নির্বাচনে হেরে ব্রাজিল ছাড়লেন ফ্লাভিও বোলসোনারো, ভিসা দেবে যুক্তরাষ্ট্র
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর ফ্লাভিও বোলসোনারো ব্রাজিল ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে ভিসা দেবে। অর্থ পাচারের তদন্তে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পাসপোর্ট জমা দিতে বলেছিল। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রেসিডেন্ট লুলা ঘটনাটিকে "লজ্জাজনক" বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনকে কারচুপিপূর্ণ বললেও প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রমাণ মেলেনি বলে উল্লেখ আছে।#Brazil #FlavioBolsonaro #Lula #MeehaNews

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হারের পর দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারো। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারকে ভিসা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। খবরটি প্রকাশ পায় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর)।
রয়টার্সের তিনটি সূত্র জানায়, ফ্লাভিও ব্রাজিল ছেড়েছেন। পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে সংস্থাটি আরও জানায়, তিনি ফ্লোরিডায় নেমেছেন, তবে সূত্রটি নির্দিষ্ট স্থান বলেনি। সংবাদ ওয়েবসাইট মেট্রোপোলস পরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে লিখেছে, তিনি রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার পরিকল্পনা করছেন এবং ট্রাম্প প্রশাসনকে তা জানানো হয়েছে।
অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্ট ফ্লাভিওকে পাসপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্দেশটি আসে সোমবার। রয়টার্স আদালতের রায় দেখেছে। রায়ে ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ার ঝুঁকি এবং তাঁর “উল্লেখযোগ্য আর্থিক সামর্থ্যের” কথা বলা হয়েছে। ফ্লাভিও অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সোমবারই তিনি বলেছিলেন, দেশ ছাড়ার কথা ভাবেননি, বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে ব্রাজিলেই থাকবেন। সিনেটর হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে। তখন তিনি বিচার থেকে পাওয়া রক্ষাকবচও হারাবেন।
গত ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে হারেন ফ্লাভিও। কালবেলা লিখেছে, তিনি প্রথমে ফল মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং নির্বাচন বাতিলের উদ্যোগের কথা বলেন। পরে তাঁর দল ফল মেনে নেয়। তবে মঙ্গলবার রয়টার্স জানায়, ফ্লাভিও নিজে এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি।
ফ্লাভিওর বাবা জাইর বোলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট। অভ্যুত্থান পরিকল্পনার মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড পেয়ে তিনি এখন গৃহবন্দী। ২০২২ সালে লুলার কাছে হারের পর জাইরও যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। ট্রাম্প আগেও জাইরকে বিচারিক নিপীড়নের শিকার বলে উল্লেখ করেছেন।
নিজের ৮১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ব্রাসিলিয়ায় লুলা ফ্লাভিওর দেশ ছাড়াকে লজ্জাজনক বলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্দোষ হলে ফ্লাভিওর ব্রাজিলে থেকেই নিজের পক্ষে প্রমাণ দেওয়ার কথা ছিল। কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী লুলা আরও বলেন, “বোলসোনারো পরিবার এমনই। ব্রাজিল তাদের দ্বিতীয় মাতৃভূমি। তাদের প্রথম মাতৃভূমি হলো যুক্তরাষ্ট্রের পা চাটা।” রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লুলা আগে থেকেই অভিযোগ করে আসছেন যে ওয়াশিংটন বোলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছে।
ট্রাম্প ব্রাজিলের নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর কাছে এটি কারচুপিপূর্ণ মনে হয়েছে। তবে অনিয়মের পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা হলেও তাতে ফল বদলাত না বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য হোয়াকিন কাস্ত্রো প্রশ্ন তুলেছেন, ফ্লাভিওর দেশ ছাড়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো ভূমিকা ছিল কি না। তাঁর মতে, দুর্নীতি, অর্থ ও মুদ্রা পাচারের তদন্ত চলা একজনের বিষয়ে প্রশাসনের কংগ্রেসকে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।





