জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ চেয়ে দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের সমাবেশ, অভিযোগ প্রত্যাখ্যান বিজেপির
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বাতিলের দাবিতে রোববার দিল্লির রামলীলা ময়দানে সমাবেশ করেছে ইন্ডিয়া জোট। সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানো হবে এবং তাঁকে জেলে যেতে হবে। মোদি ও অমিত শাহের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের কথা বলেন তিনি। বিজেপি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। অমিত শাহ সমাবেশের দিনক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং সম্বিত পাত্র দাবি করেছেন, ময়দানের বহু চেয়ার খালি ছিল।#India #INDIABloc #RahulGandhi #SIR #MeehaNews

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর) বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে সমাবেশ করেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। রোববার রামলীলা ময়দানে ভোর থেকে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেল ৩টার কিছু আগে হুডখোলা গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছান লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
সমাবেশে ছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুক আবদুল্লাহ ও আইসা নেত্রী নেহা বোরা। এএনআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও ছিলেন। বক্তারা বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরির’ অভিযোগ তোলেন। বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী সমাবেশের স্লোগান ছিল ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’।
রাহুল গান্ধী বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে সরানো হবে এবং তাঁকে জেলে যেতে হবে। তাঁর দাবি, জ্ঞানেশ কুমার ছাড়া নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী এবং অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না। অমিত শাহ আগে বলেছিলেন, মোদি কোথাও যাবেন না। এর জবাবে রাহুল বলেন, মোদিকে কোথাও যেতে দেওয়া হবে না। জ্ঞানেশ কুমারের পর মোদি ও শাহের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি দাবি করেন। বর্তমানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাহুল আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ গেছে। এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
বিজেপি অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান পত্রিকার প্রতিবেদনে অমিত শাহ বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বর্ষপূর্তির দিনে সমাবেশ করে ওই সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর ক্ষতে নুনের ছিটা দেওয়া হচ্ছে। দ্য প্রিন্টের তথ্য অনুযায়ী বিজেপি সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ২৮ হাজার চেয়ারের মধ্যে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার চেয়ার খালি ছিল। সমাবেশে কত লোক এসেছিলেন, সে বিষয়ে আয়োজক ও বিজেপির বক্তব্য মেলেনি। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে পাত্রের এই দাবি সমাবেশ ঘিরে বিজেপির পাল্টা কর্মসূচির প্রসঙ্গের সঙ্গে এসেছে। অমিত শাহ ওই পাল্টা মিছিলের সূচনা করেন বলেও জানিয়েছে ওই প্রতিবেদন।
আগের দিন, ৩১ অক্টোবর, ইন্ডিয়া জোট প্রতীকী সংসদে (মক পার্লামেন্ট) জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের প্রস্তাব এনেছিল বলে জানিয়েছে ইটিভি ভারত।





