শ্রীবরদীতে দাফনের জায়গা না পেয়ে বসতঘরেই কবর দেওয়া হলো বৃদ্ধ করিম মিয়াকে
শেরপুরের শ্রীবরদীর তাতিহাটি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধ করিম মিয়া (৭০) রোববার দুপুরে মারা যান। দাফনের জন্য অন্য জায়গা না থাকায় সোমবার সকাল ১০টার দিকে বসতঘরের ভেতরেই তাঁকে কবর দেওয়া হয়। মেয়ে কোতুলী বেগমের ভাষ্য, এলাকায় সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানেই দাফন করা যেত। ওই ঘরেই এখন থাকতে হবে ছেলে কবির ও পরিবারের অন্য সদস্যদের।#Sherpur #Sreebardi #BangladeshNews #LocalNews #MeehaNews

শেরপুরের শ্রীবরদীতে দাফনের জন্য আলাদা জমি না পেয়ে নিজের বসতঘরের ভেতরেই কবর দেওয়া হয়েছে করিম মিয়াকে (৭০)। ঘরটিই এখন তাঁর পরিবারের একমাত্র থাকার জায়গা।
করিম মিয়া উপজেলার তাতিহাটি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের বাসিন্দা। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে তিনি মারা যান। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে ঘরের টিনের বেড়া খুলে ভেতরেই তাঁকে দাফন করা হয়।
পরিবার জানায়, দীর্ঘদিন পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে করিম মিয়া শয্যাশায়ী ছিলেন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি ভিক্ষা করে চলেছেন।
বড় মেয়ে কোতুলী বেগম জানান, বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি ফুফুর কাছ থেকে ঘরসহ তিন শতাংশ জমি কিনে নেন। কেনার পরও ঘরটি বাবা-মায়ের বসতবাড়ি হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছিল। এর বাইরে পরিবারের আর কোনো জমি নেই।
কোতুলী বলেন, “আমরা দুই ভাই-বোন ঢাকায় বাসাবাড়িতে কাজ করি। আরেক বোন স্বামীর বাড়িতে থাকে। বাবাকে কবর দেওয়ার মতো কোনো জায়গাজমি আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঘরের ভেতরে কবর দিতে হয়েছে। সরকারি কবরস্থান থাকলে সেখানে দাফন করতে পারতাম। কিন্তু আমাদের এখানে সেই ব্যবস্থা নেই।”
স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল জানান, বসতভিটার জমিটুকুই পরিবারটির সম্বল। করিম মিয়ার ছেলে কবির ঢাকায় রিকশা চালান। বাড়ি ফিরলে তাঁকে বাবার কবর থাকা ঘরেই থাকতে হবে।
আরেক বাসিন্দা নাদিম বলেন, এলাকায় নেতাকর্মী ও বিত্তবানের অভাব নেই, তবু দাফনের জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা হয়নি। পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এবং ভবিষ্যতে কাউকে যেন এমন পরিস্থিতিতে পড়তে না হয়, সে জন্য উদ্যোগ নেওয়া দরকার বলে মনে করেন তিনি।
পরিবারের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন, যাতে মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে তাঁদের অনিশ্চয়তায় থাকতে না হয়।





