প্রধান কন্টেন্টে যান
শুক্র ২ October ২৬
হেডলাইন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন
সম্পদকীয় / আন্তর্জাতিক

মক্কা চুক্তি;ঘোমটার মাঝে খেমটা নাচের ইতিকথা!

মোট শেয়ারমোঃ: 3

মক্কা চুক্তি;ঘোমটার মাঝে খেমটা নাচের ইতিকথা!
মক্কা চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজতান্ত্রিক কূটনীতি নিয়ে সম্পাদকীয় বিশ্লেষণ

ইরান-আমেরিকার মাঝে চলমান যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, অর্থনীতিসহ কৌশলগত সামরিকনীতির ক্ষেত্রে প্রভূত পরিবর্তন প্রতিভাত হয়েছে। এই পরিবর্তন হয়েছে খুবই দ্রুত। যা আরব রাজতন্ত্র শাসিত দেশসমূহের রাজাদের ক্ষমতার মসনদ রক্ষা করা অত্যাবশ্যকীয়ভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ আমেরিকার উপর থেকে নির্ভরতা হ্রাস করে আত্মনির্ভরতা অথবা নতুন মিত্রের খোঁজে মনোনিবেশ করতে রীতিমতো বাধ্য হচ্ছে। কারণ এই যুদ্ধের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা বুঝতে পেরেছে, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেয়ে ইসরাইলকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমেরিকা বেশিই আন্তরিক। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্যের শাসকশ্রেণী কোনো প্রকার জল্পনা-কল্পনা ছাড়াই বিশ্বস্ত এবং পরীক্ষিত মিত্রের খোঁজ করা—এটাই উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করছে। অন্যদিকে শিয়াপন্থী ইরানের অস্বাভাবিক উত্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশাহদের ফুলশয্যায় সাজানো বিলাসী জীবনযাত্রার অন্তরায় সৃষ্টি করেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধর্মীয় আবেগের বশবর্তী হয়ে মুসলিম উম্মাহর জাতীয়তাবাদ অথবা উম্মাহ কেন্দ্রিক ঐক্যের ধারণা সামনে নিয়ে মক্কা চুক্তি হয়েছে। উল্লেখ্য এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একইভাবে ধর্মকে ব্যবহার করে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য আরব দেশসমূহের সাথে ‘আব্রাহাম নামে চুক্তি’ করেছে। কারণ নবী ইব্রাহিম (আ:) মুসলিম, ইহুদি, খ্রিস্টান এই তিন ধর্মের মানুষের কাছে খুবই সম্মানিত ব্যক্তি। তেমনই মক্কাও সমগ্র মুসলিমদের কাছে মহাপবিত্র স্থান হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় মক্কা চুক্তি নামে নামকরণ করা হয়েছে।

তবে 'ঘোমটার মাঝে খেমটা নাচ' বা ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের কারণে মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক কোনো জোটের সফলতা নেই বললেই চলে। আরব লীগ, ওআইসি এবং রাবেতা আল ইসলাম নামক প্রতিষ্ঠানগুলো ঠুঁটো জগন্নাথ বা দন্তবিহীন বাঘ হিসেবে মশহুর। ব্যক্তিগত স্বার্থ, দেমাগ এবং ক্ষমতার মসনদ সুসংহত রাখার হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের রাজা-বাদশারা প্রকাশ্যে ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে অনেক ঢাকঢোল পিটায়; কিন্তু পর্দার অন্তরালে গলায় রশি বাঁধা দাসের মতো আমেরিকা এবং ইসরাইলের পদলেহন করেই ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে বহুবার ও বহুকাল মুনাফেকির সর্বনিকৃষ্ট প্রমাণ দিয়েছে। আর এসব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে যেকোনো বিবেকবান মানুষ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বুঝতে পারবে নিজ জাতির সাথে মধ্যপ্রাচ্যের শাসকদের বেইমানি বা বিড়াল তপস্যার গভীরতাটা কত বেশি!

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নিমিত্তে মরোক্কো ২০২০ সালের ডিসেম্বরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে দস্তখত করে। কিন্তু মোদ্দা কথা হলো, ততদিনে এই সম্পর্কের বয়স অন্তত ষাট বছর। ১৯৬১ সালে বাদশাহ পঞ্চম মুহাম্মাদ একান্ন বছর বয়সে আকস্মিক মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সিংহাসনে বসেন দ্বিতীয় হাসান। কিন্তু ক্ষমতায় বসার সময় তিনি ভীত হয়ে পড়েন। মিশরের জামাল আব্দেল নাসের ও আরব জাতীয়তাবাদীরা রাজতন্ত্র উচ্ছেদ করতে চায়। এমনকি দেশের ভেতরে তার নিজের সেনা কর্মকর্তারাও তাকে খুব একটা পছন্দ করেন না। তাই তিনি দেশের বাইরে তাকালেন। সিংহাসন টিকিয়ে রাখতে বাইরের শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইলেন। আর শুনতে অবাক লাগলেও, সেই শক্তিগুলোর একটি হলো ইসরায়েল। ১৯৭১ ও ১৯৭২ সালে বাদশাহ হাসানকে দুইবার হত্যাচেষ্টা করা হলেও অবিশ্বাস্যভাবে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। আর মূল নাটকীয় মোড়টা আসে এখানেই। পরপর দুবার নিজের সেনাবাহিনীই তাকে উৎখাত করার চেষ্টা করে। আর এর জবাবে হাসান তার নিরাপত্তা পুরোপুরি ইসরায়েলের ওপর ন্যস্ত করেন; কারণ নিজ দেশের জেনারেলদের প্রতি তার আর বিন্দুমাত্র আস্থা-বিশ্বাস কিছুই ছিল না।

ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক রাখার ক্ষেত্রে সৌদি আরব মরক্কোর পদাঙ্ক অনুসরণ করে। তবে সব কিছু চক্ষুর অন্তরালে ঘটেছে। বাদশাহ ফয়সাল ও খালিদের মৃত্যুর পর সৌদি আরব ইসরাইল প্রশ্নে নমনীয় হতে শুরু করে। সৌদি আরব ও ইসরাইলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, পর্দার আড়ালে বা অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে যোগাযোগ ও আলোচনা চলেছে। ১৯৮১ সালের ৭ আগস্ট সৌদির তৎকালীন যুবরাজ (পরবর্তীতে রাজা) ফাহদ বিন আবদুল আজিজ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটি ৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এই পরিকল্পনার ৭ নম্বর দফায় বলা হয়েছিল, “এই অঞ্চলের সকল রাষ্ট্র যাতে শান্তিতে বসবাস করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।”

বলার অপেক্ষা রাখে না, সৌদি আরব “সকল রাষ্ট্র” এই শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পরোক্ষভাবে ইসরাইলের অস্তিত্ব এবং তাদের শান্তিতে থাকার অধিকারকে প্রথমবার স্বীকৃতি দিয়েছিল। এটি ছিল আরব বিশ্বের প্রথাগত অবস্থানের বাইরে গিয়ে ইসরাইলকে এই অঞ্চলের অংশ হিসেবে মেনে নেওয়ার একটি ঐতিহাসিক ও আনুষ্ঠানিক প্রয়াস। সৌদি আরব বাদশাহ ফাহাদ কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০০২ সালে ‘আরব শান্তি উদ্যোগ’ উত্থাপন করে। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন এবং ইসরাইল অধিকৃত ভূমি ছেড়ে দিলে সৌদিসহ পুরো আরব বিশ্ব ইসরাইলকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নেবে এবং সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সনামধন্য সংবাদমাধ্যমে জানা যায়, বর্তমানে সৌদি আরবের স্কুলের পাঠ্যবই থেকে ‘মুসলমানরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’—এমন দাবি সংক্রান্ত একটি বাক্য বাদ দেওয়া হয়েছে। দেশটির শিক্ষাব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইল, ইহুদি ও জেরুজালেম নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্যে পরিবর্তন আনার ধারাবাহিকতায় এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু জেরুজালেমের প্রসঙ্গই নয়, সৌদি পাঠ্যবইয়ে ইসরায়েল ও ইহুদিদের নিয়ে ব্যবহৃত কিছু ভাষাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তনের ফলে সৌদি পাঠ্যক্রমে সহাবস্থান, সহনশীলতা ও মধ্যপন্থার ওপর বেশি গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। কোথাও ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দের পরিবর্তে ‘ইসরাইলি দখলদারত্ব’ শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানচিত্র থেকেও ফিলিস্তিনের নাম সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা কিছু এলাকা নামহীন রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে সম্পর্ক দৃঢ় করার ক্ষেত্রে, সৌদি থেকে জর্দান একটু বেশি অগ্রগামী। জর্ডানের হাশেমীয় রাজবংশ ১৯২৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদুল আকসার রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে আসছে। ১৯৯৪ সালে জর্ডানের সাথে ইসরাইলের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন হলেও দীর্ঘকাল সূর্য ও মেঘের লুকোচুরির ন্যায় তাদের সম্পর্ক লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিল। ইরান-আমেরিকার যুদ্ধের সময় ইসরাইলকে রক্ষা করার জন্য জর্ডান প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা করে সম্পর্কের গভীরতা জানান দিয়েছে। আবার ইসরাইলের বাহিরে মোসাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি সংযুক্ত আরব-আমিরাতে অবস্থিত। ইরান-আমেরিকা ও ইসরাইল যুদ্ধের সময় আমিরাত থেকে সরাসরি ইরানে আক্রমণ করা হয়। এভাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটা দেশ প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে আমেরিকা ও ইজরায়েলের স্বার্থ রক্ষায় নিবেদিত প্রাণ। ‘বিপদে বন্ধুর পরিচয়’—মধ্যপ্রাচ্যের শাসকরা তা আবারও প্রমাণ করেছে। ইরান-মার্কিন যুদ্ধে বিশ্বস্ত ভৃত্যের ন্যায় আমেরিকা ও ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান করেছে। একারণে তাদের সম্পর্কে আর যাই বলা হোক না কেন আপাতত ধোঁকাবাজ বলা অযৌক্তিক হবে।

