথা বুঝিয়েছিলেন। পরদিন রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপকে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন “ককরোচ জনতা পার্টি” চালু করেন। জুন থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের (NEET) অনিয়ম নিয়ে বিক্ষোভ চলে। ব্রিটানিকার বিশ্লেষণে একে গত ১৫ বছরে ভারতের সবচেয়ে বড় জেন-জি আন্দোলন বলা হয়েছে, যার পরিণতিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ করেন। চলতি অক্টোবরেও দিল্লিতে বিক্ষোভ হয়েছে।

ফ্রান্সে ক্ষোভের কেন্দ্রে স্কুল আর জীবনযাত্রার ব্যয়। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে “ব্লোকোঁ তু” বা “সব অচল করো” আন্দোলনে দেশ কার্যত থমকে গিয়েছিল। এ বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপকণ্ঠ ক্রেতেইয়ের একটি স্কুলে বিক্ষোভ শুরু হয় জরাজীর্ণ ভবন, উপচে পড়া শ্রেণিকক্ষ আর শিক্ষকসংকটের প্রতিবাদে। তা দ্রুত দেশজুড়ে ছড়ায়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর কর্তৃপক্ষের হিসাবে সারা দেশে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন, শুধু প্যারিসেই ১ লাখ ১০ হাজার। আয়োজকেরা সংখ্যাটি ৮ লাখ বলে দাবি করেছেন। সেদিন অন্তত ৪০০ জন গ্রেপ্তার হন, আর ২০১৮ সালের হলুদ জ্যাকেট আন্দোলনের কর্মীরাও যোগ দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহিংসতার জন্য “অতি-বামদের” দায়ী করেছে। টাইম সাময়িকীতে নিকোলাস বেকেলাঁর এক মতামত নিবন্ধের হিসাবে, আন্দোলনের প্রথম কয়েক সপ্তাহেই ৬ হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন। তাঁদের বেশির ভাগ অপ্রাপ্তবয়স্ক, এবং অভিযোগ ছাড়াই ছাড়া পান। আহত হন দুই শতাধিক শিক্ষার্থী ও প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্য। বেকেলাঁ মনে করিয়ে দিয়েছেন, ম্যাক্রোঁর আমলে দুই বছরে পাঁচজন প্রধানমন্ত্রী বদলেছে, আর সরকারি ঋণ মোট দেশজ উৎপাদনের ১১৯.৩ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রে চিত্রটা আরেক রকম: সেখানে আন্দোলন বিপুল, কিন্তু মূলত অহিংস। “নো কিংস” কর্মসূচির আয়োজকদের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ৫০ লাখ, অক্টোবরে প্রায় ৭০ লাখ এবং ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ ৩ হাজার ৩০০-এর বেশি স্থানে ৮০ থেকে ৯০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। স্বাধীন কোনো জাতীয় হিসাব এই অঙ্ক নিশ্চিত করেনি। অন্তত একটি বড় শহরে পুলিশের হিসাব ছিল আয়োজকদের দাবির অর্ধেক। ক্ষোভের বিষয়গুলো হলো ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অভিবাসন সংস্থা আইসিইর অভিযান ও সেই অভিযানে কয়েকজন নিহত হওয়ার ঘটনা, ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক রীতি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা। আয়োজকেরা জনসংখ্যার সাড়ে ৩ শতাংশকে রাস্তায় নামানোর লক্ষ্য ঠিক করেছিলেন, যা চেনোয়েথের গবেষণা থেকে আসা একটি বহুল আলোচিত মাপকাঠি। একটি অযাচাইকৃত হিসাবে অংশগ্রহণ ছিল প্রায় ২.৩ শতাংশ। মার্চের কর্মসূচিতে সারা দেশে ১০৫ জন গ্রেপ্তার হন। হোয়াইট হাউস বিক্ষোভকে গুরুত্ব দেয়নি।

