জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি ১৭ বার প্রতারণা করেছে: অভিযোগ হাসনাত আবদুল্লাহর
রোববার (১৮ অক্টোবর) এবি পার্টির আলোচনা সভায় এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি জুলাই সনদ নিয়ে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি আটটি ক্ষেত্র উল্লেখ করেন। তার মধ্যে আছে একটি অধ্যাদেশ বাতিল, বিচারক ও কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ না করা এবং সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় বিলুপ্তি। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবারের বিরুদ্ধে পুলিশে পোস্টিং-বাণিজ্যের অভিযোগও করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এর সমর্থনে প্রমাণ বা সংশ্লিষ্টদের জবাব নেই। সরকারের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এর আগে বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। #HasnatAbdullah #JulyCharter #BNP #NCP #MeehaNews

জুলাই সনদ ‘অক্ষরে অক্ষরে’ বাস্তবায়নের কথা বললেও বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তাঁর মতে, জুলাই সনদ এখন আর কার্যকর নেই, এটি ‘অলঙ্কারমাত্র’।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভাপতিত্ব করেন। আরও অংশ নেন জামায়াতের আমির, এলডিপি সভাপতি অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।
হাসনাতের দাবি, বিএনপি প্রতিদিন, প্রতি অধিবেশনে সনদের একটি করে প্রতিশ্রুতি ভাঙছে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, তিনি আটটি ক্ষেত্র তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, পাবলিক গ্রিভেন্স রিড্রেস সেল-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। হিসাব ও নিরীক্ষা বিভাগকে আলাদা করার কথা থাকলেও আট মাসে নির্বাহী আদেশেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সনদের ৬৪ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী সচিবালয়ে ‘ভোটচুরি’ ও ‘গণহত্যা’র সঙ্গে জড়িতদের বিচারের ব্যবস্থা হয়নি। ৬১ নম্বর প্রস্তাবে বিচারকদের ‘রাজনৈতিক আনুগত্য’কে অসদাচরণ গণ্য করার কথা থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিচারক ও কর্মচারীদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশের উদ্যোগও নেই। ৫২ নম্বর প্রস্তাবে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা ছিল, কিন্তু বিএনপি এসে সেটিও বিলুপ্ত করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
হাসনাত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পরিবারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, কান্টনমেন্ট থানার এক ওসি তাঁকে জানিয়েছেন, থানায় পোস্টিং নিতে এক-দুই কোটি টাকা ঘুষ দিতে হয়। এই বাণিজ্য আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছেলে এবং এখন তাঁর ভাগনেরা পরিচালনা করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব কথার সমর্থনে কোনো প্রমাণের উল্লেখ নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা তাঁর পরিবারের জবাবও পাওয়া যায়নি।
হাসনাত গণপরিষদের শপথ না নেওয়ার জন্য বিএনপির সংসদ সদস্যদেরও সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপির মুখে জুলাই সনদ, অন্তরে আওয়ামী লীগ। সংবিধান সংশোধনের বিপদের উদাহরণ হিসেবে তিনি সপ্তম, অষ্টম, ত্রয়োদশ, পঞ্চদশ ও ষোড়শ সংশোধনী আদালতে বাতিল হওয়ার কথা তোলেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিজে হাসপাতাল বা ফুটপাত পরিদর্শন করতে হলে বোঝা যায় মধ্যবর্তী প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছে।
সরকারের অবস্থান ভিন্ন। আজকের পত্রিকাকে চিফ হুইপ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি সম্প্রতি বলেছেন, জুলাই সনদের সবটাই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। জুলাইয়ে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে, ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদের বিধান যুক্ত হলে তখন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। হাসনাতের এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা সরকারের প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পাওয়া যায়নি।





