হেবরনে অবরোধ ও বাড়িঘর ভাঙা, দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি পরিবার বাস্তুচ্যুত
আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেবরনে প্রায় ৫ লাখ ফিলিস্তিনি অবরোধ ও হামলার মধ্যে রয়েছেন। দুই শতাধিক পরিবারকে গভীর রাতে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি সেনারা সামরিক চৌকিতে পরিণত করেছে। শুক্রবারের গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর হেবরনে পূর্ণ অবরোধ আরোপ করা হয়। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় হেবরনের শিশুদের আগামী দুই দিন বাড়িতে রাখার পরামর্শ দিয়েছে।#Hebron #WestBank #Palestine #MeehaNews

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অবরোধ, হামলা ও ঘরবাড়ি ভাঙার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫ লাখ ফিলিস্তিনি এখন অবরোধের মধ্যে আছেন। দুই শতাধিক পরিবারকে গভীর রাতে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কবে ফিরতে পারবেন, তা তাঁরা জানেন না।
আলজাজিরার সাংবাদিক নুর ওদেহ পশ্চিম তীরের বিরজেইত থেকে প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন। তাঁর বর্ণনায়, ইসরায়েলি বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞের পর হেবরনের ফারশ আল-হাওয়া এলাকা সম্পূর্ণ বদলে গেছে। শহরের অন্য এলাকাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
শুক্রবার হেবরনের কাছে একটি সামরিক চৌকিতে গুলির ঘটনায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত ও তিনজন আহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, সন্দেহভাজন দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। এরপর সেনাবাহিনী হেবরনে “পূর্ণ অবরোধ” আরোপ করে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পুরো পশ্চিম তীর বন্ধের নির্দেশ দেন। সেনাবাহিনী ও ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ) যৌথ বিবৃতিতে একে কয়েক দিনের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান বলেছে। নেতানিয়াহু ঘটনাস্থলে গিয়ে বলেন, বাসিন্দাদের সরিয়ে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালানো হবে এবং “সন্ত্রাসী অবকাঠামো” ধ্বংস করা হবে।
হেবরনের মেয়র ইউসুফ আল-জাবারি জানিয়েছেন, অভিযান মূলত আইন দেইর বাহা ও ফারশ আল-হাওয়া এলাকায় চলছে। এতে বাড়িঘরের পাশাপাশি দোকান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হেবরনের উপমেয়র খালেদ আল-কাওয়াসমি মিডল ইস্ট আইকে বলেন, মাঝরাতের দিকে অভিযান শুরু হয় এবং বাসিন্দাদের বাড়ি ছাড়তে এক ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়। বাসিন্দারা বলছেন, সময় দেওয়া হয়েছিল মাত্র পাঁচ মিনিট। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বিসেলেম বাসিন্দাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদের পরিকল্পনার নিন্দা করেছে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক দখল করা কয়েকটি বাড়িতে সেনারা অবস্থান নিয়ে সেগুলোকে সামরিক চৌকি বানিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য হেবরন পৌরসভা অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছে। এই দুর্ভোগ কত দিন চলবে, কেউ জানে না। ফিলিস্তিনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় হেবরনের স্কুলগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে। আগামী দুই দিন শিশুদের বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম তীরে চলাচলে কড়াকড়ি
পুরো পশ্চিম তীরেই ফিলিস্তিনিদের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর শত শত তল্লাশিচৌকি ফিলিস্তিনি জনপদগুলোকে একে অপরের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। এসব চৌকি কখনো খোলা থাকছে, আবার কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনেক ফিলিস্তিনি সম্ভব হলে বাইরে বের হওয়া এড়িয়ে চলছেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চৌকিতে ফিলিস্তিনিদের বছরে গড়ে ৭৭ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে অর্থনীতি ও মৌলিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বসতি স্থাপনকারী ও সেনাবাহিনীর হামলা বাড়তে থাকায় এই অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা করা হয়েছে।





