টুপটুপ রিসোর্টে আগুন: ডিএনএতে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত, মরদেহ হস্তান্তর আজ; নিখোঁজ শিক্ষিকার সন্ধান নেই
ডিএনএ পরীক্ষায় নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে; ২৭ অক্টোবর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কথা। নিখোঁজের তালিকার ১১ জনের মধ্যে স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার (২৭) ডিএনএ কোনো মরদেহের সঙ্গে মেলেনি। নিহতদের মধ্যে ঢাকার শ্যামলীর চার সদস্যের একটি পরিবার এবং বনশ্রী ও খিলগাঁওয়ের ছয়জন রয়েছেন। মামলায় আসামি ২৩ জন; মালিকসহ তিনজন ৯ দিনেও গ্রেপ্তার হননি। জামিনযোগ্য ধারায় মামলা নেওয়ায় আদালত ওসিকে তলব করেছেন।#Coxsbazar #TuptupResort #Ukhiya #FireIncident #MeehaNews

কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকে টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের মরদেহ আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার সন্ধান এখনো মেলেনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, আজই মরদেহ হস্তান্তরের কথা রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানাবে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মরদেহ থেকে নেওয়া নমুনার সঙ্গে স্বজনদের নমুনা মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করেছে।
কারা নিহত
নিহতদের মধ্যে চারজন ঢাকার শ্যামলীর একই পরিবারের সদস্য। তাঁরা হলেন গ্র্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১), তাঁর স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং দুই মেয়ে রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
বাকি ছয়জন ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর কাজিন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫) ও ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।
নিহতদের কয়েকজন শিক্ষার্থী। নাফিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন; ‘জেরিফ’ নামেও পরিচিত ছিলেন। মৌলিতা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস পড়তেন। লায়লা ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী।
নিখোঁজ এগারোজন
নিখোঁজের তালিকায় ছিলেন ১১ জন। এর মধ্যে নাসরিন আক্তার মুক্তার ডিএনএ উদ্ধার হওয়া কোনো মরদেহের সঙ্গে মেলেনি। তিনি সাভারের আশুলিয়ার স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তাঁর খোঁজ নেই। তাঁর বাবার নাম মোস্তফা কামাল।
মামলা ও আদালত
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবরের ঘটনায় উখিয়া থানার উপপরিদর্শক আশীষ সূত্রধর অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে মামলা করেন। এজাহারে চারজনের নাম আছে; সঙ্গে ১৯ জন অজ্ঞাতনামা আসামি, মোট ২৩ জন। ঘটনার ৯ দিন পরও মালিক তানভীর সুলতান মিয়াসহ তিন আসামি গ্রেপ্তার হননি। সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে ১৮ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়েছে; পুলিশ তাঁর সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে।
মামলায় জামিনযোগ্য ৩০৪-ক ধারা রাখা হয়েছে, জামিন অযোগ্য ৩০৪ ধারা নয়। এ কারণে ২৬ অক্টোবর কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আসাদ উদ্দিন মো. আসিফ উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমানকে ২৯ অক্টোবর সশরীর হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলেছেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, রিসোর্টে অগ্নিনির্বাপণব্যবস্থা ও জরুরি বহির্গমনপথ ছিল না। ওসি আতিকুর রহমান বলেছেন, আগুন লাগার ব্যস্ততায় এজাহারে ৩০৪ ধারা বাদ পড়েছিল। পরদিন তা যুক্ত করার আবেদন করা হয়।





