জেরুজালেম নগরী যার সমগ্র বিশ্বের কর্তৃত্ব তার !
কলামিস্ট মঈনউদ্দীন মুনাওয়ারের মতে, আরব বসন্ত আরব বিশ্বে শান্তি নয়, যুদ্ধ আর ধ্বংস এনেছে। হরমুজ প্রণালি থেকে বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন অগ্নিগর্ভ। তাঁর বিশ্লেষণে, এই অস্থিরতার পেছনে রয়েছে জেরুজালেম ও আল-আকসার কর্তৃত্ব দখলের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। গাজায় ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতির পরও পশ্চিম তীর ও গাজায় দখল, উচ্ছেদ ও হত্যা চলছে বলে লেখকের অভিযোগ। ইতিহাসের নানা পর্ব টেনে লেখকের মত, যে শক্তির হাতে জেরুজালেমের কর্তৃত্ব ছিল, তারাই বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করেছে।#Jerusalem #AlAqsa #MiddleEast #Opinion #MeehaNews

আরব বসন্ত প্রকৃতপক্ষে আরব বিশ্বের জন্য বসন্ত নিয়ে আসতে পারেনি; বরং বসন্তের ছদ্মবেশে তা বয়ে এনেছে চরম ধ্বংসযজ্ঞ। এই তথাকথিত বসন্তের হাত ধরেই সমগ্র অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধবিগ্রহ, যা লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুহারা করেছে। সহায়-সম্বলহীন মানুষের ক্ষুধার তীব্র হাহাকার, পিতা-মাতা হারানো এতিম শিশুদের গগনবিদারী চিৎকার, স্বজন হারানোর অসহ্য বেদনা আর চালচুলোহীন মানুষের দীর্ঘশ্বাসে আজ আরব বিশ্বের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। সম্পদ ও সম্ভ্রম হারানো এই নিঃস্ব মানুষগুলোর অসহায়ত্ব প্রমাণ করে যে, গোটা মধ্যপ্রাচ্য আজ এক জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির লাভার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে শান্তির ছিটেফোঁটাও নেই।
ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবেও এই যুদ্ধ আজ পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। আরব উপদ্বীপের পূর্ব দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনায় বৈশ্বিক বাণিজ্যের ধমনী খ্যাত ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, পশ্চিমে লোহিত সাগর ও আরব সাগরের সংযোগস্থল ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এবং হুতি মিলিশিয়াদের মধ্যকার তীব্র যুদ্ধ পুরো পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। এক কথায়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যই এখন এক জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড। এই পরিবেশ-পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে ভূ-রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি মূলত ঐতিহাসিক ‘আল-আকসা ও জেরুজালেম নগরী’ দখলের পথকে সুগম করারই একটি সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।
২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি হয়। ১০ অক্টোবর ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইসরায়েল ও হামাস স্বাক্ষর করে। সর্বশেষ মিসরের শারম আল-শেখে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ট্রাম্প, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, কাতারের আমির শেখ তামিমসহ ২০টি দেশের প্রতিনিধি গাজাসংক্রান্ত শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের চালানো হামলার ২ বছর ২ দিন পূর্ণ হয়েছে; ঠিক এই দিনই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো। হামাসের ওই হামলায় ১২০০ মানুষ নিহত এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করা হয়েছিল। এরপর ইসরায়েল গাজায় আকাশ, নৌ ও স্থলপথে ব্যাপক অভিযান শুরু করে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, এই অভিযানে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যার অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার। আহত ও নিহত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত হারে বাড়ছে। ইউএনডিপির (UNDP) তথ্যানুসারে, গাজার ৮০ শতাংশের বেশি ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের (UNHRC) স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের (Independent International Commission of Inquiry) চেয়ারম্যান এস. মুরলিধরন গাজায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের ওপর একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে শিশুদের সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করা, চিকিৎসাব্যবস্থা