উদ্বোধনের দুই বছরেও চালু হয়নি বাউফলের সাধারণ পাঠাগার, ইউএনও বললেন এ সপ্তাহেই খোলা হবে
প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে তৈরি বাউফল সাধারণ পাঠাগার উদ্বোধনের প্রায় দুই বছরেও চালু হয়নি। পরিচালনা কমিটি ও কেয়ারটেকার না থাকায় ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে। ভেতরের বই ও আসবাব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সামনের জায়গায় অটোরিকশা রাখা হয়, আশপাশে দুর্গন্ধ। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেছেন, এই সপ্তাহের মধ্যে পরিষ্কার করে পাঠাগার খুলে দেওয়া হবে।#Baufal #Patuakhali #Library #MeehaNews

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা সদরে পাবলিক মাঠসংলগ্ন সাধারণ পাঠাগারটি উদ্বোধনের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও চালু হয়নি। প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মিত ভবনটি অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ভেতরের বই ও আসবাব নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিচালনা কমিটি ও কেয়ারটেকার নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, উদ্বোধনের পর থেকেই ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ভেতরে বই ও আসবাব পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলো নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ভবনের সামনের জায়গায় সারি করে অটোরিকশা রাখা হচ্ছে। আশপাশে মূত্রত্যাগের কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে পাঠাগারের ছাদে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯১ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিয়াজ উদ্দিন মিয়ার সময় পাবলিক মাঠের পূর্ব পাশে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বাউফল সরকারি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল সাত্তার। পরে দায়িত্ব পালন করেন কেশবপুর কলেজের সাবেক অধ্যাপক এ কে এম হুমায়ুন কবির। সদস্যদের ভোটে গঠিত পরিচালনা কমিটি পাঠাগারটি চালাত। প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এটি সবার জন্য খোলা থাকত। শিক্ষার্থীসহ নানা পেশার মানুষ বই ও সংবাদপত্র পড়তে আসতেন।
ভবন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় একসময় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। নতুন ভবনের দাবি তোলেন স্থানীয় তরুণ, শিক্ষার্থী ও কয়েকজন সাংবাদিক। সেই দাবির প্রেক্ষিতে বাউফলের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক চিফ হুইপ আসম ফিরোজ এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালেব হাওলাদার নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, পাঠাগার চালু হলে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ বই পড়ার সুযোগ পেতেন। দ্রুত এটি চালু করে জনসাধারণের ব্যবহারের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চালু হলে শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবইয়ের বাইরে জ্ঞানমূলক বই, পত্রিকা ও সাময়িকী পড়ার সুযোগ পেতেন। তরুণদেরও মাদক ও অসামাজিক কাজ থেকে দূরে রাখা যেত।
বাউফলের ইউএনও সালেহ আহমেদ বলেন, ‘এই সপ্তাহের মধ্যে পাঠাগারটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হবে।’





