হ্যালোইনের দিনের বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ ৩১ অক্টোবরকে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নের "অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকির" দিন বলেছেন। ওই দিন সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ২৪ অক্টোবরের মতোই সাঁজোয়া যান ও জলকামান থাকবে। হ্যালোইনের সন্ধ্যায় ডাকা জমায়েত নিষিদ্ধ করা হবে, মুখ ঢেকে বিক্ষোভ করার বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি শুরু হওয়া বিক্ষোভে ১৭ অক্টোবর থেকে সহিংসতা ও লুটপাট চলছে; পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে।#France #Halloween #FranceProtests #MeehaNews

আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে নতুন বিক্ষোভের দিনটি হ্যালোইনের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সহিংসতার আশঙ্কা করছে সরকার। এ জন্য সারা দেশে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারমেরি (Gendarmerie) সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ (Laurent Nuñez) বলেন, ৩১ অক্টোবর জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার “অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি” আছে। মোতায়েনকে তিনি “ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ” বলেন। সংখ্যা ২৪ অক্টোবরের সমান। সাঁজোয়া যান ও জলকামানের মতো যে সরঞ্জাম গত সপ্তাহে ব্যবহার হয়েছিল, তা আরও জোরদার করা হবে।
নুনেজ জানান, হ্যালোইনের সন্ধ্যায় ডাকা জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। তিনি সতর্ক করেন, হ্যালোইন মুখ ঢাকার বৈধ কারণ নয়। তাঁর অভিযোগ, উগ্র বামপন্থী ও ইয়েলো ভেস্ট (Yellow Vest) আন্দোলনের কিছু কর্মী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যালোইনের সন্ধ্যায় “বিপ্লব”-এর ডাক দিয়ে বার্তা ছড়াচ্ছেন। ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন শনিবারের কর্মসূচিকে বিক্ষোভের “তৃতীয় পর্ব” বলে ঘোষণা করেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোও নতুন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে।
চলতি বিক্ষোভের শুরু সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। প্রথমে জরাজীর্ণ ভবন, গাদাগাদি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষকের অভাবের প্রতিবাদে স্কুলশিক্ষার্থীরা পথে নামে। পরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভে তা ছড়ায়। ১৭ অক্টোবর কিছু বিক্ষোভ লুটপাট ও দাঙ্গায় রূপ নেয়। এরপর ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২৪ অক্টোবরের বিক্ষোভে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, সংখ্যা এর প্রায় দ্বিগুণ। ২৪ অক্টোবর ১৭ তারিখের মতো লুটপাট হয়নি, তবে বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। নুনেজের হিসাবে মধ্য-সেপ্টেম্বর থেকে সামাজিক বিক্ষোভ ও স্কুলশিক্ষার্থী আন্দোলনে ১ হাজার ১৯৩ পুলিশ ও জেন্ডারমেরি সদস্য আহত হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের একাংশের গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশের বলপ্রয়োগ নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নিযুক্ত চার বিশেষজ্ঞ বুধবার বলেছেন, মূলত অপ্রাপ্তবয়স্কদের এত বেশি সংখ্যায় গ্রেপ্তার ও আটক “অসমানুপাতিক” মনে হচ্ছে। তাঁদের মতে, এতে মানুষ মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা চর্চায় নিরুৎসাহিত হবে। নুনেজের সঙ্গে বৈঠক শেষে তরুণদের প্রতিনিধিরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।