ভারত, ফ্রান্স বা যুক্তরাষ্ট্রের বিক্ষোভের সঙ্গে বাকি দেশগুলোর মিল একটি জায়গায়: প্রায় প্রতিটির সূত্রপাত নির্দিষ্ট ও স্থানীয় কোনো অপমান থেকে। ইন্দোনেশিয়ায় সংসদ সদস্যদের আবাসন ভাতা জাকার্তার ন্যূনতম মজুরির ১০ গুণ। পুলিশের গাড়িচাপায় ডেলিভারিকর্মী আফফান কুর্নিয়াওয়ানের মৃত্যু সেই ক্ষোভে আগুন দেয়। সার্বিয়ায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর পর থেকে তরুণদের বিক্ষোভ চলছে। মাদাগাস্কারে সূত্রপাত পানি ও বিদ্যুতের সংকট থেকে, পেরুতে বাধ্যতামূলক পেনশন আইন থেকে। মরক্কোয় প্রশ্ন ওঠে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামে বিপুল ব্যয় নিয়ে, অথচ সিভিকাসের হিসাবে একটি হাসপাতালে তিন সপ্তাহে আটজন প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। চেনোয়েথ ও সেবুল দুর্নীতিকে বলেছেন এসব আন্দোলনের “আসল স্লোগান”। এর নিচে আছে বেকারত্ব: তাঁদের হিসাবে নেপালে তরুণ বেকারত্ব প্রায় ২০ শতাংশ, মরক্কোয় ৩৫ শতাংশ। সিভিকাস জানাচ্ছে, বিশ্বের ৮০টি দেশে মানুষের মধ্যম বয়স ৩০-এর নিচে।

কৌশলেও এক প্রজন্মের ছাপ স্পষ্ট। এই আন্দোলনগুলোর নির্দিষ্ট নেতা নেই, এগুলো সংগঠিত হয় ডিসকর্ডের মতো প্ল্যাটফর্মে, আর প্রতীক হয়ে উঠেছে জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিসের জলদস্যু-পতাকা। রাষ্ট্রও কৌশল বদলেছে। ইন্টারনেট অধিকার সংস্থা অ্যাকসেস নাউয়ের হিসাবে ২০২৫ সালে ৫২টি দেশে অন্তত ৩১৩ বার ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে, যা রেকর্ড। স্টারলিংকের মতো স্যাটেলাইট ইন্টারনেটকে অনেকে সেন্সরশিপের বিকল্প ভাবেন। অথচ একই প্রতিবেদন অনুযায়ী সাতটি দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটও ১৪ বার বন্ধ করা হয়েছে।

