মাধ্যমিকের বই ছাপায় ধীরগতি, নবম-দশমের বই গেছে মাত্র ৩ শতাংশ
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে, সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। প্রাথমিকের ৭৪ শতাংশ বই সরবরাহ হয়েছে। মাধ্যমিকে হয়েছে ৪০ শতাংশ, আর নবম-দশমে মাত্র ৩ শতাংশের মতো। এনসিটিবির লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করে জানুয়ারিতে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে দেওয়া। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন চারটি বইয়ের অনুমোদনে রোববার এনসিসিসির সভা।#Bangladesh #Education #Textbooks #NCTB #MeehaNews

আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপার কাজ চলছে। প্রাথমিক স্তরে বই ছাপা ও সরবরাহের অগ্রগতি ভালো হলেও মাধ্যমিকে কাজ বেশ পিছিয়ে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত নবম-দশম শ্রেণির মাত্র ৩ শতাংশের মতো বই সরবরাহ করা হয়েছে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন যুক্ত হতে যাওয়া চারটি বইয়ের ছাপার কার্যাদেশও এখনো দেওয়া হয়নি। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হতে বাকি আর দুই মাস। তাই শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থী সব বই হাতে পাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, নির্ধারিত সময়েই বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। কিছু মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান কয়েক দিন পিছিয়ে পড়তে পারে, তবু জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা সব বই পাবে বলে আশা তাঁদের।
২০১০ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে নতুন পাঠ্যবই দিচ্ছে সরকার। তবে কোনো কোনো বছর শিক্ষাবর্ষের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরপর দুই শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে সব বই বিতরণ করা যায়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষ শুরুর এক মাস সাত দিন পর, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ বই সরবরাহ করতে পেরেছিল এনসিটিবি। তার আগের বছর লেগেছিল প্রায় তিন মাস, এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়।
কোন স্তরে কতটা অগ্রগতি
এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, এবারের বইয়ের মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বইও রয়েছে। মাধ্যমিক স্তরে ছাপা হচ্ছে ২২ কোটির বেশি বই, প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার। সব মিলিয়ে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা।
এনসিটিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাথমিক স্তরের ৮৬ শতাংশের বেশি বই ছাপা শেষ হয়েছে। বাঁধাই, কাটিং ও প্রাক্-সরবরাহ পরিদর্শন (পিডিআই, Pre-Delivery Inspection) শেষে সরবরাহ করা হয়েছে ৭৪ শতাংশ বই। অন্যদিকে মাধ্যমিক স্তরে প্রথম দফায় দরপত্র হওয়া ২০ কোটি ৮৪ লাখের বেশি বইয়ের প্রায় ৫০ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে সরবরাহ হয়েছে ৪০ শতাংশ। মাধ্যমিক স্তরের মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে নবম-দশম শ্রেণি, যেখানে সরবরাহ মাত্র ৩ শতাংশের মতো।
এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু নাসের প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই ছাপা শেষ করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো। এখন পর্যন্ত অগ্রগতিতে তাঁরা সন্তুষ্ট। নির্ধারিত সময়, অর্থাৎ জানুয়ারিতে, শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই তুলে দিতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।
নতুন চার বই, অনুমোদনের সভা রোববার
২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। এর মধ্যে আছে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা। নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ।
স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আসছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের বই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই আর বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত বই, এই তিন ধরনের বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন রকম হচ্ছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথা। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি, National Curriculum Coordination Committee) সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে অনুমোদন পেলে এই চারটি বইয়ের ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হবে।





