কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে ২৫ কোটি টাকার ঋণ: ইউসিবি জালিয়াতি মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরা
ভিশন ট্রেডিং নামে কাগুজে প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ইউসিবির চট্টগ্রামের পোর্ট শাখা থেকে ২৫ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে। দুদকের অভিযোগ, ঋণের অর্থ চারটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবে সরিয়ে নগদে তোলা হয় এবং একাংশ হুন্ডিতে বিদেশে পাচার করা হয়। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো তদন্ত কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানকে জেরা করা হয়। পরবর্তী শুনানি বুধবার। মামলায় আসামি ৩৬ জন। এ পর্যন্ত ৫৬ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।#UCB #ACC #LoanFraud #Chattogram #MeehaNews

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ২৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির মামলায় দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো জেরা করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভাষ্য, জেরায় ঋণের অর্থ সরানো ও ব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমানের এজলাসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমানকে জেরা করা হয়। পরবর্তী শুনানির দিন বুধবার (২৮ অক্টোবর)।
দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, ইউসিবির চট্টগ্রামের পোর্ট শাখা থেকে ভিশন ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ঋণ অনুমোদন এবং পরে সেই অর্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তরের বিষয়গুলো জেরায় এসেছে।
অভিযোগপত্রে যা বলা হয়েছে
দুদকের অভিযোগ, ভিশন ট্রেডিংয়ের বাস্তব অস্তিত্ব ছিল না। আরামিট গ্রুপের এক কর্মচারীকে মালিক সাজিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করানো হয়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গ্রুপের প্রটোকল কর্মকর্তা ফরমান উল্লাহ চৌধুরীকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে মিথ্যা তথ্যে ট্রেড লাইসেন্স করা হয়। সেই লাইসেন্সে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর পোর্ট শাখায় চলতি হিসাব খোলা হয়। পরের বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি গম, হলুদ, ছোলা ও মটর আমদানির কথা বলে ১৮০ দিনের ঋণের আবেদন করা হয়।
দুদকের অভিযোগ, যাচাই-বাছাই ছাড়াই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ঋণ অনুমোদন করে। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ঋণের বিষয়ে নেতিবাচক প্রস্তাব থাকার পরও পর্ষদ তা অনুমোদন করেছিল।
ঋণের অর্থ পে অর্ডারে আলফা ট্রেডার্স, ক্লাসিক ট্রেডার্স, মডেল ট্রেডিং ও ইম্পেরিয়াল ট্রেডিংয়ের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। দুদকের অভিযোগ, এই চার প্রতিষ্ঠানও আরামিট গ্রুপের কর্মচারীদের নামে নিবন্ধিত ছিল। পরে অর্থ নগদে তোলা হয় ও বিভিন্ন হিসাবে সরানো হয়।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, একাংশ হুন্ডিতে বিদেশে পাচার করে সম্পদ কেনা হয়। সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মালিকানাধীন আরামিট সিমেন্ট ও আরামিট থাই অ্যালুমিনিয়াম লিমিটেডের হিসাবে অর্থ জমা দিয়ে দায় সমন্বয় করার অভিযোগও আছে। দুদক বলছে, ঘটনা ঘটে ২০১৯ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।
মামলার অবস্থা
দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান গত বছরের ২৪ জুলাই মামলাটি করেন। প্রথমে আসামি ছিলেন ৩১ জন, অভিযোগপত্রে সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬। আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রুখমিলা জামান, ছোট ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী, বোন রোকসানা জামান চৌধুরী এবং ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের সাবেক কর্মকর্তারা। ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল আওয়াল ও জাবেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা কাজী মো. দিলদার মারা যাওয়ায় তাঁদের বিচার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা গত ৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে ব্যাংক ও আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তাসহ ৯২ জন সাক্ষী। ১১ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়, ৪ এপ্রিল থেকে চলছে সাক্ষ্যগ্রহণ। এ পর্যন্ত সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৬ জন। ৪ অক্টোবর সাক্ষ্য দেন তদন্ত কর্মকর্তা, ২৫ অক্টোবর থেকে তাঁকে জেরা করছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।
আজকের পত্রিকার জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকালে এ মামলায় ৯ আসামি গ্রেপ্তার হন। জাবেদ, তাঁর স্ত্রী ও ভাইসহ অন্যরা তখন পলাতক ছিলেন।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ঋণ জালিয়াতির আরও মামলা আছে। যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে তাঁদের নামে থাকা সম্পদ জব্দের আদেশও দিয়েছে আদালত।





