জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় গত ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশসহ ৭৭টি দেশের প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন বা অনুপস্থিত ছিলেন। আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদল আসনে বসে পুরো ৪১ মিনিটের ভাষণ শোনে। অধিবেশন ভবনের বাইরে বিক্ষোভ থেকে ১০৩ জনকে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্ক পুলিশ।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে নেতানিয়াহু এবার ছিলেন মাত্র আট ঘণ্টা। হোয়াইট হাউসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও—কারও সঙ্গেই তাঁর বৈঠক হয়নি, মেলেনি মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণের আমন্ত্রণও। অথচ একই সময়ে বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা পান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ওয়াশিংটনে ইসরাইলের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওরেন রয়টার্সকে বলেন, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়া কোনো ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের নজির তাঁর মনে পড়ছে না।
এই ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মিডল ইস্ট আইয়ে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে সাংবাদিক জোনাথন কুক দাবি করেছেন, পশ্চিমা নেতারা এখন সরাসরি নেতানিয়াহুর পতন চাইছেন। তাঁর যুক্তি, কারণ নীতিগত নয়—এক মাস পরের ইসরাইলি নির্বাচনে ৭ অক্টোবর হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার প্রশ্নে নেতানিয়াহু এমনিতেই কোণঠাসা, আর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের জন্যও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। কুকের ভাষ্যে, ইরান-যুদ্ধে উসকানি দেওয়ার পেছনে নেতানিয়াহুর ভূমিকা থাকায় ট্রাম্প তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ, আর পিউয়ের জুলাইয়ের জরিপ অনুযায়ী ৬২ শতাংশ আমেরিকান নেতানিয়াহু সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
কুক অবশ্য এই পুরো ‘নেতানিয়াহু-হটাও’ বয়ানকেই পশ্চিমা নেতাদের দায় এড়ানোর কৌশল বলে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, গাজায় তিন বছরের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে সমানভাবে জড়িত ছিল, তাই একা নেতানিয়াহুকে সরিয়ে দিলেই তাদের দায়মুক্তি মেলে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, একই ট্রাম্প প্রশাসন নেতানিয়াহুকে জাতিসংঘে যাওয়ার অনুমতি দিলেও ফিলিস্তিনি নেতা মাহমুদ আব্বাসকে বাধা দিয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই বিশ্লেষণ মূলত একটি মতামতধর্মী রচনা, মিডল ইস্ট আইয়ের নিজস্ব সাংবাদিক জোনাথন কুকের দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে ইসরাইলের গাজা-নীতিকে সরাসরি ‘গণহত্যা’ ও ‘জাতিগত নির্মূল’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, এমন বিশেষণ যা আন্তর্জাতিক আদালতে এখনো চূড়ান্ত বিচারাধীন এবং ইসরাইল সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় বা ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই নির্দিষ্ট বিশ্লেষণের জবাবে আলাদা কোনো বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।















মন্তব্য করুন