বিক্ষোভে টালমাটাল ফ্রান্স, মাখোঁর ব্যর্থতায় লাভ কি লো পেনের
নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ক্যাটরিন বেনহোল্ডের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, কট্টর ডানপন্থীদের ঠেকানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা মাখোঁ সেই লক্ষ্যে ব্যর্থ হয়েছেন। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত শনিবার সারা দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে নামেন। লিমোজের ঐতিহাসিক টাউন হল আগুনে প্রায় ধ্বংস হয়ে যায়। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সহিংসতার আগেই মাখোঁর জনসমর্থন প্রায় ১৫ শতাংশে নেমেছিল। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এগিয়ে আছেন মারিন লো পেন।#France #Macron #LePen #FranceProtests #MeehaNews

২০১৭ সালে কট্টর ডানপন্থী নেতা মারিন লো পেনকে হারিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন এমানুয়েল মাখোঁ। প্রতিশ্রুতি ছিল, থমকে থাকা প্রবৃদ্ধি চাঙা করবেন, বিভক্ত দেশকে এক করবেন এবং উগ্রপন্থীদের প্রতি সমর্থন কমাবেন। নয় বছর পর দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের মধ্যে সেই প্রতিশ্রুতি ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করেন নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ক্যাটরিন বেনহোল্ড। প্রথম আলোয় প্রকাশিত তাঁর বিশ্লেষণে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, আগামী নির্বাচনে কি তবে ফ্রান্সে কট্টর ডানপন্থীরা ক্ষমতায় আসছে?
চলতি মাসের শুরুতে শিক্ষা খাতে বাজেট কাটছাঁটের প্রতিবাদে হাজারো উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী রাস্তায় নামেন। বেনহোল্ডের ভাষ্য, মাখোঁ তখন ব্রিটানি উপকূলে একটি যুদ্ধজাহাজে বসে পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ দেখছিলেন। জনগণকে আশ্বস্ত করার দায়িত্ব পড়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর।
গত শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম ও স্কুলের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, সারা দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষ বিক্ষোভে নামেন, শুধু প্যারিসেই প্রায় এক লাখ ১০ হাজার। দোকানপাট লুট হয়, গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, সরকারি ভবনে হামলা হয়। ইউরোনিউজের খবর অনুযায়ী, লিমোজে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা ১৮৮৩ সালে উদ্বোধন হওয়া ঐতিহাসিক টাউন হলে আগুন দেন। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য, ভবনটির বড় অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। বেনহোল্ডের হিসাবে, সহিংসতায় প্রায় তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার মাখোঁ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ইউরোনিউজের খবর অনুযায়ী, তিনি বলেন, ফ্রান্সে সহিংসতার কোনো জায়গা নেই এবং ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িতদের বিচার হবে। সেদিন সন্ধ্যায় এক ভিডিও বার্তায় লো পেন ফ্রান্সকে একটি বিভক্ত দেশ হিসেবে তুলে ধরেন। দাঙ্গার জন্য সরকার ও অতি-বাম গোষ্ঠীগুলো পরস্পরকে দায়ী করছে। এর মধ্যেই লো পেনের দল ন্যাশনাল র্যালি নির্বাচনী তৎপরতা শুরু করেছে। দলটির সভাপতি জর্দান বারদেলা বলেছেন, “মানুষের এখন জেগে ওঠা দরকার।”
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সহিংসতার আগেই মাখোঁর জনসমর্থন প্রায় ১৫ শতাংশে নেমেছিল। গত নয় বছরে তিনি করপোরেট ও আয়কর কমিয়েছেন, সম্পদ কর তুলে দিয়েছেন। কিন্তু প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, সরকারি ঋণ বেড়েই চলেছে। বেনহোল্ডের আশঙ্কা, আগামী বছর ফ্রান্সকে প্রতিরক্ষা বা শিক্ষার চেয়ে ঋণের সুদ পরিশোধে বেশি খরচ করতে হতে পারে। আগামী বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে এখন এগিয়ে আছেন লো পেন।





