প্রথম বুড়িগঙ্গা বা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ (পোস্তগোলা সেতু) ঢাকার সঙ্গে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ।
২০২০ সালের ২৯ জুন বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় সেতুর দুটি গার্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ২০২৪ সালে সওজ গার্ডার দুটির মেরামত ও রেট্রোফিটিং করে।
লেখকের দাবি, সেতুর এক্সপানশন জয়েন্টে সমস্যা ও সড়কে খানাখন্দ আছে, ভারী যানবাহনের কম্পনে সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
লেখকের মতে, স্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না; এ বিষয়ে সওজের বক্তব্য নেই।
#PostogolaBridge #BurigangaBridge #Dhaka #Infrastructure #MeehaNews
বুড়িগঙ্গার ওপর পোস্তগোলা (প্রথম বুড়িগঙ্গা) সেতু। ফাইল ছবি
বাংলাদেশের দক্ষিণবঙ্গের দুটি বিভাগ বরিশাল ও খুলনার সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগের সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বার বুড়িগঙ্গা সেতু (পোস্তখোলা ব্রিজ), যা প্রথম বুড়িগঙ্গা সেতু বা বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু-১ নামেও পরিচিত। এটি ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত প্রথম স্থায়ী সড়ক সেতু।
পদ্মা সেতু হয়ে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ২১টি জেলায় যাতায়াতকারী দূরপাল্লার যানবাহন ও পণ্যবাহী ট্রাক মূলত এই সেতু ব্যবহার করে। সেতুটি ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের (expressway) ঠিক শুরুতে অবস্থিত। বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ উদ্যোগে চীনা অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে এটি নির্মিত হয়। আশির দশকে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ১৯৮৯ সালে এটি জনসাধারণের জন্য চালু করা হয়। এর নকশাগত বা অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ৫০ থেকে ৭৫ বছর। ১৯৮৯ সালে উদ্বোধনের পর থেকে এ পর্যন্ত সেতুটি ৩৬ বছর সেবা দিয়েছে।
কাগজে-কলমে বা নকশায় সেতুগুলোর আয়ুষ্কাল দীর্ঘ ধরা হলেও অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ের আগেই যেকোন সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়তে পারে ।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে একটি উদ্ধারকারী জাহাজের ধাক্কায় সেতুটির দুটি গার্ডার (girder) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সর্বাধুনিক ‘মাইক্রো কংক্রিট’ (micro concrete) ও ‘রেট্রোফিটিং’ (retrofitting) প্রযুক্তিতে এটি সংস্কার করে।
ববর্তমানে, সেতুর দুটি স্প্যানের (span) মধ্যবর্তী ফাঁকা জোড়ায়, অর্থাৎ এক্সপানশন জয়েন্টে (expansion joint) মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে, আর সেতুর অনেক অংশ খানাখন্দে ভরা। ভারী যানবাহনের ওজন, গতি ও ধাক্কার ফলে সৃষ্ট মারাত্মক কম্পনে সেতুটি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন হলে মাঝেমধ্যে ফট মেরে সমস্যা সমাধানের যৎসামান্য চেষ্টা করা হয়। তবে স্থায়ী সমাধানের কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এটি কোনো সাবস্ক্রিপশন নয়, বরং স্বেচ্ছা অনুদান।আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা একটি জনকল্যাণমূলক কাজ। স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশনের জন্য আপনার সহযোগিতা একান্ত প্রত্যাশ্যী।