ইনানীর আগুনে বেঁচে ফিরলেন দুই বান্ধবী, প্রাণ হারালেন তৃতীয়জন
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের ইনানীর টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আছেন শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা। বান্ধবী আইরিন জাহান মীম ও ইমা হাঁটতে বের হওয়ায় বেঁচে যান। রিসোর্টের পেছন থেকে মুক্তাকে লাফ দিতে বলেও তাঁরা সাড়া পাননি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রিসোর্টের অনুমোদন ও ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। জুনে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়েছে। #InaniResortFire #CoxsBazar #FireSafety #Bangladesh #MeehaNews

কক্সবাজারের ইনানীর টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে সাভারের একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা মারা গেছেন। তাঁর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া দুই বান্ধবী আইরিন জাহান মীম ও ইমা আগুন লাগার সময় রিসোর্টের বাইরে ছিলেন বলে প্রাণে বেঁচে গেছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ২৫ মিনিটের দিকে উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভের পাশের রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা সূত্রভেদে ছয় থেকে সাত।
মীম আমার দেশকে বলেন, সকালে তিনি ও ইমা হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নাসরিনকেও ডেকেছিলেন, কিন্তু আরেকটু ঘুমাবেন বলে তিনি যাননি। কিছুদূর যাওয়ার পর তাঁরা রিসোর্টে আগুন দেখতে পান।
ইমা নাসরিনের মোবাইলে বারবার কল করেন। মীম চিৎকার করে নিচে নামতে বলেন। পরে রিসোর্টের পেছনে গিয়ে তাঁকে লাফ দিতে বলেও ডাকাডাকি করেন। মীমের ভাষ্য, নাসরিন সাড়া দেননি। ততক্ষণে বিকট শব্দে আগুন পুরো রিসোর্টে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন নেভানোর পর দুই বান্ধবী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সঙ্গে ভেতরে ঢুকলেও নাসরিনকে খুঁজে পাননি। সারা দিন তাঁরা রিসোর্টের সামনে অপেক্ষা করেন, অন্তত মরদেহের সন্ধান পাওয়ার আশায়।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, রিসোর্টটি প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া চলছিল এবং ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না। গত জুনে পরিদর্শনের পর এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সতর্কতামূলক নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম চালিয়ে যায়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে রান্নাঘরের চুল্লি থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি চূড়ান্ত নয়। ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক অনুমানের ভিত্তিতে কারণ নির্ধারণ না করার কথা বলেছেন। কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি হয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড বাংলার তথ্যমতে, রিসোর্টের ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করা হয়েছে।





