‘ডন’-এর জলসায় বোমার হুমকি
মুম্বাইয়ের জুহুতে অমিতাভ বচ্চনের বাংলো জলসা বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে একটি ই-মেইলে। একই ই-মেইলে দিলজিৎ দোসাঞ্জের ২৭ নভেম্বরের কনসার্ট এবং মুম্বাইয়ের মেয়রের কার্যালয়েও হামলার হুমকি দেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি। ই-মেইলের উৎস এখনো শনাক্ত হয়নি।#AmitabhBachchan #Jalsa #DiljitDosanjh #Bollywood #MeehaNews

‘দিওয়ার’ (১৯৭৫) ছবিতে বিজয়ের গর্ব ছিল, তার “বাংলা হ্যায়, গাড়ি হ্যায়”। পর্দার সেই বিজয় আজ বাস্তবের অমিতাভ বচ্চন, আর তাঁর বাংলো ‘জলসা’ এখন হুমকির নিশানায়। মুম্বাইয়ের জুহুতে অমিতাভের এই বাড়ি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে একটি ই-মেইলে। একই বার্তায় হুমকি এসেছে পাঞ্জাবি গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের আসন্ন কনসার্ট নিয়েও। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
প্রথম আলোর মুম্বাই প্রতিনিধির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকাল ১১টা ৩১ মিনিটে ই-মেইলটি পাঠানো হয় মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ের কার্যালয়সহ কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে। ই-মেইলে মেয়রের কার্যালয়েও বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়। লেখা ছিল, ২৭ নভেম্বর মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিতের কনসার্টেও বোমা হামলা হবে। বার্তায় ৩১ অক্টোবর একটি স্কুলে গ্রেনেড হামলার কথা এবং খালিস্তানপন্থী স্লোগানও ছিল।
মুম্বাই পুলিশের উপকমিশনার (জোন ১) মনীশ কলওয়ানিয়া জানান, বৃহন্মুম্বাই পৌর করপোরেশনের (বিএমসি) কার্যালয়ে হুমকির ই-মেইলটি আসে। তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। দাদর এলাকার কয়েকটি স্কুলেও একই ধরনের হুমকি এসেছে।
এখন প্রশ্ন, প্রেরক কে? ‘ডন’ (১৯৭৮) ছবিতে অমিতাভের সংলাপ ছিল, “ডন কো পকড়না মুশকিল হি নেহি, না-মুমকিন হ্যায়।” মুম্বাই পুলিশ অবশ্য আশা করছে, পর্দার আড়ালে বসে হুমকি পাঠানো এই ব্যক্তিকে ধরা অন্তত না-মুমকিন হবে না। ই-মেইলটির উৎস এখনো শনাক্ত হয়নি। অমিতাভ বা দিলজিৎও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
হুমকির ই-মেইল মুম্বাইয়ে নতুন নয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, গত ২০ মার্চ মুম্বাই প্রেসক্লাবে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে দাবি করা হয়েছিল, ভবনে বিষাক্ত গ্যাসভর্তি ৪২টি যন্ত্র বসানো আছে, যা দুপুর একটায় বিস্ফোরিত হবে। সে দাবির পক্ষে কিছুই মেলেনি।
অমিতাভ ও দিলজিৎ এর আগেও একসঙ্গে আলোচনায় এসেছিলেন। গত বছরের অক্টোবরে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি’র এক পর্বে দিলজিৎ অমিতাভের পা ছুঁয়ে সম্মান জানান। এর নিন্দা করে খালিস্তানপন্থী সংগঠন শিখস ফর জাস্টিস (এসএফজে)। কাশ্মীর রিডারের তখনকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এরপর অমিতাভের নিরাপত্তাঝুঁকি খতিয়ে দেখেছিল ভারতের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো। তবে সেই ঘটনার সঙ্গে এবারের ই-মেইলের কোনো যোগসূত্র পুলিশ এখনো জানায়নি।
‘শাহেনশাহ’ (১৯৮৮) ছবিতে অমিতাভ বলেছিলেন, “রিশতে মে তো হাম তুমহারে বাপ লাগতে হ্যায়।” জলসার শাহেনশাহকে ভয় দেখানো যে সহজ নয়, তা হুমকিদাতার জানা থাকার কথা। তবু ঝুঁকি না নিয়ে তদন্তে নেমেছে মুম্বাই পুলিশ।





