মূল কনটেন্টে যান
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৫ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

ভোলায় নদীপথে পাচারের অভিযোগে ২৯০ বস্তা সরকারি সার জব্দ, গুদাম সিলগালা

ভোলা সদরের পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নে নদীপথে পাচারের অভিযোগে ২৯০ বস্তা সরকারি সার আটক করেন স্থানীয় কৃষকেরা। সারের মধ্যে ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি; ইউএনও জানান, তাৎক্ষণিকভাবে বৈধ কাগজ পাওয়া যায়নি। উপজেলা প্রশাসন সার গুদামে রেখে সিলগালা করেছে, তদন্ত চলছে। কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়ী করলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#Bhola #FertilizerSmuggling #Bangladesh #MeehaNews

ভোলায় জব্দ করা ডিএপি ও টিএসপি সারের বস্তা
ভোলা সদরে জব্দ করা সারছবি: সংগৃহীত

ভোলা সদর উপজেলায় নদীপথে পাচারের সময় ২৯০ বস্তা সরকারি সার আটক করেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বৈধ কাগজপত্র না পাওয়ায় উপজেলা প্রশাসন সারগুলো একটি গুদামে রেখে সিলগালা করেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ভোলার কৃষকদের জন্য বরাদ্দ এই সার বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে জেলার বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাকারমাথা এলাকার দারোগার খাল থেকে সারগুলো আটক করা হয়। বুধবার (৪ নভেম্বর) সেগুলো গুদামে রেখে সিলগালা করা হয়। আটক সারের মধ্যে ১৮০ বস্তা ডিএপি ও ১১০ বস্তা টিএসপি।

স্থানীয়রা জানান, রাতে একটি নসিমনে করে সার এনে দারোগার খালে নোঙর করা একটি ট্রলারে তোলা হচ্ছিল। খবর পেয়ে কৃষকেরা গিয়ে কাগজপত্র দেখতে চান। ট্রলারসংশ্লিষ্টরা বৈধ কাগজ দেখাতে না পারায় তাঁরা সার আটকে দেন।

ট্রলারের লোকজনের দাবি, ভোলার এক স্থানীয় সার ডিলারের কাছ থেকে কিনে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি ছিল। আলোকিত বাংলাদেশের তথ্যমতে, ট্রলারের মাঝি শহীদ ও কৃষক রফিক এ দাবি করেন। তাঁরা একটি কেনার রসিদও দেখান, কিন্তু তাতে ছিল মাত্র ৮০ বস্তা ডিএপির হিসাব। বাকি ২১০ বস্তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, ডিলাররা ভুয়া ভাউচারে সার তুলে বেশি দামে বাইরে বিক্রি করছেন। এতে স্থানীয় কৃষকেরা সংকটে পড়ছেন। অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট ডিলারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ কৃষক ঐক্য ফাউন্ডেশনের সভাপতি শাহাবুদ্দীন ফরাজি বলেন, ভোলায় সারের সংকট নেই, অথচ কৃষকেরা সরকারি ভর্তুকির সার পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, যে কৃষকের ৫০ বস্তা দরকার, তাঁকে সরকারি সারের অনুমোদন দেওয়া হয় ১০ বস্তার। বাকি ৪০ বস্তা ডিলারের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হয়। এর দায় তিনি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসানের ওপর চাপান। তাঁর দাবি, কৃষি কর্মকর্তার যোগসাজশ ছাড়া এত সার সেখানে আনা সম্ভব নয়। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানান।

কামরুল হাসান এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভোলা সদর ও বরিশালের আলিমাবাদ ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন চরের কৃষকদের জন্য সার নেওয়া হচ্ছিল। তরমুজ, ক্যাপসিকাম, চিচিঙ্গা ও শসা চাষের জন্য কৃষকেরা এগুলো কিনেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। কেউ অবৈধভাবে কাগজ তৈরি করে সার তুলেছেন কি না, তদন্তে তা দেখা হবে এবং প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস বলেন, আটকের পর সারের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। সারগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় একটি গুদামে রেখে সিলগালা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

Meeha Desk

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।