মাকে হত্যার অভিযোগে কারাবন্দী যশোরের শিক্ষক মামুনুর রশিদ হাসপাতালে মারা গেছেন
যশোরে মাকে বঁটি দিয়ে হত্যার অভিযোগে কারাবন্দী শিক্ষক মামুনুর রশিদ রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। ২৮ অক্টোবর কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়। ২৭ আগস্ট যশোর সদরের বাজে দুর্গাপুরে মা আনোয়ারা বেগম খুন হন। পিবিআই পরদিন সকালে মামুনুরকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়দের দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুনুর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। অতীতে মায়ের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।#Jashore #Bangladesh #CrimeNews #Khulna #MeehaNews

মাকে বঁটি দিয়ে হত্যার অভিযোগে কারাবন্দী যশোরের শিক্ষক মামুনুর রশিদ মামুন (৪৫) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোববার (১ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ সোমবার রাতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২৮ অক্টোবর কারাগারে মামুনুর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেদিনই তাঁকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মামুনুর যশোর সদর উপজেলার বাজে দুর্গাপুর গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেন মাস্টারের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছার লাউজানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক ছিলেন।
গত ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিকেলে বাজে দুর্গাপুরের বাড়িতে মা আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মামুনুরের কথা-কাটাকাটি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে তিনি মাকে মাটিতে ফেলে ধারালো বঁটি দিয়ে গলায় কোপ দেন। আনোয়ারা ঘটনাস্থলেই মারা যান। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে মামুনুর বঁটি ফেলে পালিয়ে যান।
নিহতের আরেক ছেলে মঞ্জুর হাসান কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলার তদন্তভার নেয়। ২৮ আগস্ট সকালে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের তেঘরিয়া এলাকা থেকে মামুনুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের ভাষ্য, ঘটনার প্রায় ১৭ ঘণ্টার মধ্যে প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সংস্থাটির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মামুনুরের দুটি বিয়ে হয়েছিল। প্রায় আট-নয় বছর আগে সদর উপজেলার ভেকুটিয়া গ্রামের মিথিলাকে বিয়ে করেন তিনি, পরে বিচ্ছেদ হয়। এরপর বিয়ে করেন ঝিকরগাছার অমৃতবাজারের রিনাকে। প্রায় ছয় বছর আগে তাঁর সঙ্গেও বিচ্ছেদ হয়। দুই বিচ্ছেদের জন্য মামুনুর মাকে দায়ী করতেন। এ নিয়ে আগেও মায়ের সঙ্গে বিরোধ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল।
এলাকাবাসীর দাবি, পারিবারিক অশান্তির কারণে মামুনুর মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, সেখানে দুই-তিন মাস চিকিৎসা নেন। দীর্ঘদিন বাড়ির বাইরে থাকার পর ২৭ আগস্টই তিনি বাড়িতে ফেরেন। মূল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ বছর পর।