দমনের মাত্রা ভয়াবহ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে সম্ভাব্য ১ হাজার ৪০০ জন পর্যন্ত নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তানজানিয়ায় নির্বাচন-পরবর্তী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা জার্নাল অব ডেমোক্রেসির হিসাবে হাজারের বেশি, সিভিকাসের হিসাবে শত শত। কেনিয়ায় ২০২৪ সালের অর্থ বিলবিরোধী বিক্ষোভে কয়েক ডজন মানুষ নিহত হন, ২০২৫ সালে আরও কয়েক ডজন। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অপহরণের অভিযোগও আছে। মাদাগাস্কারে প্রথম কয়েক দিনেই অন্তত ২২ জন নিহত হন বলে জাতিসংঘ জানায়। তবু সিভিকাস দেখিয়েছে, ইন্দোনেশিয়া, মাদাগাস্কার আর নেপালে দমনপীড়ন উল্টো আন্দোলনকে আরও বড় করেছে। চেনোয়েথ ও সেবুলের হিসাবে ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সফল অহিংস আন্দোলনগুলোর ৮০ শতাংশে তরুণদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল। তবে বড় ছবি উল্টো দিকে যাচ্ছে। সেন্টার ফর নন-ভায়োলেন্ট কনফ্লিক্ট রিসার্চের এক বিশ্লেষণে চেনোয়েথের হালনাগাদ গবেষণার বরাতে বলা হয়েছে, গত কয়েক দশকে অহিংস গণআন্দোলনের সাফল্যের হার ৫২ থেকে নেমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আসল পরীক্ষা শুরু হয় সরকার পতনের পরদিন। মাদাগাস্কারে প্রেসিডেন্ট আন্দ্রি রাজোয়েলিনা দেশ ছাড়ার পর একটি অভিজাত সেনা ইউনিট ক্ষমতা নেয়, কর্নেল মাইকেল রান্দ্রিয়ানিরিনা হন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট। পেরুতে প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তেকে সরানোর পর নতুন সরকার নাগরিক অধিকার স্থগিত করেছে, আর আন্দোলনকারীরা উত্তরসূরি হোসে হেরির পদত্যাগও চাইছেন। মরক্কোয় সরকার পড়েনি, কিন্তু ২০২৬ সালের বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বরাদ্দ বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়াও সংসদ সদস্যদের ভাতা কমিয়েছে। অর্থাৎ সরকার না ফেলেও আন্দোলন নীতি বদলাতে পারে। নেপালে নতুন দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে, অথচ সিভিকাসের হিসাবে বাংলাদেশে অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের গড়া দল ২০২৬ সালের নির্বাচনে অল্প কয়েকটি আসন পেয়েছে। ভারতে আন্দোলন একজন মন্ত্রীকে সরিয়েছে এবং ব্রিটানিকার ভাষায় শিক্ষা সংস্কারের আশা জাগিয়েছে, তবে সেই সংস্কার কতদূর এগোল, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এত দেশে প্রায় একই সময়ে বিদ্রোহ দেখে অনেকে পেছনে কোনো পরাশক্তির হাত খোঁজেন। সরকারগুলোও প্রায়ই আন্দোলনকে বাইরের উসকানি বলে আখ্যা দেয়। কিন্তু এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা গবেষণা ও প্রতিবেদনের কোথাও যুক্তরাষ্ট্র, চীন বা রাশিয়ার মতো কোনো একক শক্তির পরিকল্পনায় এসব আন্দোলন সংগঠিত হওয়ার নথিভুক্ত প্রমাণ মেলেনি। প্রতিটির সূত্রপাত স্থানীয়: একটি ভাতা, একটি নিষেধাজ্ঞা, একটি মন্তব্য, একটি জরাজীর্ণ স্কুল। আন্দোলন ছড়িয়েছে প্রতীক ও কৌশল ভাগাভাগির মাধ্যমে। বিদেশি শক্তির প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় পতনের পরে, যখন ঠিক হয় কে নতুন সরকারকে স্বীকৃতি, ঋণ বা নিরাপত্তা দেবে।

চেনোয়েথ ও সেবুলের ভাষায়, সফল আন্দোলন “মুহূর্ত নয়, ধারাবাহিক প্রক্রিয়া”। নেতাহীন কাঠামো দমন এড়াতে সাহায্য করে, কিন্তু পতনের পর দর-কষাকষিতে দুর্বল করে দেয়।

মাদাগাস্কারের অভিজ্ঞতা দেখায়, সংগঠিত বিকল্প না থাকলে শূন্যতা পূরণ করে সবচেয়ে সংগঠিত শক্তি, আর সেটি প্রায়ই অস্ত্রধারী। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রেও তরুণেরা মনে করছেন, ক্ষমতাসীনেরা তাঁদের কথা শুনছেন না। তাই এই আন্দোলনগুলোর অর্জন মাপার মানদণ্ড কয়টি সরকার পড়ল তা নয়। দেখতে হবে কোথায় নিহতদের হত্যার বিচার হলো, কোথায় বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হলো, আর কোথায় যে দুর্নীতি ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, তার জবাবদিহির প্রতিষ্ঠান সত্যিই তৈরি হলো।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

আবু আনান

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

আজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।