এনসিপি থেকে পদত্যাগ করলেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোটসহ চার কারণের কথা জানালেন
৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি জামায়াতের সঙ্গে জোট, ২০২৬ সালের নির্বাচনী কৌশল, নারীর অবস্থান এবং কাউন্সিল ছাড়া কমিটি পুনর্গঠনকে পদত্যাগের চার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ২৩ অক্টোবর পুনর্গঠিত কমিটিতে তিনি সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক থেকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে নামেন। এনসিপি বা জামায়াতের প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।#NCP #SamantaSharmin #BangladeshPolitics #Jamaat #MeehaNews

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ফেসবুকের এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন। পোস্টে পদত্যাগের চার কারণও তুলে ধরেন তিনি। এনসিপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সামান্তা শারমিন জুলাই অভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২৩ অক্টোবর এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটিতে তিনি শুধু যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকেন। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর সঙ্গে আরিফুল ইসলাম আদীবেরও একই পদাবনতি হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে জোট করার পর তিনি কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এসেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি বলেছিলেন, জামায়াত নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়, তাদের সঙ্গে জোট করলে এনসিপিকে ‘কঠিন মূল্য’ দিতে হবে।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, প্রায় এক বছর ধরে দলের ভেতরে লিখিত অভিযোগ, প্রস্তাব ও আলোচনার মাধ্যমে মতাদর্শিক লড়াই চালিয়েছেন। এখন সেই লড়াইয়ের ইতি টানছেন। তাঁর মতে, এনসিপি আর শুরুর মূল্যবোধের প্রতি আন্তরিক হতে পারবে না।
প্রথম কারণ জামায়াতের সঙ্গে জোট। সামান্তা শারমিনের অভিযোগ, জামায়াত সাংবিধানিক, আইনি ও রাজনৈতিক দলের সংস্কারের কোনোটিকেই নিজের রাজনীতির অংশ মনে করে না এবং তাদের রাষ্ট্রপ্রকল্প গণতান্ত্রিক নয়। তিনি ১৯৭১ সালে জামায়াতের ভূমিকার জন্য ক্ষমা না চাওয়ার প্রসঙ্গও তোলেন। তাঁর অভিযোগ, এই জোটের ফলে এনসিপি জামায়াতের মধ্যে নিজের পরিচয় হারাচ্ছে। এসব তাঁর নিজের বক্তব্য। জামায়াতের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
দ্বিতীয় কারণ ২০২৬ সালের নির্বাচন। তাঁর মতে, এনসিপি একা বা ব্যবস্থা-বদলের পক্ষে থাকা দলগুলোর সঙ্গে গিয়ে রাজনৈতিক নির্বাচন করতে পারত। ‘বড় দলের লেজুড়’ হয়ে নির্বাচনে যাওয়ায় দলের নিজস্ব রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, জোটের পক্ষে যুক্তি হিসেবে ওসমান হাদির মৃত্যুকে ব্যবহার করা অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
তৃতীয় কারণ নারীর অবস্থান। তাঁর অভিযোগ, বিজয়ের পর নারীদের কোণঠাসা করা হয়েছে এবং এনসিপি রক্ষণশীল ও জামায়াতপন্থী প্রবণতার সঙ্গে মিলে গেছে।
চতুর্থ কারণ কাউন্সিল না করে আহ্বায়ক কমিটি পুনর্গঠন। তাঁর বক্তব্য, এর মাধ্যমে এনসিপি পুরোনো দলের মতো ভিন্নমত দমনের পথ নিয়েছে।
পদত্যাগের পর তিনি ‘ঐক্যের রাজনীতি’র কথা বলেন। তাঁর ভাষ্য, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ডে বাংলাদেশের স্বার্থ বিবেচনা করতে হবে। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক উদ্যোগে আগ্রহীদের তিনি যোগাযোগ করতে বলেছেন। নতুন দলের ঘোষণা দেননি।