ধ্বংস, যৌন সহিংসতা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে দায়ী করা হয়েছে। এই যুদ্ধে ২০,১৮৯ জন শিশু নিহত ও ৪৪,১৪৩ জন আহত হয়েছে; ১ হাজারেরও বেশি শিশুর অঙ্গচ্ছেদ হয়েছে এবং বাবা-মা হারিয়ে অনাথ হয়েছে ৫৮,০৫৪ জন। ৯৬–৯৭ শতাংশ স্কুল ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকল শিশু হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে। এদিকে অস্ত্র চোরাচালানের অজুহাতে ২০০৯ সাল থেকে ইসরায়েল সমুদ্রপথ অবরোধ করে রেখেছে। ইসরায়েলের নৌ-অবরোধ ভেঙে দিতে গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ৪০টি জাহাজ ও ৪৪টি দেশের ৫০০ যাত্রী নিয়ে স্পেন থেকে সমুদ্রপথে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করে। তবে ইসরায়েলের নৌবাহিনীর বাধায় এই প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়। এত অত্যাচারের পরও পৃথিবীর বৃহত্তম খোলা কারাগারে বসবাসরত গৃহহীন মানুষেরা আবারও শান্তির আশায় দক্ষিণ থেকে উত্তরে তাদের বিধ্বস্ত বাড়িঘরে ফিরে গেছে। কিন্তু শান্তি তাদের কত দিন স্থায়ী হবে, তা ভবিষ্যদ্বাণী করা অসম্ভব। এদিকে সমগ্র পৃথিবী যখন ইউক্রেন, ইরান, হুতি, হরমুজ এবং বাব আল-মান্দেব নিয়ে ব্যস্ত আছে, ঠিক সেই সময় গোপনে ইসরায়েলি বাহিনী অধিকৃত পশ্চিম তীর ও গাজায় দখল, উচ্ছেদ ও নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চলমান রেখেছে।
হুতি ও ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া সৌদি আরবে মুহুর্মুহু আক্রমণ করছে। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ দামি অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করেও এই হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। মধ্যপ্রাচ্যে এই অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে লেবাননের বেশ কিছু অংশ ইসরায়েল দখলে নিয়েছে। এখন সিরিয়ার দিকে তাদের বিশেষ মনোযোগ। প্রকৃতপক্ষে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য নিদারুণ জরাগ্রস্ত পরিস্থিতির মধ্যে চলে গেছে। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের শাসন এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ভেঙে পড়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখন প্রশ্ন হলো, কার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভ? কার স্বার্থে এই চরম অরাজকতা? সবচাইতে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মধ্যপ্রাচ্যে শাসন ও শাসকের পরিবর্তন হয়ে নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যে মধ্যপ্রাচ্যের কর্তাই হবে ইসরায়েল। জেরুজালেম হবে তাদের রাজধানী। বায়তুল মোকাদ্দাস হবে শাসনের মূল কেন্দ্র। মূলত বর্ণিত কারণে জেরুজালেম ও বায়তুল মোকাদ্দাস তাদের কাছে অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ।
জেরুজালেম নগরী ও বায়তুল মোকাদ্দাস মুসলমান, খ্রিষ্টান ও ইহুদি—এই তিন ধর্মের মানুষের কাছে পবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী দাবি করায় রাজনৈতিকভাবে এই নগরীর গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্র হলো জেরুজালেম নগর ও বায়তুল মোকাদ্দাস। যে জাতি বা শাসকের হাতে এই নগরীর কর্তৃত্ব ছিল, তারাই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ ও শাসন করেছে। বুখারি শরিফের হাদিস (৩৪২৫ নং) অনুযায়ী কাবা শরিফ ও বায়তুল মোকাদ্দাসের নির্মাণকালের পার্থক্য মাত্র ৪০ বছর। সেই হিসেবে ঐতিহাসিকেরা অনুমান করেন, আদম (আ.) প্রথম এটি নির্মাণ করেন। নুহ (আ.)-এর সময়ে মহাপ্লাবনে বায়তুল মোকাদ্দাস ধ্বংস হলে ইবরাহিম (আ.) পুনর্নির্মাণ করেন। ইয়াকুব (আ.) ও ইসহাক (আ.) পবিত্র মসজিদটি পরিচর্যা করেন। অতঃপর সোলাইমান (আ.) আল-আকসা চত্বরে বিশাল ভবন নির্মাণ করেন, যেটি হায়কালি সোলাইমান নামে পরিচিত। পরবর্তীকালে ইহুদিরা এটা বিকৃত করে এর নাম দেয় সোলাইমান টেম্পল। সোলাইমান (আ.) সমগ্র পৃথিবীর শাসক ছিলেন এবং তাঁর শাসনাধীন ছিল বায়তুল মোকাদ্দাস। সোলাইমান (আ.)