দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দোকানঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলা পাড়ায় দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মহলদার। সোনা মহলদার ও কবরস্থান কমিটির সভাপতি লিটন মালিথা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, জমিটি কবরস্থানের। থানার ওসি জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।#Kushtia #Daulatpur #LandDispute #BNP #MeehaNews

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে মরিচা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোনা মহলদারের বিরুদ্ধে। সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে হাটখোলা পাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সোনা মহলদার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাটখোলা পাড়ার মৃত খলিল দফাদারের ছয় ছেলে দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকেন। সম্প্রতি তাঁদের মধ্যে সুনারুল দফাদার ও শওকত দফাদার দেশে ফেরেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এরপর সোনা মহলদার, সিদ্দিক মহলদার, নুরু মহলদারসহ কয়েকজন হাটখোলা পাড়া কবরস্থানের সভাপতি লিটন মালিথাকে সঙ্গে নিয়ে তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে নির্মিত দোকানঘর ও গোডাউন মার্কেটের জমি কবরস্থানের বলে দাবি করেন এবং তা দখলের চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের দাদা প্রায় ছয় দশক আগে কবরস্থানের জন্য জমি বিক্রি করেছিলেন, যা ১৯৬২ সালের এসএ রেকর্ডে আছে। ১৯৭৪ সালে আরএস রেকর্ডের সময় মূল দাগটি তিন ভাগ হয়। তাঁদের ভাষ্য, কবরস্থান ও মার্কেটের জমির দাগ আলাদা। রাস্তা-সংলগ্ন ও মূল্যবান হওয়ায় জমিটি দখলের চেষ্টা চলছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ জমির কোনো কাগজ দেখাতে পারেনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সোমবার হাটখোলা জামে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে কবরস্থানের সদস্য ও স্থানীয়দের জড়ো করা হয়। এরপর দোকানঘর ও গোডাউন ভাঙচুর এবং মালামাল লুট হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সোনা মহলদার ঘোষণা দেন, যাঁরা ভাঙচুরে অংশ নেবেন না, তাঁদের পরিবারের কারও মরদেহ ওই কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হবে না। এতে আতঙ্ক ও সামাজিক চাপে অনেকে অংশ নিতে বাধ্য হন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
সুনারুল দফাদার বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই ভাঙচুর হয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে তাঁদের বাড়িঘর অবরুদ্ধ করে রাখা হয়, বাইরে বের হলে বাড়িঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার জন্য বিচার চান।
সোনা মহলদার বলেন, জমিটি কবরস্থানের, ভুক্তভোগীরা দীর্ঘদিন জোর করে তা ভোগ করছেন। তাঁর ভাষ্য, কবরস্থানের সদস্যসহ প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন। এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না এবং ঘটনার সময় তিনি এমপির বাসায় ছিলেন। লিটন মালিথাও জমিটি কবরস্থানের বলে দাবি করেছেন। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালিকানার কাগজ দেখাতে চাইলে তিনি কোনো কাগজ দেখাতে পারেননি।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ঘটনা ও ভাঙচুরের কথা তিনি শুনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





