বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলার চুরি, সন্দেহের তালিকায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা
বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ক্রিপ্টো খাতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি। টিআরএম ল্যাবস ও চেনালাইসিসের ধারণা, হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা আছে। পিয়ংইয়ং এ ধরনের অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে, আর বাইন্যান্স এখনো কাউকে দায়ী করেনি। বাইন্যান্স প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদের সন্ধান পেয়েছে। বাকি ৩৩০ কোটি ডলারের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি কিছু জানায়নি। উত্তোলনসেবা বন্ধ আছে। প্রতিষ্ঠানটি ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে তা চালুর আশা করছে এবং ক্ষতির দায় নিজেরা নেওয়ার কথা বলেছে।#Binance #CryptoHack #NorthKorea #Cryptocurrency #MeehaNews

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্রিপ্টো খাতের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় চুরি। মার্কিন ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবস ও চেনালাইসিসের ধারণা, হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা আছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গভীর রাতে শুরু হওয়া হামলার মূল অংশ শেষ হয় প্রায় ২০ মিনিটে। দুই প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে হামলার কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার আগের সাইবার হামলার মিল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিটে চালানো হামলার সঙ্গে মিল আছে, যে ঘটনায় উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। টিআরএম ও চেনালাইসিস দুই প্রতিষ্ঠানই বলেছে, এ বিষয়ে তারা উচ্চমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী। উত্তর কোরিয়া এ ধরনের অভিযোগ বরাবর অস্বীকার করে। রয়টার্স মন্তব্য চেয়ে জেনেভায় দেশটির মিশন ও চীনে দূতাবাসে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিক সাড়া পায়নি।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, তারা সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রেখেছে। সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেছেন, গ্রাহকদের অর্থ নিরাপদ এবং সব ক্ষতির দায় প্রতিষ্ঠানটি নেবে। তাঁর ভাষ্য, এখন পর্যন্ত তদন্তে এ ঘটনার জন্য কোনো ব্যক্তিকে দায়ী করা যায়নি। গ্রাহকদের সম্পদ রক্ষায় বাইন্যান্সের এক বিলিয়ন ডলারের বিটকয়েন রিজার্ভ ‘সিকিউর অ্যাসেট ফান্ড ফর ইউজারস’ আছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদের সন্ধান মিলেছে এবং ৪৫ ঘণ্টার মধ্যে উত্তোলনসেবা চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাকি ৩৩০ কোটি ডলার নিয়ে তারা কিছু জানায়নি।
চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় অর্ধেক দ্রুত জব্দ করেছে স্টেবলকয়েন (stablecoin) ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। টেথার প্রায় ১৫৭ কোটি এবং সার্কেল ৮০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ জব্দ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-সমর্থিত ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল কাস্টডিয়ান প্রতিষ্ঠান বিটগোর সঙ্গে কাজ করেছে। বাইন্যান্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা ইয়ে হে জানিয়েছেন, ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের স্টেবলকয়েন এবং ওয়ার্ল্ড লিবার্টির প্রায় ২০ লাখ ডলারের টোকেন জব্দ হয়েছে।
হামলা কীভাবে শুরু, তা নিয়ে বাইন্যান্সের ধারণা বদলেছে। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এক প্রকৌশলীর হ্যাক হওয়া ল্যাপটপ থেকে হামলাকারী একটি সিস্টেমে ঢুকে অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন করে। পরে তারা নিরাপত্তাব্যবস্থায় আরও কয়েকটি দুর্বল প্রবেশপথ পায়। এএফপির খবরে বলা হয়েছে, বাইন্যান্স সতর্ক করেছে, তদন্ত এগোলে ক্ষতির অঙ্ক বাড়তেও পারে।
হামলার খবরে ক্রিপ্টো বাজারে দরপতন হয়। বিটকয়েনের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে যায়। ইথারের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৭৮ ডলারে পৌঁছায়। বাইন্যান্সের নিজস্ব টোকেন বিএনবির দাম ২৪ ঘণ্টায় ৫ শতাংশ কমে ৭০৯ ডলার ৭০ সেন্টে দাঁড়ায়। বাজারসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান জিএসআরের আরাভিন্দ শ্রীনিবাসন ঘটনাটিকে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হ্যাক’ বলেছেন।
বাইন্যান্সের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্ল্যাটফর্মটিতে নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। ওই বছর তাদের হেফাজতে থাকা সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। টিআরএম ল্যাবসের তথ্যমতে, গত বছর ক্রিপ্টো খাতে প্রায় ১৫০টি হামলায় মোট ২৯০ কোটি ডলার চুরি হয়েছিল।





