জিন সম্পাদিত ‘যোদ্ধা কুকুর’ বানাতে ২০ কোটি ডলারের স্টার্টআপ
মার্কিন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের জন্য জিনগতভাবে উন্নত কুকুর তৈরির লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলার বিনিয়োগ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ওয়ারহাউন্ড। উদ্যোগের পেছনে আছেন কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের বেন ল্যাম ও অ্যান্ডুরিলের প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি। প্রথম দফার ক্লোন কুকুরছানার জন্ম আগামী বছরের শুরুতে হওয়ার কথা। সুরক্ষা ভেস্ট ও সেন্সর সরবরাহ করবে অ্যান্ডুরিল। এক জৈবনীতিবিদ এ কাজে সতর্ক নৈতিক পর্যালোচনা ও তদারকির আহ্বান জানিয়েছেন।#Warhound #PalmerLuckey #BioTech #DefenseTech #MeehaNews

মার্কিন সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দলের জন্য জিনগতভাবে উন্নত “কর্মী কুকুর” তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে ওয়ারহাউন্ড (Warhound) নামের একটি স্টার্টআপ। শুরুতেই প্রতিষ্ঠানটি ২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম টেকক্রাঞ্চের তথ্যমতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির মূল্যমান দাঁড়িয়েছে ১২০ কোটি ডলার।
ওয়ারহাউন্ডের পেছনে আছেন দুই আলোচিত উদ্যোক্তা। একজন কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের (Colossal Biosciences) প্রধান নির্বাহী বেন ল্যাম। প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার গবেষণার জন্য পরিচিত। অন্যজন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের (Anduril) প্রতিষ্ঠাতা পালমার লাকি, যিনি ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট অকুলাস রিফটের উদ্ভাবক। ওয়ারহাউন্ডের প্রধান নির্বাহী হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রথম প্রধান ডেটা কর্মকর্তা ডেভিড স্পার্ক। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইন-কিউ-টেল (In-Q-Tel) ও সিকোইয়া ক্যাপিটাল।
টেকক্রাঞ্চ জানিয়েছে, ওয়ারহাউন্ড বেলজিয়ান মেলিনোয়া ও জার্মান শেফার্ড জাতের কুকুরের কোষ সংরক্ষণ করেছে। জিন সম্পাদনার মাধ্যমে এসব কোষে উপকারী বৈশিষ্ট্য যোগ ও ক্ষতিকর বৈশিষ্ট্য বাদ দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। লক্ষ্য হলো কুকুরের স্বাস্থ্য, আয়ু, গতি ও ক্ষিপ্রতা, আর বোমা শনাক্তের জন্য ঘ্রাণশক্তি বাড়ানো। সফল কুকুরের ক্লোন তৈরিতে সহায়তা করবে কলোসালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ভায়াজেন। প্রতিষ্ঠানটি আশা করছে, প্রথম দফার কুকুরছানার জন্ম হবে আগামী বছরের শুরুতে। প্রায় দুই বছরের মধ্যে কুকুরগুলো কাজে নামানোর পরিকল্পনা আছে।
কুকুরগুলোর জন্য সুরক্ষা ভেস্ট, চোখ ও কানের সুরক্ষা সরঞ্জাম এবং তথ্য সংগ্রহের সেন্সর সরবরাহ করবে অ্যান্ডুরিল। বেন ল্যাম টেকক্রাঞ্চকে বলেন, এসব প্রযুক্তি থাকবে “কুকুরের ওপরে, কুকুরের ভেতরে নয়।”
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মার্কিন সেনাবাহিনীর ৮০ শতাংশের বেশি কর্মী কুকুর আসে ইউরোপ থেকে। প্রায় তিন বছরের প্রশিক্ষণ শেষে এর অর্ধেকও কাজের উপযোগী হয় না। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা, ক্যানসার ও হিপ ডিসপ্লাসিয়ার মতো জিনগত রোগে অনেক কুকুর প্রশিক্ষণ থেকে বাদ পড়ে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য মিররের প্রতিবেদনে পালমার লাকির উদ্ধৃতি এসেছে, “মানুষের সবচেয়ে ভালো বন্ধুর প্রাপ্য মানুষের সেরা প্রযুক্তি।” প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, প্রাণিকল্যাণ সংস্থা আমেরিকান হিউম্যান ওয়ারহাউন্ডের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সনদ দেওয়ার কাজ করবে। তবে উদ্যোগটি নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের জৈবনীতিবিদ আলটা শারো দ্য মিররকে বলেছেন, এ ধরনের কাজে “সতর্ক নৈতিক পর্যালোচনা” ও “অর্থবহ তদারকি” প্রয়োজন।