-এর মৃত্যুর প্রায় ৪১৫ বছর পর ৫৯৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে নেবুচাদনেজার (বখতে নসর) জেরুজালেম দখল করে প্রচুর ধনসম্পদ ও নবিদের স্মৃতিচিহ্ন লুট করে নিয়ে যান। নেবুচাদনেজার ৫৮৭ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে দ্বিতীয়বার আক্রমণ করে আল-আকসাসহ জেরুজালেম নগরী ধ্বংস করেন। এ সময় তিনি ইহুদিদের বাবেল শহরে নির্বাসন দেন। উল্লেখ্য, নেবুচাদনেজারও (বখতে নসর) সমগ্র পৃথিবীর শাসক ছিলেন। এরপর পারস্য সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলনের রাজা নাবোনিডাসকে পরাজিত করে বাবেল শহর দখল করেন। পারস্য সম্রাট ইহুদিদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে তাদের আবার জেরুজালেমে ফিরিয়ে আনেন। ওই সময় ইহুদিরা বায়তুল মোকাদ্দাস পুনর্নির্মাণ করে। তখন সমগ্র দুনিয়ায় পারসিকদের জয়জয়কার ছিল। রোমান সম্রাট পম্পেই দ্য গ্রেট খ্রিষ্টপূর্ব ৬৩ সালে জেরুজালেম শহরটি দখল করেন। পরবর্তী সময়ে ৩১২ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সম্রাট কনস্টান্টিনোপল ব্যাটল অব মিলভিয়ান ব্রিজ যুদ্ধে জয়লাভ করেন এবং খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হন। এ সময় পুরো পৃথিবীর নেতৃত্ব দিত রোমানরা। ১৫ হিজরি মোতাবেক ৬৩৬ খ্রিষ্টাব্দে উমর (রা.)-এর শাসনামলে মুসলিম বাহিনী জেরুজালেম নগর দখল করে আল-আকসা নিয়ন্ত্রণে নেয়। ৬৩৭ খ্রিষ্টাব্দে উমর (রা.)-এর কাছে জেরুজালেমের খ্রিষ্টানরা আত্মসমর্পণ করে বায়তুল মোকাদ্দাসের চাবি হস্তান্তর করে। তখন উমর (রা.) অর্ধজাহানের শাসক ছিলেন। সমগ্র বিশ্বের চালকের আসনে ছিল মুসলিমরা। খোলাফায়ে রাশেদিনের পর উমাইয়া শাসনের সূচনা হয়। আল-আকসা দামেস্কের নিকটবর্তী হওয়ায় উমাইয়া খলিফারা এই মসজিদকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। উমাইয়াদের পরে আব্বাসীয় খলিফাদের শাসনাধীন হয় আল-আকসা। উমাইয়া ও আব্বাসীয় যুগে মুসলিমরা ছিল সমগ্র পৃথিবীতে অজেয়। ৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসীয়রা মিসরের ফাতেমীয় বাহিনীর কাছে পরাজিত হয়। জেরুজালেম নগরী চলে যায় ফাতেমীয় শাসনের অধীনে। ১০৭৩ খ্রিষ্টাব্দে জেরুজালেম সেলজুকদের শাসনাধীন হয়। তার অল্প কিছুকাল পরেই ১০৯৯ সালে ক্রুসেডাররা আল-আকসা দখল করে। তারা মসজিদুল আকসাসহ ইসলামি ঐতিহ্যগুলোকে ধ্বংস করে গির্জায় রূপান্তরিত করে। ১১৮৭ সালে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি হিত্তিনের যুদ্ধে ক্রুসেডারদের পরাজিত করেন। উল্লেখ্য, ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে তারিক বিন জিয়াদের নেতৃত্বে মুসলমানরা স্পেন বিজয় করে। ১৪৯২ সালের ১ এপ্রিল প্রায় ৮০০ বছর শাসনের পর স্পেনে মুসলমানদের পরাজয় হয়। তবে এই সময়ে সমগ্র ইউরোপ কখনোই এক হয়ে স্পেনের ওপর আক্রমণ করেনি, যেভাবে তারা আক্রমণ করেছে বায়তুল মোকাদ্দাস দখলের জন্য।
১৫১৭ খ্রিষ্টাব্দে সুলতান প্রথম সেলিমের সময় জেরুজালেম উসমানীয় শাসকদের নিয়ন্ত্রণে আসে, যা ১৯১৭ সাল পর্যন্ত অটুট ছিল। বলা বাহুল্য, উসমানীয়রা ছিল তিন মহাদেশের (ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা) শাসক। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে (১৯১৪–১৮) উসমানীয়দের (অটোমান) পরাজয়ের মাধ্যমে এই পবিত্র ভূমির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় গ্রেট ব্রিটেনের হাতে। ব্রিটেন তখন পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করত। ওই সময় ব্রিটেন সম্পর্কে বলা হতো, ‘ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সূর্য কখনো অস্ত যায় না।’ ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ তত্ত্বাবধানে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ইসরায়েল রাষ্ট্রের সূচনা হয়। ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট শেষ হলে ওই দিনই ইসরায়েল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি খর্ব হতে থাকে। অপরদিকে আমেরিকা বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রে চলে আসে। তারপর থেকে আমেরিকার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় ইসরায়েল জেরুজালেম নগর ও বায়তুল মোকাদ্দাস দখলে রেখেছে। আর বর্তমানে বিশ্বক্ষমতার নাটাই আমেরিকা ও ইসরায়েলের হাতে। ইহুদিরা এই জেরুজালেম দখলের জন্য মুসলমানদের প্রায় ১৩০০ বছর ধরে চলে আসা খেলাফত সিস্টেম (সর্বশেষ অটোমান খেলাফত) ১৯২৩ সালে ধ্বংস করে দেয়। সুতরাং বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্বনেতৃত্বের কেন্দ্রই জেরুজালেম নগর ও বায়তুল মোকাদ্দাস। এখন দেখার বিষয়, আমেরিকা ও ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কত দূরে যাবে?
লেখক: কলামিস্ট ও সংবাদ বিশ্লেষক
ই-মেইল: expertdu88@gmail.com





