স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার দায় ইশরাকের ঘাড়ে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ব্যর্থতার ফাঁদে পড়েছেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পাটওয়ারীর এই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপি সরকার সবার নিরাপত্তার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। তবে ভাঙচুরের নির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি। তাঁর অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিএনপির প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। #NCP #Bangladesh #IshraqueHossain #DurgaPuja #MeehaNews

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেনের ভিডিও নিয়ে বিতর্কের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে দায়ী করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর ভাষ্য, মাদক বন্ধের উদ্যোগ নিতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার ফাঁদে পড়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
আজ সোমবার সকালে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন পাটওয়ারী। এরপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তাঁর মতে, ইশরাক রাজনীতিতে নতুন এসেছেন এবং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিস্তার ঠেকানো। পাটওয়ারী বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন, আরেকজন সেই পাপে ভোগেন।” এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, “গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই?”
পাটওয়ারীর মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর, দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ইশরাক। শনিবার পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় পিস্তল হাতে তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তারপর থেকেই তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখে ছিলেন।
সময়ের আলোর খবর অনুযায়ী, পাটওয়ারী দাবি করেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় এনসিপির নেতা-কর্মীরা হামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা বিএনপির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বললেও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ভালো নেই। গত তিন-চার মাসে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করলেও নির্দিষ্ট সংখ্যা বা স্থানের তথ্য তিনি দেননি। তাঁর মতে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পশু জবাই নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক হিন্দুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মুসলিম নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান পাটওয়ারী। তিনি বলেন, এমন কোনো কাজ করা উচিত নয়, যাতে হিন্দু নাগরিকেরা আহত বোধ করেন। এসব কথা বলার জন্য তাঁকে যেন “শাহবাগী” বা “হিন্দুদের নতুন ভার্সন” বলা না হয়, সে অনুরোধও করেন তিনি। ভুল-বোঝাবুঝি দূর করতে প্রয়োজনে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার পরামর্শ দেন পাটওয়ারী।




