মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

ইতালির নামে লিবিয়ায় বন্দি, মুক্তিপণ ও নির্যাতনের শিকার আলমডাঙ্গার পাঁচজন নিঃস্ব

আলমডাঙ্গা উপজেলার তিন গ্রামের পাঁচজন ইতালি যাওয়ার প্রলোভনে লিবিয়ায় বন্দি হন। তাঁদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা মোট ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা খুইয়েছেন। সাগরপথে ইতালির পথে যাত্রার সময় কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। অভিযুক্ত দালাল মোহাম্মদ আলী হাউস টাকা ফেরত দিতে রাজি নন। তাঁর বাবা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলমডাঙ্গার ইউএনও সচেতনতামূলক উদ্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তার কথা জানিয়েছেন।#Chuadanga #Alamdanga #HumanTrafficking #Libya #MeehaNews

লিবিয়া থেকে ফেরা আলমডাঙ্গার পাঁচ ভুক্তভোগী
প্রতারণার শিকার ব্যাক্তিরাছবি: সংগৃহীত

ইতালিতে মাসে ৪-৫ লাখ টাকা আয়ের প্রলোভনে লিবিয়ায় গিয়ে বন্দি হয়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার পাঁচজন। দেশে ফিরলেও জমি, গবাদি পশু আর স্ত্রীর অলংকার বিক্রির টাকা খুইয়ে এখন তাঁরা নিঃস্ব।

ভুক্তভোগীরা হলেন ফুলবগাদী গ্রামের জাহিদ হাসান (৫০), কামরুল ইসলাম (৪২) ও জাহিদুল ইসলাম (২১), নিমতলা গ্রামের আলিফ (২১) এবং বড়গাংনী গ্রামের ছাব্বির আলী। নিমতলার চা-দোকানি আসাদুলের ছেলে মোহাম্মদ আলী হাউসের মাধ্যমে তাঁদের কাছে ইতালি যাওয়ার প্রস্তাব পৌঁছায়। হাউস বিদেশে থাকায় কেউ সন্দেহ করেননি বলে ভুক্তভোগীরা জানান। এই বিবরণ ভুক্তভোগীদের, যা আদালতে প্রমাণিত নয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চুক্তি ছিল অর্ধেক টাকা যাওয়ার আগে ও বাকিটা ইতালি পৌঁছে দেওয়ার পর। সরাসরি ইতালি নেওয়ার কথা থাকলেও কয়েকটি দেশ ঘুরিয়ে তাঁদের লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পাসপোর্ট, মোবাইল ও ভিসার কাগজ কেড়ে নিয়ে আরও ৫৭ জনের সঙ্গে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। এক-একজনকে আলাদা করে নিয়ে পরিবারকে ফোন করানো ও মুক্তিপণ চাওয়া হতো। টাকা না পেলে নির্যাতন চলত। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন দফায় ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। তবু তাঁদের ইতালি পৌঁছানো হয়নি।

তাঁদের অভিযোগ, এরপর টিউবের তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় সাগরপথে ইতালির দিকে পাঠানো হয়। টিউব ফুটো হয়ে ডুবে যাওয়ার সময় কোস্টগার্ড তাঁদের উদ্ধার করে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ধরা পড়ায় তাঁরা বিদেশি কারাগারে বন্দি ছিলেন। মুক্তির জন্য আরও অর্থ দিতে হয়। শেষ পর্যন্ত অন্য এক দালাল ও প্রশাসনিক তৎপরতায় তাঁরা দেশে ফেরেন। পাঁচজনের কেউ কত দিন বন্দি ছিলেন বা কত তারিখে ফিরেছেন, তা বিবরণে নেই।

ফেরার পর টাকা ফেরত চাইলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। হাউস টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। হাউসের বাবা আসাদুল বলেন, তাঁর ছেলে কোনো অন্যায় করেননি। ভুক্তভোগীরা সাগর দেখে ভয়ে নিজেরাই পালিয়ে এসেছেন বলে তাঁর দাবি। নির্যাতনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে জাহিদ হাসান ২৯ লাখ, কামরুল ৩২ লাখ, জাহিদুল ৩৪ লাখ, আলিফ ৩০ লাখ ও ছাব্বির ২২ লাখ টাকা খুইয়েছেন বলে জানান। জাহিদ হাসান ১২ বছর কুয়েতে ছিলেন। তাঁর ৩০০ ভেড়ার খামার ও ট্রাক্টর ছিল। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সব বিক্রি করে তিনি রওনা দেন। আলিফ সেনাবাহিনীর চাকরি ছেড়েছিলেন। ছাব্বির দর্শনা সরকারি কলেজে ইসলামের ইতিহাসে অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনুর আক্তার বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মাধ্যমে বৈধভাবে বিদেশে যাওয়া উচিত। উপজেলা প্রশাসন সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রশাসনের কাছে এলে সহযোগিতা পাবে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

মীর জামান

স্টাফ রিপোর্টার

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।