সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের সমাবেশ, পাল্টা কর্মসূচি বিজেপির
রোববার (১ নভেম্বর) নয়াদিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার সমাবেশে হাজারো মানুষ অংশ নেন। দাবি ছিল সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে এবং এতে বিজেপি সুবিধা পাবে। নির্বাচন কমিশন বলছে, উদ্দেশ্য ভুয়া ও অযোগ্য নাম বাদ দেওয়া। বিজেপি সমাবেশকে "পরিকল্পিত নাটক" বলেছে এবং একই দিনে ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার স্মরণে পাল্টা মিছিল করেছে। গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে প্রায় প্রতিদিন সিইসির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ চলছে।#IndiaPolitics #RahulGandhi #ElectionCommission #NewDelhi #MeehaNews

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। রোববার (১ নভেম্বর) রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা এসআইআর) নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ১৩ কোটির বেশি মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে সুবিধা পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দুপুরে কনট প্লেস এলাকা থেকে মিছিল রামলীলা ময়দানের দিকে যায়। জাতীয় ও দলীয় পতাকা হাতে অংশ নেন বিক্ষোভকারীরা, বিরোধী নেতারা খোলা জিপে মিছিলের নেতৃত্ব দেন। সমাবেশে ছিলেন কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এবং আরজেডির তেজস্বী যাদব।
রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ ছাড়তে হবে এবং তাঁকে সরানোর মধ্য দিয়েই দেশকে ‘সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার’ প্রক্রিয়া শুরু হবে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে তিনি প্রত্যেক নাগরিকের কণ্ঠস্বর চুরির শামিল ও ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ বলে বর্ণনা করেন।
সমাবেশে আসা কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠনের সদস্য রীনা মাহতো রয়টার্সকে বলেন, ছত্তিশগড়ের জগদলপুরে দীর্ঘদিন বসবাস করলেও ভুল তথ্যের কারণে তাঁর পরিবারের চারজনের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাঁদের “অন্যত্র চলে যাওয়া” হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, নাম বাদের ক্ষেত্রে মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘু ভোটাররা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের বড় অংশ বিজেপিকে সমর্থন করেন না। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম ও ভোটের অযোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিতেই তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে কমিশন বলেছে, ভুলবশত যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা আবার নিবন্ধন করতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্টে অক্টোবরের শেষ দিকে দাখিল করা হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরের তিনটি আদেশই তিন সদস্যের কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত ছিল। তাদের বক্তব্য, খসড়া পর্যায়ে ‘অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, মৃত বা দ্বৈত’ হিসেবে চিহ্নিত নাম চূড়ান্ত বাদ নয়। (নিউজএজের প্রতিবেদন অনুযায়ী)
বিজেপি সমাবেশকে নাটক আখ্যা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এএনআইকে বলেন, রামলীলা ময়দানে যা হচ্ছে তা গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দেওয়ার পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। বিজেপির অভিযোগ, বৈধ নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা গণতন্ত্রকে দুর্বল করছে। একই দিনে দিল্লির হরিনগর থেকে তিলকনগর পর্যন্ত ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার শিকারদের স্মরণে মিছিল করে বিজেপি, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হারদিপ সিং পুরি ও দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত ছিলেন। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক সদস্য মোতায়েন ছিল, এর মধ্যে রামলীলা ময়দান ও মিছিলপথে প্রায় ৪ হাজার।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে সিইসির পদত্যাগের দাবিতে প্রায় প্রতিদিন বিক্ষোভ করছে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি। ২৩ সেপ্টেম্বর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে অপর দুই নির্বাচন কমিশনার লিখিতভাবে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন। এই প্রতিবেদনের পরই বিক্ষোভ জোরালো হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি রাহুল গান্ধী ও খাড়গেসহ বিরোধী নেতারা এসআইআর চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যৌথ আবেদন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের বাড়তি সমর্থন ও ধারাবাহিক বিক্ষোভ ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর মোদির জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তবে সরকার এখনো স্থিতিশীল, আর ভারতে পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন ২০২৯ সালে।





