ডব্লিউটিসি ফাইনালের পথে বাংলাদেশের সামনে পাঁচ জয়ের কঠিন সমীকরণ
দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজ হারের পর অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় স্থানে নেমেছে; নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা রয়েছে প্রথম দুইয়ে।ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে প্রথম টেস্টে হেরে বাংলাদেশ ৪৭.৬২ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার পাঁচে নেমেছে।বাংলাদেশের সামনে বাকি পাঁচ টেস্টের একটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।পাঁচটি ম্যাচই জিতলে বাংলাদেশের পিসিটি হতে পারে ৬৯.৪৪ শতাংশ; চারটি জয়ের সঙ্গে একটি হার হলে তা নেমে আসবে ৬১.১১ শতাংশে।#WTC2027 #BangladeshCricket #TestCricket #CricketNews #MeehaNews

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (ডব্লিউটিসি) পয়েন্ট তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ জয় এবং ঢাকায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের পর তালিকার শীর্ষ তিন দল ও বাকি দলগুলোর মধ্যে ব্যবধান বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের অবস্থানেও। চার নম্বর থেকে এক ধাপ পিছিয়ে পাঁচে নেমেছে দলটি।
অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ে ডব্লিউটিসির পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে নিউজিল্যান্ড। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্থান থেকে তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। কেপটাউনে জয়ের সুবাদে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০২৫-২৭ চক্রে নিউজিল্যান্ডের পয়েন্টের শতকরা হার (পয়েন্ট পারসেন্টেজ—PCT) এখন ৭২.২২, দক্ষিণ আফ্রিকার ৭১.৪৩ এবং অস্ট্রেলিয়ার ৬৯.২৩ শতাংশ। ভারতের অবস্থান চারে, তাদের পিসিটি ৫১.৫২ শতাংশ।
এদিকে সাতটি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ পয়েন্ট। পয়েন্টের শতকরা হার ৪৭.৬২। ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আট উইকেটে হারের পর এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫-২৭ চক্রে এখনো পাঁচটি টেস্ট খেলার সুযোগ রয়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দলের সামনে। ফলে ডব্লিউটিসির ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা গাণিতিকভাবে এখনো টিকে আছে। তবে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে কঠিন সমীকরণ মেলাতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশের বাকি পাঁচটি টেস্টের একটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবং বাকি দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাঠে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটি ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে শুরু হওয়ার কথা। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে দুটি এবং দেশে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ।
ফাইনালের দৌড়ে নিজেদের সর্বোচ্চ অবস্থান তৈরি করতে হলে এই পাঁচ ম্যাচেই জিততে হবে বাংলাদেশকে। সব কটি ম্যাচ জিতলে দলের পয়েন্ট হবে ১০০ এবং পিসিটি দাঁড়াবে ৬৯.৪৪ শতাংশে। কিন্তু পাঁচটির মধ্যে একটি ম্যাচে হার এবং বাকি চারটিতে জয় পেলে পিসিটি নেমে আসবে প্রায় ৬১.১১ শতাংশে। এমন অবস্থান নিয়ে শীর্ষ দুইয়ে জায়গা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হবে।
তবে কাগজে-কলমের এই হিসাব বাস্তবে মেলানো সহজ নয়। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জেতা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এখনো কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। আগের আটটি টেস্টের সব কটিতেই হেরেছে দলটি। সেই ইতিহাস বদলে দুই ম্যাচের সিরিজে স্বাগতিকদের হোয়াইটওয়াশ করতে হবে টাইগারদের।
এরপর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জিততে হবে দুটি টেস্ট। পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেটের ম্যাচটিতেও জয় তুলে নিতে হবে। সব কটি ম্যাচ জিতলেও ফাইনালে ওঠা নিশ্চিত হবে না; নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বাকি ম্যাচগুলোর ফলও বাংলাদেশের পক্ষে আসতে হবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণটা কঠিন। একদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টেস্ট জয়ের পরীক্ষা। পাঁচ ম্যাচে পূর্ণ জয় ছাড়া পয়েন্টের শতকরা হার বাড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে আসবে। এখন মিরাজের দল কতটা ভালোভাবে বাকি ম্যাচগুলো কাজে লাগাতে পারে, সেটিই দেখার বিষয়।





