মূল কনটেন্টে যান
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬৭ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
প্রবন্ধ

এক প্রজন্মের বিস্ময়, আরেক প্রজন্মের ইতিহাস

আব্দুল আলীম

এক প্রজন্মের বিস্ময়, আরেক প্রজন্মের ইতিহাস
একসময়ের বিনোদনের প্রধান মাধ্যম রেডিও নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই অচেনা। প্রতীকী ছবি

সময় সকাল ৮টা ৩৯ মিনিট। অফিস ডিউটির জন্য দিনের প্রথম সেলফি তুলে গ্রুপে পোস্ট করেই সিএনজিতে উঠলাম। সামনের সিটে বসলাম। গন্তব্য খুলনা শহর।

পেছনের সিটে বসেছেন একজন বাবা ও তাঁর ছেলে। ছেলেটির বয়স আনুমানিক ৯–১০ বছর।

সিএনজি এগিয়ে চলছে। আর বাবা ছেলেকে শহরের একেকটি স্থাপনা দেখাচ্ছেন, পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন শহরের সঙ্গে। ছেলেটিও ছোট ছোট প্রশ্নে আরও বিস্তারিত জানতে চাইছে। বাবা ধৈর্য ধরে সবকিছুর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন।

— এটা গোয়ালখালী মোড়। দেখছ, ওটা একটা যুদ্ধজাহাজ।

— এটা আবু নাসের স্টেডিয়াম। এখানে ক্রিকেট খেলা হয়।

— এটা ম্যানগ্রোভ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

— ওটা আদ-দ্বীন হাসপাতাল।

— আর এটা বিভাগীয় লাইব্রেরি।

ছেলেটি মুগ্ধ চোখে জানালার বাইরে তাকিয়ে দেখছে। নতুন কিছু জানার আনন্দে তার চোখেমুখে কৌতূহল।

একসময় বাবা বললেন,

— এটা বাংলাদেশ বেতার।

ছেলেটি প্রশ্ন করল,

— বাবা, বেতার কী?

বাবা বললেন,

— এটা একটা রেডিও স্টেশন। এখান থেকে সংবাদ, গান, ধারাভাষ্যসহ নানা অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়।

ছেলেটির পরের প্রশ্ন,

— বাবা, রেডিও কী?

বাবা এবার রেডিওর পরিচয় দিলেন, এর কাজ বুঝিয়ে বললেন। ছেলেটিও মুগ্ধ চোখে বাবার কথা শুনতে লাগল।

দৃশ্যটা দেখতে দেখতে মনে হলো, সময় কত দ্রুত বদলে গেছে!

আজকের প্রজন্মের অনেক শিশুর কাছে রেডিও একটি অপরিচিত শব্দ। তাদের কাছে বিনোদন মানেই স্মার্টফোন, ইউটিউব, ফেসবুক কিংবা অনলাইন গেম। অথচ আমাদের শৈশবে রেডিও ছিল বিনোদনের এক কাঙ্ক্ষিত মাধ্যম। ক্রিকেট খেলার ধারাভাষ্য শোনার জন্য রেডিওর পাশে বসে থাকা, প্রিয় গান শোনার অপেক্ষা করা কিংবা সংবাদ শোনার জন্য পরিবারের সবাইকে এক জায়গায় জড়ো হতে দেখা—এসবই ছিল আমাদের সময়ের আনন্দের অংশ।

প্রযুক্তির পরিবর্তনে রেডিও হারিয়ে যায়নি, কিন্তু আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে অনেকটাই হারিয়ে গেছে তার আগের গুরুত্ব। এখনো কেউ কেউ রেডিও ব্যবহার করেন, তবে নতুন প্রজন্মের জীবনে এর জায়গা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি।

ভাবতে অবাক লাগে, যে জিনিসটি একসময় আমাদের কাছে ছিল বিস্ময় আর আনন্দের উৎস, আজ সেটিই পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অচেনা!

এটাই সময়ের নিয়ম। এক প্রজন্মের বিস্ময় পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হয়ে যায় ইতিহাস।

একসময় রেডিও জায়গা ছেড়ে দিয়েছে টেলিভিশনকে, টেলিভিশন জায়গা ছেড়ে দিয়েছে স্মার্টফোনকে। এভাবেই নতুনের আগমনে পুরোনো হারায় তার প্রাসঙ্গিকতা।

তবে সত্যিই কি একটি যুগ আরেকটি যুগকে ধ্বংস করে?

নাকি সময় শুধু পুরোনোকে সরিয়ে নতুনকে জায়গা করে দেয়?

হয়তো যুগ ধ্বংস হয় না, ধ্বংস হয় তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অভ্যাস, অনুভূতি আর স্মৃতিগুলো। আর নতুন প্রজন্মের কাছে সেগুলো একসময় হয়ে ওঠে নিছক ইতিহাস।

সকালে যে ফোনে দিনের প্রথম সেলফি তুলেছিলাম, হঠাৎ সেটির কথা মনে পড়ল। কে জানে, একদিন হয়তো কোনো শিশু তার বাবাকে জিজ্ঞেস করবে, “বাবা, স্মার্টফোন কী?”

লেখাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেলে জানান

আব্দুল আলীম

নিয়োগকারী কর্মকর্তা, খুলনা এরিয়্‌ ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড।।

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।