ব্যবসায় বরকতের তিন পথ: ক্ষতি মেনেও পাশে দাঁড়ানো, সম্মানজনক বিদায়, প্রতিদিনের দোয়া
ইসলামি জীবনদর্শনে ব্যবসার উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা নয়; সমাজের কল্যাণও এর অংশ। লেখকের মতে, ক্ষতি মেনে নিয়েও ইহসান ও আদল বজায় রাখলে ব্যবসায় বরকত আসে। কর্মী নিয়োগে দক্ষতা ও সততা বিবেচ্য; বিদায়ের সময়ও মর্যাদা রক্ষার কথা বলা হয়েছে। সুনান ইবনে মাজাহর বরাতে প্রতিদিন সকালে নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার শিক্ষার কথা উল্লেখ আছে।#Business #Islam #Barakah #Halal #MeehaNews

ইসলামি জীবনদর্শনে ব্যবসা কেবল লাভ-ক্ষতির হিসাব নয়; সমাজকে সেবা দেওয়া ও কল্যাণ যোগ করার মাধ্যমও। প্রথম আলোর ধর্ম ডেস্কের একটি লেখায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যবসা অঢেল অর্থ আয় করেও যদি পরিবেশ নষ্ট করে, ভেজাল পণ্য সরবরাহ করে বা মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে, তবে ইসলামি দৃষ্টিকোণে তা মূল উদ্দেশ্যেই ব্যর্থ।
লেখায় পুঁজিবাদী অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা টেনে বলা হয়েছে, সেখানে ব্যবসার লক্ষ্য মুনাফা অর্জন ও শেয়ারহোল্ডারদের (shareholder) লভ্যাংশ সর্বোচ্চ করা। বিপরীতে সমাজের উপকারের নিয়তে হালাল উপায়ে রিজিক খোঁজা উদ্যোক্তার ব্যবসা তাঁর জন্য ইবাদতে পরিণত হয়। সুনানে তিরমিজির (হাদিস: ১২০৯) বরাতে লেখায় মহানবী (সা.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী পরকালে নবী, সত্যনিষ্ঠ ও শহীদদের সঙ্গে থাকবেন।
বরকত আসার তিনটি কারণ তুলে ধরা হয়েছে লেখায়।
১. ক্ষতি স্বীকার করেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো
লেখকের মতে, ব্যবসা চালানোর সবচেয়ে কঠিন দিক হলো প্রতিদিনের কাজে ‘ইহসান’ (সৌহার্দ্য ও সৌন্দর্য) ও ‘আদল’ (ইনসাফ) ধরে রাখা, এতে সাময়িক আর্থিক ক্ষতি হলেও। উদাহরণ হিসেবে তিনি ব্যবসায়ী বন্ধুদের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। কোনো প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে চুক্তিবদ্ধ শ্রমিক বা সাব-কন্ট্রাক্টর দুর্ঘটনায় পঙ্গু হলে প্রচলিত আইনে বাড়তি টাকা দিতে বাধ্যবাধকতা নেই। তবু একজন মুমিন উদ্যোক্তা নৈতিক দায় থেকে সহায়তা চালিয়ে যান। ব্যবসার হিসাবে এটি ‘অযৌক্তিক আর্থিক ক্ষতি’ মনে হলেও আল্লাহর বিচারে তা ব্যবসাকে বরকতময় করে বলে লেখায় বলা হয়েছে। সূত্র হিসেবে সুরা নাহলের ৯০ নম্বর আয়াত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে আল্লাহ ইনসাফ, ইহসান ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দিয়েছেন।
২. নিয়োগে সততা, বিদায়ে সম্মান
কর্মী নিয়োগ বা মানবসম্পদ (এইচআর) নীতিতে ইসলাম দক্ষতা ও সততাকে গুরুত্ব দেয়। সুরা কাসাসের ২৬ নম্বর আয়াতে নবী শোআইবের কন্যার উক্তি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, মজুর হিসেবে সেই ব্যক্তিই উত্তম, যিনি শক্তিশালী (দক্ষ) ও বিশ্বস্ত। কোনো কর্মী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আর খাপ খাওয়াতে না পারলে বা তাঁকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে আকস্মিক ছাঁটাই না করে মর্যাদার সঙ্গে বিদায় জানানো উচিত। নতুন কাজ খুঁজে নিতে নির্দিষ্ট সময় ও সুযোগ দেওয়াকে লেখায় ‘মহৎ মানবিকতা’ বলা হয়েছে।
৩. বরকতের প্রার্থনা
ব্যবসাকে ‘অর্থ কামানোর যন্ত্র’ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ও মানুষের সেবার ইবাদত হিসেবে দেখার কথা বলা হয়েছে। উপার্জনে বরকতের জন্য মহানবী (সা.) প্রতিদিন সকালে একটি দোয়া পড়ার শিক্ষা দিয়েছেন বলে লেখায় উল্লেখ আছে (সুনান ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৯২৫)।
দোয়াটির বাংলা উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকা ইলমান নাফিআ, ওয়া রিজকান তাইয়্যিবা, ওয়া আমালান মুতাকাব্বালা।’
বাংলা অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র ও হালাল রিজিক এবং গ্রহণযোগ্য আমল প্রার্থনা করছি।’
লেখার শেষে ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে শুধু বস্তুগত লাভের পেছনে না ছুটে নীতি, আমানতদারি, কর্মীদের প্রতি দয়া ও সামাজিক কল্যাণের ‘বরকত কালচার’ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।





