শাহজালালের মাজারে পঞ্চমবার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার টাকা
শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চমবারের গণনায় তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। টাকার সঙ্গে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা, ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা মিলেছে। দানের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নে, বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় হবে। কর্মী নিয়োগ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিন গণনা চালু হয়নি। আপাতত মাসে একবার গণনা হবে।#ShahjalalMazar #Sylhet #DonationBox #MeehaNews

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্সে এবার ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে গণনা শেষে সন্ধ্যায় এ তথ্য জানান সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
জেলা প্রশাসকের তথ্য অনুযায়ী, নগদ টাকার সঙ্গে ১ ভরি সাড়ে ৮ আনা সোনা ও ৩ ভরি ১৩ আনা রুপা মিলেছে। বিদেশি মুদ্রার মধ্যে আছে ৭ হাজার ৬৪৭ ভারতীয় রুপি, ২৯ মার্কিন ডলার, ১৪ ব্রিটিশ পাউন্ড, ৯৩ সৌদি রিয়ালসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের মুদ্রা। গণনা শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টায়। এ সময় ভক্তদের বিভিন্ন দাবি ও আবেদনসংবলিত চিঠিও পাওয়া যায়।
নজরানা হিসেবে আসা পশুর হিসাবও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য, ৩৫ দিনে সাতটি গরু ও ৩১০টি ছাগল এসেছে। চারটি গরু লঙ্গরখানায় শিরনি করা হয়েছে, বাকি তিনটি পেয়েছেন খাদিমরা। ছাগলের মধ্যে ২৫টি জবাই করে বিতরণ করা হয়েছে, ২১০টি লঙ্গরখানায় খাওয়ানো হয়েছে। ২৭টি ভক্তরা নিজেরাই শিরনি করেছেন, ৪৮টি পেয়েছেন খাদিমরা।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে ২৩ সেপ্টেম্বর গঠিত কমিটির সভায় প্রতিদিন দানের টাকা গণনার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ জন্য একজন ব্যবস্থাপক, একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগ দেওয়ার কথা। নিয়োগ শেষ না হওয়ায় প্রতিদিনের গণনা এখনো শুরু হয়নি।
জেলা প্রশাসক জানান, আপাতত মাসে একবার টাকা গণনা করা হবে। নিয়োগের জন্য ইতিমধ্যে সিভি জমা পড়েছে। তিনি আশা করছেন, আগামী মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হবে। কর্মী নিয়োগের পর প্রতিদিন গণনা চলবে। তার আগে বর্তমান ব্যবস্থায় আরও একবার গণনা হতে পারে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানবাক্সের টাকার ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয় হবে। এ অর্থ সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা থাকবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে দৈনন্দিন খরচ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক বলেন, টাকা আগের মতোই ব্যাংক হিসাবে থাকবে। এখান থেকে বিদ্যুৎ বিলসহ কিছু ইউটিলিটি বিল ও আনসার সদস্যদের বেতন দেওয়া হবে।
মাজারে বহু বছরের প্রথা ভেঙে প্রথম প্রকাশ্যে গণনা হয় ২২ জুন, তখন পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এরপর ১১ জুলাই ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর ৮৮ লাখের বেশি টাকা মেলে। পাঁচ দফায় দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ এখন ৩ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার ১৪৪ টাকা। এতে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে দেওয়া ৫ লাখ টাকা ধরা হয়নি।





