মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

কলাপাড়ায় শিশু রাইয়ান হত্যা: জবানবন্দিতে ইয়াবা সেবন ও মরদেহ গুমের বিবরণ দিলেন খালু আল আমিন

১০ মাসের শিশু রাইয়ানকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন তার খালু আল আমিন। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, আগের রাত জেগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। শিশুটির মরদেহ ব্যাগে ভরে খালে ফেলে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। আল আমিনের দাবি, স্ত্রীকে নিয়ে পারিবারিক বিরোধ থেকেই শ্যালিকা রুমানার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।#Patuakhali #Kalapara #CrimeNews #RaiyanMurder #MeehaNews

কলাপাড়ায় শিশু রাইয়ান হত্যা মামলার আসামি আল আমিন
রাইয়ান হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আল আমিন। ছাব: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১০ মাস বয়সী শিশু রাইয়ানকে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন তার খালু আল আমিন। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাত জেগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন ফজরের আজানের সময় শ্যালিকা রুমানার বাড়িতে যান আল আমিন। ঘরের পেছন দিক থেকে উঁকি দিয়ে দেখেন, রুমানা ঘরের পিঁড়ি লেপছেন। শিশু রাইয়ান তখন বাবার পাশে বিছানায় ঘুমিয়ে ছিল। আল আমিন এক হাতে শিশুটিকে কোলে তুলে অন্য হাতে তার মুখ চেপে ধরেন এবং বুকের সঙ্গে চেপে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান।

বাড়ির সামনে গ্রামের হেলালের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে গিয়ে তিনি দেখেন, শিশুটি নিথর। নড়াচড়া না করায় তিনি ধরে নেন, রাইয়ান মারা গেছে। এরপর কোমর থেকে কালো কাপড়ের একটি ব্যাগ বের করে মরদেহ ঢুকিয়ে মুখ বেঁধে ফেলেন এবং ব্যাগটি ঘরের টিনের চালায় রাখেন। পরে হেলালের পুকুরে নেমে গামছা দিয়ে নিজেকে ভিজিয়ে নেন, যাতে কেউ দেখলে মনে করে তিনি মাছ ধরে ফিরেছেন।

এরপর ব্যাগ নিয়ে নিজের বাড়ির পেছনে গিয়ে সুযোগ বুঝে খালে ফেলে দেন। ব্যাগ না ডোবায় আবার খালে নেমে কচুরিপানার মধ্যে লুকিয়ে রাখেন। নলকূপের পানিতে হাত-পা ধুয়ে বাড়ি ফিরে পান খান ও ধূমপান করেন।

জবানবন্দিতে আল আমিন বলেছেন, শিশুটি নিখোঁজের খবর পেয়ে তিনি ছেলে ও ছেলের বউকে রুমানার বাড়িতে খুঁজতে পাঠান। নিজেও খোঁজাখুঁজিতে অংশ নেন এবং রুমানাকে পুকুরে খুঁজতে বলেন।

হত্যার কারণ হিসেবে আল আমিন যে বিরোধের কথা বলেছেন, তা তার নিজের দাবি। তার ভাষ্য, স্ত্রী ফিরোজা বেগম পাঁচ বছর ধরে বিদেশে থাকলেও বাড়িতে আসতেন না। এই বিরোধ মেটাতে অনেকের কাছে গিয়েও সমাধান পাননি। সর্বশেষ রুমানার কাছে গেলে তিনি জুতা দিয়ে মারতে উদ্যত হন এবং দুবার আঘাত করেন বলে দাবি করেন আল আমিন। ওই বাড়িতে আবার গেলে জুতা দিয়ে মারার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তার ভাষ্য। রুমানা বা রাইয়ানের বাবা রাসেল খানের পক্ষ থেকে এ দাবি নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাইয়ান গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিখোঁজ হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ঘুটাবাছা গ্রামে আল আমিনের বসতবাড়ি-সংলগ্ন একটি খাল থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিখোঁজের দিন রাতে রুমানা বেগম বাদী হয়ে আল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করে কলাপাড়া থানায় মামলা করেন। মামলার আগেই ওই দিন দুপুরে পুলিশ আল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

Meeha Desk

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।