আর মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইল ‘স্টিক অ্যান্ড ক্যারোট পলিসি’ প্রয়োগ করে চলেছে। একদিকে রাজপরিবারগুলোকে ক্ষমতাচ্যুত করার ভয় দেখায়, অন্যদিকে স্বার্থ হাসিলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। আর জনগণের উপরে শাসকশ্রেণি সেফটি ভালভ তত্ত্ব প্রয়োগ করছে। এই তত্ত্বটি ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সর্বপ্রথম ব্যবহার করেছিল। সেফটি ভালভ তত্ত্বটি বুঝতে হলে—একটি প্রেসার কুকার বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের মেকানিজমের সাথে তুলনা করলে সহজে বোঝা যায়। প্রেসার কুকার বা বাষ্পীয় ইঞ্জিনের সেফটি ভালভের মতো জনগণের অতিরিক্ত চাপ বা অসন্তোষ বের করে দেবে, কিন্তু সিস্টেম ভাঙবে না। মূলত জনগণকে ভোগ-বিলাসে মত্ত রাখার মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি সেফটি ভালভের মতো বের করে শাসকশ্রেণি ক্ষমতার মসনদ সুসংহত রাখে।

রাষ্ট্রক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শাসকশ্রেণি সেফটি ভাল্বের মতো আরও কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। এই কৌশলগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব অন্য বন্ধুভাবাপন্ন দেশের উপর ছেড়ে দেওয়া। মধ্যপ্রাচ্যের শাসকদের এই কৌশলকে গবেষক জেমস কুইনলিভান ‘কু-প্রুফিং’ বা অভ্যুত্থান-প্রতিরোধী রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিভক্ত রেখে শাসকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে বাইরের পৃষ্ঠপোষকের ওপর নির্ভরশীল করে তোলা হয়। এক্ষেত্রে সৌদি আরব বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য আমেরিকার উপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। রাজপরিবারের নিরাপত্তার জন্য পাকিস্তানের সাথে চুক্তি আছে। একইভাবে কাতার বর্তমানে রাজপরিবারের নিরাপত্তার দায়িত্ব তুরস্ককে দিয়েছে। জর্ডান, মরক্কো ও সংযুক্ত আরব-আমিরাত তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইসরাইলের উপরে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। সুতরাং প্রকাশ্যে এই চুক্তি নিয়ে হুলুস্থুল আয়োজন দেখা গেলেও অপ্রকাশ্যে কতটা কার্যকরী হবে তা বিশাল জিজ্ঞাসাচিহ্ন হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তবে মক্কা চুক্তি কেন হলো? কেন ট্রাম্প এই চুক্তিকে স্বাগত জানাল? অল্পতেই এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সহজ বিষয় নয়। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণাপত্র, পত্র-পত্রিকা এবং মিডিয়ার বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত আদ্যোপান্ত বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখা যায়—মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে আমেরিকার নিজস্ব ১৯টি সামরিক ঘাঁটি আছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে এ ঘাঁটিগুলোর অধিকাংশই আংশিক অথবা পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত। এই মুহূর্তে আমেরিকার পক্ষে পুনরায় নতুন ঘাঁটি স্থাপন করা প্রায় অসম্ভব। সুতরাং এই শূন্যস্থানে আমেরিকা তার দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তান ও ন্যাটোভুক্ত তুরস্ককে প্রতিস্থাপন করতে প্রয়াস চালাচ্ছে, যাতে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের স্বার্থ সর্বাংশে অক্ষুণ্ন থাকে। অপরদিকে ইরান ও ইরানপন্থি হুতি ও হামাসের বিরুদ্ধে এই জোট একটি প্রতিরোধমূলক ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে প্রণিধানযোগ্য যে, পাকিস্তান ও তুরস্ক ছাড়া এই জোট হবে ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সরদারের মতো কাগুজে বাঘ। বাংলাদেশ যদি এই জোটে অংশগ্রহণ করে, প্রযুক্তিগত সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান, নিত্যনতুন অস্ত্রে সজ্জিত হবে। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সব দেশ নিজেদের স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিবেচনা করবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে সোজাসাপ্টা জবাবে বলা যায়, এই জোটে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের হারানোর খুব বেশি কিছু নেই।


মঈনউদ্দীন মুনাওয়ার

সম্পাদক, মিহা নিউজ অনলাইন ই-মেইল: expertdu88@gmail.com

মোট শেয়ারমোঃ: 3

পোস্টটি কেমন লাগলো?

মন্তব্য করুন (1)

  1. অনেক ভালো লিখেছেন। তবে মক্কা চুক্তি আর যাইহোক মুসলমানদের স্বার্থে তো বিলকুল নয়ই, উপরন্তু এটা মক্কার রাজতন্ত্রের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় ও বলা যায় না। কারণ এটা নিয়ে ট্রাম্পের স্বাগত জানানোই বলে দেয়, পিছন থেকে কলকাঠি কারা নাড়ছে।

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো * দ্বারা চিহ্নিত।

সম্পর্কিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সুইচ আমাদের হাতে, বিদ্যুৎ কার হাতে?

সুইচ আমাদের হাতে, বিদ্যুