ধানমন্ডিতে বাউলশিল্পীদের পক্ষে মানববন্ধনে পুলিশের বাধা, আটক দীপক শীল
রায়হান সাব্বির

সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্কৃতিকর্মীদের ডাকা মানববন্ধন পুলিশের বাধায় হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার বিকেল চারটায় ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে ‘প্রতিবাদী শিল্পী জনতা’র ব্যানারে কর্মসূচিটি হওয়ার কথা ছিল। কর্মসূচির আগেই শতাধিক পুলিশ সদস্য সেখানে অবস্থান নেন। অভিনেত্রী সুমনা সোমা, নাট্যকর্মী এহসানুল আজিজ বাবু, শ্রমিক নেতা মুর্শিকূল ইসলাম শিমুল ও দীপক শীলসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মী সেখানে জড়ো হন।
কীভাবে দীপক শীলকে আটক করা হলো, সে বিষয়ে পুলিশ ও আয়োজকদের বক্তব্য ভিন্ন।
সুমনা সোমা সাংবাদিকদের বলেন, এক পুলিশ সদস্য ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে নিষেধ করেন; তাঁরা প্রতিবাদ করলে পুলিশ দীপক শীলকে ধরে নিয়ে যায়। তিনি আটকের কোনো কারণ নেই বলে দাবি করেন এবং দীপক শীলের মুক্তি চান।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইবনে মিজান বলেন, উসকানিমূলক স্লোগান ও কথা বলতে নিষেধ করা হলে আন্দোলনকারীরা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান কি নষ্ট হয়ে গেছে। এরপর বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একজনকে প্রাথমিকভাবে আটক করা হয়।
ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার ওসি আবদুল হালিম জানান, দীপক নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় পুলিশের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও টানাহেঁচড়ার পর দীপক শীলকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়।
আয়োজকদের অন্যতম ফারুক এইচ খান বলেন, সারা দেশেই বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে; তিনি এর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মানববন্ধনকারীরা এলাকা ছেড়ে যান। এর মধ্যেই রুহিন হোসেন প্রিন্স ফেসবুকে দীপক শীলের তাৎক্ষণিক মুক্তি দাবি করেন।
প্রতিবাদের পেছনের ঘটনা সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার। ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে নারী বাউলশিল্পীদের একটি ঘরোয়া গানের আসর নিয়ে আপত্তি তুলে থানায় লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনে অনুষ্ঠানকে ‘অশ্লীলতা’ বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে আয়োজক অনুষ্ঠান বাতিল করে দেন।
দীপক শীলকে ছাড়া হয়েছে কি না, তা এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।




