ফারজানা আফরোজের সঙ্গে বিয়ে নিয়ে জিডি ও তালাকনামা প্রকাশ করলেন গোলাম মাওলা রনি
গোলাম মাওলা রনি ৬ নভেম্বর ফেসবুকে ২০২৫ সালের ২৯ জুনের একটি জিডির কপি ও তালাকনামার ছবি প্রকাশ করেছেন। জিডিতে তিনি দাবি করেছেন, ২০২২ সালের ৫ মে চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে ফারজানা আফরোজ ৯-১০ জনকে নিয়ে তাঁর কক্ষে আসেন। এরপর ফারজানা তাঁকে জানান, তাঁদের বিয়ে হয়েছে। ৫ নভেম্বর ফারজানা বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন। তাতে বিয়ের তারিখ ২০২২ সালের ১৩ মে। রনি কাবিননামার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জিডির দাবিগুলো নিয়ে ফারজানার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।#GolamMaulaRony #FarzanaAfroz #NCP #BangladeshPolitics #MeehaNews

ফারজানা আফরোজের সঙ্গে বিয়ের বিতর্কের মধ্যে ২০২৫ সালে নিউমার্কেট থানায় করা একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি ও তালাকনামার ছবি প্রকাশ করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি। আজ শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এগুলো শেয়ার করেন।
২০২৫ সালের ২৯ জুন করা জিডিতে রনি দাবি করেন, ২০২২ সালের ৫ মে কাজের প্রয়োজনে চট্টগ্রামে গিয়ে তিনি হোটেল রেডিসনে ছিলেন। সেদিন ফারজানা আফরোজ তাঁর মা, ছেলেমেয়ে ও একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৯-১০ জনকে নিয়ে কক্ষে আসেন। রনির ভাষ্য, সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ছবি তোলা পর্যন্ত তাঁর মনে আছে। পরে হুঁশ ফিরলে নিজেকে অসংলগ্ন অবস্থায় দেখতে পান। ফারজানাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, কলমা-কাবিনের মাধ্যমে তাঁদের বিয়ে হয়েছে। রনি লিখেছেন, তিনি পরে কৌশলে হোটেল ছেড়ে ঢাকায় ফেরেন।
জিডিতে রনি আরও অভিযোগ করেন, এরপর ফারজানা তাঁকে চাপ ও হুমকি দিতে থাকেন। ২০২৩ সালের রমজানে ফারজানা ছেলেমেয়েকে নিয়ে সাভারের অরুণাপল্লীতে রনির নির্মাণাধীন বাড়িতে ওঠেন এবং প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। বাড়ি লিখে দিতে চাপ দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি কাবিননামা দেখাতে বললে ফারজানা বাড়ি ছেড়ে যান। কাবিননামা না দেখিয়ে দেনমোহর হিসেবে ১০ লাখ টাকা চান। রনি জানান, সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে তিনি সেই টাকা দেন।
২০২৫ সালের ২৮ জুনের ঘটনার বিবরণও জিডিতে আছে। রনির দাবি, ওই দিন বিকেল ৩টার দিকে ফারজানা তাঁর অফিসে ঢুকে অশালীন আচরণ করেন। তিনি ৯৯৯-এ ফোন করলে শাহবাগ থানার পুলিশ এসে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চেষ্টা করে ফারজানাকে অফিস থেকে বের করে। পরে নিউমার্কেট থানার কর্মকর্তারা দুই পক্ষের কথা শুনে ফারজানার কাছ থেকে কথিত কাবিননামার একটি অনুলিপি সংগ্রহ করেন। রনিও তার একটি কপি পান বলে জিডিতে উল্লেখ করেছেন।
কাবিননামার বৈধতা নিয়ে রনি প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, কাবিননামায় ফারজানাকে অবিবাহিত দেখানো হয়েছে, অথচ তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন। রনির নিজের দ্বিতীয় বিয়ের কথা এবং প্রথম স্ত্রীর অনুমতিপত্রও কাবিননামায় নেই। একই পোস্টে রনি জানান, আইনজীবীদের পরামর্শে তিনি কথিত কাবিন অনুযায়ী তালাকের নোটিশ দিয়েছিলেন। দেনমোহরের ১০ লাখ টাকাও পরিশোধ করেছেন।
গত ৫ নভেম্বর ফারজানা আফরোজ রনির সঙ্গে বিয়ের কাবিননামা প্রকাশ করেন। তাতে ২০২২ সালের ১৩ মে বিয়ে হয়েছে বলে উল্লেখ আছে। রনি তখন তাঁকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন। ফারজানার দাবি, রনি তাঁকে বিয়ে করেছিলেন এবং রনির শাশুড়ি কয়েক মাস তাঁর সঙ্গে ছিলেন।
এনটিভি অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মিডিয়া সম্পাদক ইয়াসির আরাফাত ৫ নভেম্বর জানান, ফারজানা জাতীয় নারী শক্তির একটি কেন্দ্রীয় পদে আসছেন। জিডিতে রনির করা অভিযোগ নিয়ে ফারজানার প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদন লেখার সময় পাওয়া যায়নি।





