টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির গোপন ল্যাব, ইউটিউব দেখে উদ্যোগ নেওয়া যুবক গ্রেপ্তার
টঙ্গীর পাগাড় আলেরটেক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলায় ইয়াবা তৈরির ল্যাব সাজানোর প্রস্তুতির সময় নাজমুল ইসলাম বাপ্পিকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে রাসায়নিক, কাঁচামাল, ভ্যাকুয়াম পাম্পসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট জব্দ হয়েছে। বাপ্পির দাবি, প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে তিনি ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য নিয়ে এ পরিকল্পনা করেন। তাঁকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য কেউ জড়িত কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।#Tongi #Gazipur #Yaba #MeehaNews

গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির গোপন পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি) সাজানোর প্রস্তুতির সময় নাজমুল ইসলাম বাপ্পি (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উৎপাদন শুরুর আগেই অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে।
টঙ্গীর পাগাড় এলাকার আলেরটেকে বিসিক শিল্পনগরীসংলগ্ন একটি নির্মাণাধীন চারতলা আবাসিক ভবনের তৃতীয় তলায় ল্যাবটি তৈরি হচ্ছিল। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে অভিযান চালিয়ে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে ভবনটির ওপর নজর রাখছিল পুলিশ। অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম।
পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন তরল ও গুঁড়া রাসায়নিক, কাঁচামাল, কাচের বোতল, মাপার যন্ত্র, ফিল্টারেশন ও ভ্যাকুয়াম পাম্প এবং হিটিং সেটআপ জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবাসদৃশ ৪৫টি ট্যাবলেট, ফিল্টার পেপার, রাসায়নিক সংরক্ষণের উপকরণ এবং রাসায়নিকের নাম ও পরিমাপ লেখা একটি খাতা পাওয়া গেছে।
পরিকল্পনা ছিল, শুরুতে প্রতিদিন ৫০ লাখ এবং পরে এক কোটি ইয়াবা বড়ি তৈরি করা হবে। ওসি মাকছুদুল আলম বলেন, টঙ্গী, গাজীপুর ও ঢাকায় ইয়াবার চাহিদা বেশি থাকায় অধিক লাভের আশায় বাপ্পি এ উদ্যোগ নেন। প্রথম ধাপে টঙ্গীর মাজার বস্তি, ব্যাংকমাঠ বস্তি, কেরানিরটেক বস্তি ও টঙ্গী নদীবন্দরসহ আশপাশের মাদকবাজারে সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল তাঁর। উৎপাদনের আগেই স্থানীয় ক্রেতাদের একটি নেটওয়ার্ক গড়তে গেলে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। ওসির ভাষ্য, ল্যাবটি চালু হলে এলাকায় ইয়াবার বড় উৎস হয়ে উঠতে পারত।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি জানান, তিনি কুমিল্লার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল, অটোমোবাইল) পাস করেছেন। তাঁর দাবি, প্রেমের বিরহে নিঃস্ব হয়ে পড়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন এবং ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন।
বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের বড় ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, কয়েক বছর আগে সৌদি আরব থেকে ফেরার পর তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন।
টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই ভবনে ইয়াবা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান মজুত ছিল। বাপ্পির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নূরে আলম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। বাপ্পিকে সাত দিনের রিমান্ড আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না কিংবা সংঘবদ্ধ কোনো চক্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





