মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

নেপালের ফ্লাশ ফ্লাড ; বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

- সিন্ধু সভ্যতার পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জলবায়ুর পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির মতো বিষয় আলোচনায় এসেছে। - ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহের অংশ ধস, পাথর ও কাদার প্রবাহের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়। - চীনের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের নদীর প্রবাহ, পলি পরিবহন ও পানির নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে। - নদী ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কতা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। #NepalFlood #RiverManagement #ClimateChange #Bangladesh #MeehaNews

উপ-সম্পাদকীয়প্রকাশ: ৬ মিনিটে পড়ুন
নেপালের ফ্লাশ ফ্লাড ; বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সিন্ধু সভ্যতা। হরপ্পা-মহেঞ্জোদারোকে কেন্দ্র করে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে ওঠে। এই দুই নগর ছিল সিন্ধু সভ্যতারই দুই রাজধানী। সিন্ধু সভ্যতা খ্রিষ্টপূর্ব ২৬০০-১৯০০ অব্দ, প্রায় ৪৫০০ বছর আগে। মিশর ও মেসোপটেমিয়া সভ্যতার সমসাময়িক। বিশ্বসভ্যতার দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় কোনো সভ্যতা চিরস্থায়ী ছিল না। আজ যে সভ্যতা পৃথিবীর মাঝে সগৌরবে ও জৌলুসে তার যৌবন কালাতিপাত করছে, কালের বিবর্তনে জরাগ্রস্ত হয়ে পৃথিবীর গর্ভে—মৃত্তিকার নিচে চাপা পড়ে মানবসভ্যতার কবর রচনা করছে। বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলো মূলত গত ২০০ বছরের (১৯ শতক ও ২০ শতকের) আধুনিক প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য এবং গবেষণার মাধ্যমে আধুনিক মানুষের সামনে উন্মোচিত হতে শুরু করে। হাজার হাজার বছর ধরে এই সভ্যতাগুলোর নিদর্শন মাটির নিচে চাপা পড়ে ছিল। তবে প্রত্নতত্ত্ব ও নৃতাত্ত্বিক গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতা ধ্বংসের নানাবিধ কারণ ক্রমান্বয়ে উন্মোচিত হয়েছে।

প্রাচীন বিশ্বের অন্যান্য প্রধান সভ্যতাগুলোর (যেমন—মিশর, মেসোপটেমিয়া বা রোমান সভ্যতা) পতন বা ধ্বংসের ইতিহাসের সাথে সিন্ধু সভ্যতার পতনের একটি বড় ধরনের বৈপরীত্য বা অমিল রয়েছে। অধিকাংশ সভ্যতার পতন যেখানে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, বিদেশি আক্রমণ কিংবা রাজবংশের উত্থান-পতনের সাথে জড়িত, সেখানে সিন্ধু সভ্যতার পতন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী ও শান্ত। মূলত এই সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে প্রকৃতির হাতে।

সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সাতটি নদী তীরবর্তী অঞ্চলে। এতই বিশাল আর প্রমত্তা ছিল এই নদীগুলো যে নদীবিধৌত এলাকার মানুষ এদেরকে ‘সপ্তসিন্ধু’ বলেই জানত। হিন্দুকুশ ও হিমালয় থেকে নেমে এসেছিল এই সাত নদী। কাশ্মীর অতিক্রম করে পাঞ্জাবে এসে এটি সিন্ধুতে মিশেছে। তারপর পর্যায়ক্রমে সমুদ্রের সাথে সংযোগ ঘটেছে। বর্তমানে আধুনিক শহরের মতো সিন্ধু উপত্যকার শহরগুলোতে পানির ব্যবস্থা, পয়োনিষ্কাশনের নালা এবং প্রশস্ত রাস্তা বিদ্যমান ছিল। মানুষের কোলাহল, কর্মব্যস্ততা, গতিশীলতা এবং চঞ্চলতায় ভরপুর ছিল। চাষাবাদ চলত বিশাল সেচব্যবস্থার মাধ্যমে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, একদিন এই সভ্যতা শেষ হয়ে যায় এবং ভয়ংকর তুফানের মতো একটার পর একটা বন্যার বানে সব ভেসে যায়। গবেষকরা বলেন—নদীর গতিপথ বদলে দেওয়ার কারণেই এই বিপর্যয় অনিবার্য ছিল। বারবার বাঁধ দিয়ে তারা নদীর স্বভাব বদলে দেয়, আর নদী তার শোধ নিয়েছে প্রলয়ংকরী ধ্বংসের মাধ্যমে।

খ্যাতনামা মার্ক্সবাদী ঐতিহাসিক ইরফান হাবিব তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Indus Civilization-এ সিন্ধু বা হরপ্পা সভ্যতা ধ্বংসের কোনো একক অলৌকিক বা আকস্মিক কারণকে দায়ী করেননি। তাঁর মতে, এই প্রাচীন নগরসভ্যতার পতন ছিল একটি ধীরে ধীরে ঘটা দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। তিনি অনুমান করেন—সিন্ধু ও তার উপনদীগুলো গতিপথ পরিবর্তন করায় প্রধান শহরগুলোতে পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। অতিরিক্ত বন্যা নদীর অববাহিকার পলিতে শহর ও গ্রামীণ জনপদ বারবার প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এটাই সিন্ধু সভ্যতার ধ্বংসের সবচেয়ে বড় রহস্য।

