সাতক্ষীরার বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায়
- সংলাপে উপস্থাপিত গবেষণা-তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। - বক্তারা নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত খাবার, কর্মসংস্থান ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের সীমিত প্রবেশাধিকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। - সরকারি কর্মকর্তারা তালিকা পাওয়ার পর যোগ্য ব্যক্তিদের বয়স্ক ও বিধবা ভাতার আওতায় আনার এবং নীতিমালা অনুসারে প্রকৃত ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। #ClimateDisplacement #FoodSecurity #Satkhira #MeehaNews

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে আশ্রয় নেওয়া জলবায়ু বাস্তুচ্যুত মানুষের ৭৪.৯ শতাংশ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক (Bangladesh Food Security Network—KHANI)-এর গবেষণা-তথ্য সংলাপে উপস্থাপনের সময় এ চিত্র উঠে আসে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জাতীয় কৌশলপত্রের অঙ্গীকার বাস্তুচ্যুত মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কার্যকরভাবে পৌঁছায়নি। ফলে এসব পরিবার নিরাপদ আবাসন, পর্যাপ্ত খাবার, নিয়মিত কর্মসংস্থান ও সরকারি সামাজিক সুরক্ষা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে তাঁরা উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমন দিবস উপলক্ষে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরার রয়েল গ্লাস কনভেনশন হলরুমে ‘সহনশীলতার সূচনা নিজের ঘর থেকেই’ শীর্ষক বহুপাক্ষিক সংলাপটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক, পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (Participatory Research and Action Network—PRAN) এবং উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের আগে একটি র্যালি বের হয়। র্যালিটি সাতক্ষীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।
সংলাপে বক্তারা বলেন, সিডর ও আইলার মতো ভয়াবহ দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও জীবিকার উপায় হারিয়ে বহু মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে সাতক্ষীরা শহরের বস্তিতে বসবাস করছেন। বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর এসব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
বক্তারা বলেন, “বাস্তুচ্যুতির পরবর্তী খাদ্য অনিরাপত্তা কোনো সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়; এটি প্রকৃতপক্ষে দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনের একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যর্থতা।”
সংলাপে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, বস্তিতে বসবাসকারী যাঁরা এখনো বয়স্ক বা বিধবা ভাতার আওতায় আসেননি, তাঁদের তালিকা জমা দেওয়া হলে দ্রুত ভাতার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পৌরসভার বাইরের প্রকৃত ভূমিহীনরা আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুসারে পরিবারপ্রতি সর্বোচ্চ দুই একর পর্যন্ত কৃষি খাসজমি বন্দোবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তাঁরা জানান।
উন্নয়ন সংগঠন ‘স্বদেশ’-এর নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে সংলাপটি সঞ্চালনা করেন উন্নয়ন গবেষক ও সিইপিআর (CEPR)-এর নির্বাহী পরিচালক গৌরাঙ্গ নন্দী।
প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. হযরত আলী এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী মো. জাহিদ পারভেজ।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দ্য ডেইলি স্টার (The Daily Star)-এর সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, এখন টেলিভিশনের আহসান রাজীব, সময় টেলিভিশনের মমতাজ আহমেদ বাপী, ‘দক্ষিণের মশাল’-এর সম্পাদক আশিক ইলাহী, বাংলা ট্রিবিউন (Bangla Tribune)-এর আসাদুজ্জামান সরদার এবং দৈনিক ভোরের বাণীর মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমনসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।





