ওসমানীনগরে স্কুলের ৬০ লাখ টাকার হিসাব নিয়ে তদন্ত চলতেই এক কোটি টাকার পাল্টা অভিযোগ
ওসমানীনগরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০ আজীবন দাতা সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ৬০ লাখ টাকা তহবিলে জমা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। ৮ অক্টোবর এক কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক শোকজের জবাব দিলেও তাতে ৬০ লাখ টাকার কথা ছিল না। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।#Sylhet #Osmaninagar #SchoolDispute #Education #MeehaNews

সিলেটের ওসমানীনগরে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব ও পরিচালনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। বিদ্যালয়ের ২০ জন আজীবন দাতা সদস্যের কাছ থেকে নেওয়া ৬০ লাখ টাকার হিসাব চেয়ে করা অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই গত ৮ অক্টোবর এক কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগ উঠেছে।
সাদিপুর ইউনিয়নের মোবারকপুর গ্রামে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসীদের অনুদানে ২০২০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ড থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি মেলে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিষ্ঠানটি ইআইআইএন (১৪০০৬২) পায়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাতা ও দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, রেজুল্যুশন ও অন্যান্য নথি সংরক্ষণ করা হয়নি।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০ জন আজীবন দাতা সদস্যের নতুন তালিকা টাঙানো হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, অ্যাডহক কমিটিকে না জানিয়ে ও নীতিমালা লঙ্ঘন করে এই তালিকা তৈরি হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, তালিকায় একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম আছে। অথচ বৈধ দাতা সদস্য আমিনুল হক রিপন, আব্দুল করিম ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল লেইসের নাম বাদ গেছে।
দাতা সদস্যদের ৬০ লাখ টাকা তহবিলে জমা হয়েছে কি না, তা জানতে অভিযোগ দায়েরের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। ৩০ সেপ্টেম্বর গঠিত হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। প্রতিবেদন জমার সময় ছিল ১০ কার্যদিবস। প্রধান শিক্ষক ১১ অক্টোবর জবাব দেন, কিন্তু তাতে ৬০ লাখ টাকার কোনো উল্লেখ ছিল না। আজ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও ইউপি সদস্য শামছুল ইসলাম শামীম বলেন, তাঁর পরিবার বিদ্যালয়ের জন্য ৪১ শতক জমি দান করেছে। আত্মীয়স্বজন দুই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন হিসাব চাওয়ায় তাঁদের উল্টো হয়রানি করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ জানান, সরেজমিনে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে দাতাদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, রেজুল্যুশন ও দাপ্তরিক নথি সংরক্ষিত না থাকায় প্রতিবেদন তৈরিতে দেরি হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক রণধীর মোহন দেব বলেন, নথিপত্র যাচাই করেই দাতা সদস্য নির্বাচন করা হবে। আগের তালিকা কে বা কারা সরিয়েছেন, তা তিনি জানেন না। অর্থ জমার বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বদিউজ্জামান আহমদ জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক কোটি টাকা আত্মসাতের পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন।