আধুনিক ঐতিহাসিকদের মধ্যে প্রায় সবাই ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, সিন্ধু সভ্যতা কোনো যুদ্ধ বা মহামারিতে হঠাৎ শেষ হয়নি। আমলানন্দ ঘোষ ইরফান হাবিবের সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। ঘোষের মতে, এ সভ্যতা প্রকৃতির পরিবর্তনকে, বিশেষত নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টিকে বেশি দায়ী করেছেন। রমিলা থাপার ও শিরীন রত্নাগড়ের অভিমত হলো, প্রকৃতির ওপর মানুষের নিদারুণ অত্যাচার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক ধস সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংসের প্রধান কারণ।

সিন্ধু সভ্যতা ধ্বংস হলে ওই এলাকার মানুষেরা সরস্বতী নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছিল। এটা মূলত ছিল বৈদিক যুগের শুরু। তাদের কাছেই বিশাল ও খরস্রোতা নদী ছিল এক দেবী। মাথা নিচু করে তারা প্রণাম জানাত। কিন্তু একদিন সে সরস্বতী উধাও হয়ে গেল। কিন্তু একদিন এই নদীও শুকিয়ে উধাও হয়ে গেল। তবে মানুষ থেমে থাকল না, শুরু করল নতুন যাত্রা—চোখের সামনে দুটি সভ্যতা ধ্বংসের দগদগে স্মৃতি বারংবার ভেসে উঠে। আর তখনই তৈরি হলো সেই প্রবাদ: ‘অভাগা যেদিকে যায় সাগর শুকিয়ে যায়।’

বসবাস ও জীবিকার আশায় গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষ বসতি গড়ে তোলে। সরস্বতীর মতো গঙ্গাকেও মানুষ দেবী মর্যাদা দেয়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, গঙ্গার পানিতে পুণ্যস্নান করলেই নরকাগ্নি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাজার হাজার বছর ধরে গঙ্গা মানুষের পাপ ধুয়ে মুছে চলেছে। তবে পুণ্যবানদের ছোঁয়ায় তার পানি পাক-সাফ হয়নি। আজ গঙ্গা ভারতের সবচেয়ে দূষিত নদী। আর এই গঙ্গা বাংলাদেশে এসে পদ্মা নাম ধারণ করেছে। একথা চিরন্তন সত্য যে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের সেই ভাগ্য আবার বরণ করতে যাচ্ছি। পদ্মা শুকিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চলের আরও অনেক নদীর মতো। আমরা আবার নদী আটকাচ্ছি, বাঁধ দিচ্ছি, ঠিক যেভাবে সিন্ধু সভ্যতায় করা হয়েছিল।

চীন হিমালয় থেকে উৎপন্ন হওয়া প্রধানত ইয়ারলুং সাংপো (Yarlung Tsangpo) নদীতে বাঁধ নির্মাণ করছে, যা ভারতে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্র এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশে যমুনা নামে পরিচিত। তিব্বতের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মেদোগ কাউন্টি এবং গ্রেট বেন্ড এলাকায় চীন এই মেগা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাঁধ নির্মাণ করছে। এটি বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হিসেবে পরিচিত, যা চীনের বিখ্যাত ‘থ্রি গর্জেস ড্যাম (Three Gorges Dam)’-এর চেয়েও বহুগুণ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। অদূর ভবিষ্যতে এই বাঁধের কারণে ভাটির দেশ ভারত ও বাংলাদেশের পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া কিংবা আকস্মিক বন্যার মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে হিমালয়ের বিশাল হিমবাহ ও বরফস্তর-পাথর ধসে ভোটেকোশি, লেন্দে ও ত্রিশূলী নদীতে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বন্যায় ১,৪০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,৩০০ থেকে ৫,৬৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বহু বিদেশি পর্যটকও রয়েছেন বলে জানা গেছে। নেপালে প্রায় ৪০ হাজার কোটি নেপালি রুপি (মার্কিন ডলারে ২ দশমিক ৬৪ বিলিয়নের বেশি) সমপরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাস্তাঘাট, সেতু, গ্রাম এবং ১২ থেকে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ধ্বংস হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা নেপালের আকস্মিক বন্যা অতিমাত্রায় তীব্র আকার ধারণ করার পেছনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে সরাসরি দায়ী করছেন।

একই রকমের বাঁধের কারণে ভাটির দেশ বাংলাদেশ অতিমাত্রায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ফারাক্কা এবং তিস্তা বাঁধের কারণে নদীর তলদেশে পলি জমাটবদ্ধ হয়ে ইতোমধ্যে গঙ্গা এবং তিস্তা নাব্যতা হারিয়েছে।

গঙ্গা নদী প্রতি বছর প্রায় ৩১৬ থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন টন পলি বহন করে। তবে শুধু গঙ্গা এবং এর সাথে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী মিলে সামগ্রিকভাবে প্রতি বছর বঙ্গোপসাগরের বদ্বীপ অঞ্চলে প্রায় ১০০ থেকে ১৮০ কোটি টন পলি নিয়ে আসে। এর মধ্যে একা গঙ্গার পলি অবদান রাখে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ।

এ বাস্তবতার নিরিখে দেখা যাচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারে প্রতিবছর গঙ্গা অববাহিকার নিম্ন অঞ্চলে জলমগ্ন হয়ে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা দিচ্ছে। একই সময়ে ফারাক্কা খুলে দেওয়ার কারণে ভাটির দেশ বাংলাদেশেও বন্যা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা বন্ধ হওয়ার জন্য পদ্মা তীরবর্তী জেলাসমূহের পানির স্তর নিচে চলে যাচ্ছে। এবং খোদ পদ্মা নদী দেখে যেকোনো মানুষ ধন্দে পড়ে যাবে—এটাকে নদী, না মরুভূমি হিসেবে বিচার করবে! অতি পরিতাপের বিষয়, শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানিপ্রবাহ না থাকার বিরূপ প্রভাব সরাসরি বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের ওপর পড়ছে।

ইতোমধ্যে বাংলাদেশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও আগামরা (টপ ডাইং) রোগের মতো নানা সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে। এরই মধ্যে বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরীর ওপর নতুন করে আরও একটি ভয়াবহ হুমকি দেখা দিয়েছে। আর সে হুমকি হলো পরগাছা। আগে এই পরজীবী উদ্ভিদ শুধু গাছের শাখা-প্রশাখায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা মূল কাণ্ড পর্যন্ত বিস্তার লাভ করছে। ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে সুন্দরী গাছ মারা যাচ্ছে। বনবিভাগ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, লবণাক্ততা বৃদ্ধিই এই রোগের মূল কারণ। সুন্দরবনের ফ্লোরা ও ফনার (Flora and Fauna) ভিতরে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুমির এবং অন্যান্য সরীসৃপ প্রাণী খুলনা এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলের বন থেকে পশুর নদীর দিকে চলে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে, আগামী দুই এক দশকের মধ্যে সুন্দরীগাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এবং অন্যান্য প্রাণী বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর তালিকায় চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বনবিভাগের তথ্য অনুযায়ী সুন্দরবনের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল প্রায় দশ লাখ মানুষ। মাছ ধরা, কাঁকড়া আহরণ, গোলপাতা কাটা এবং পর্যটন ব্যবসাসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের লোনাপানি কেন্দ্রের কর্মকর্তারা দাবি করেছেন যে, মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে আশঙ্কাজনক হারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর লবণাক্ততা বৃদ্ধির মূল কারণ পদ্মা এবং তার শাখা নদীসমূহে মিঠা পানির সরবরাহ না থাকা। আর ফারাক্কা এই মিঠা পানি ঠেকিয়ে দিয়েছে।

সুতরাং এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, জ্ঞাতসারে এবং অজ্ঞাতসারে সিন্ধু সভ্যতার মতো আমরাও ধীরে ধীরে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে যাচ্ছি। যেকোনো সময় গঙ্গা এবং তিস্তা অববাহিকায় বড় ধরনের বিপদ নেমে আসতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বব্যাপী তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে পরিবেশের বিরূপ প্রভাব দেখা যাচ্ছে। অতিমাত্রায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বরফ গলে যাচ্ছে এবং বারবার ভূমি ও পাথর ধসে নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। সুতরাং হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীতে বাঁধ দেওয়ার কুপ্রভাব বাংলাদেশ, ভারত ও চীনে অদূর ভবিষ্যতে বড় বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

 কলামিস্ট ও সংবাদ বিশ্লেষক

ই-মেইল : expertdu88@gmail.com

এই লেখার মতামত লেখকের নিজস্ব। এটি মিহা নিউজের সম্পাদকীয় অবস্থানের প্রতিফলন নয়।

লেখাটির সঙ্গে আপনি কতটা একমত?

মুহাম্মাদ মুনাওয়ার হোসাইন

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মতামতের জবাবে মতামত দিন, সম্মান রেখে।

সারাংশ

নেপালের ফ্লাশ ফ্লাড ; বাংলাদেশের জন্য সতর্কবার্তা

- সিন্ধু সভ্যতার পতনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে নদীর গতিপথ পরিবর্তন, জলবায়ুর পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির মতো বিষয় আলোচনায় এসেছে।
- ২০২৬ সালের ২৬ আগস্ট নেপাল–তিব্বত সীমান্তে হিমবাহের অংশ ধস, পাথর ও কাদার প্রবাহের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস ঘটে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়।
- চীনের ইয়ারলুং সাংপো নদীতে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের নদীর প্রবাহ, পলি পরিবহন ও পানির নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়েছে।
- নদী ব্যবস্থাপনা, আগাম সতর্কতা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
#NepalFlood #RiverManagement #ClimateChange #Bangladesh #MeehaNews

আজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।