রিয়াদে হুতি হামলায় নিহত আশিকের মরদেহ ১৩ দিন পর ফিরল বগুড়ার গ্রামে
রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে ১০ অক্টোবরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদ আশিকের মরদেহ ২৩ অক্টোবর বগুড়ার শাজাহানপুরে পৌঁছেছে। কফিন আঁকড়ে কেঁদে ওঠে তাঁর দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬)। হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। ইউএনও জানিয়েছেন, পরিবারটি যেন দ্রুত সরকারি নগদ আর্থিক অনুদান পায়, সে চেষ্টা চলছে।#SaudiArabia #Riyadh #Bogura #Expatriate #MeehaNews

সৌদি আরবের রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত প্রবাসী মো. শাহেদ আহম্মেদ আশিকের মরদেহ ১৩ দিন পর বগুড়ার শাজাহানপুরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে কফিনবন্দি মরদেহ মাদলা ইউনিয়নের মাদলা পূর্বপাড়া গ্রামে আনা হয়।
বাবার কফিন দেখে তা আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়ে আশিকের দুই সন্তান কাউছার (১১) ও আব্দুল্লাহ (৬)। মরদেহ পৌঁছানোর খবরে স্বজনদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষও শেষবার দেখতে ভিড় করেন। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো বাড়ি।
গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণ হারান আশিক। এ হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি।
আশিকের স্বজন মাসুম রানা জানান, ঘটনার দিন স্থানীয় সময় বিকেল ৫টার দিকে বিমানবন্দরে পৌঁছে টার্মিনাল-৩ এলাকা থেকে স্ত্রী কাকলী বেগমের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন আশিক। এর কিছুক্ষণ পরই ওই এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। আজকের পত্রিকার তথ্যমতে, এক মাস দেশে ছুটি কাটিয়ে ৯ অক্টোবর সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার সকালে মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। স্ত্রী কাকলী বেগম ও দুই সন্তান সেখান থেকে মরদেহের সঙ্গে গ্রামে আসেন। ক্যাম্পাস টাইমসের তথ্যমতে, আশিক ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। দৈনিক আমার বাংলাদেশের তথ্যমতে, তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন সৌদি আরবে আছেন। মা শাহেরা বেগম ঘটনার সময় ওমরাহ পালনে সৌদিতে ছিলেন, ছেলের মৃত্যুর পর দেশে ফেরেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আসরের নামাজের পর স্থানীয় সরকারি মাদলা চাচাইতারা যুক্ত উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জানাজা হবে। এরপর বাড়ির উঠানে দাদার কবরের পাশে দাফন করা হবে।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, মরদেহ ফেরত আনার পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। নিহত প্রবাসীর পরিবার যেন দ্রুত সরকারি নগদ আর্থিক অনুদান পায়, সে বিষয়ে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।





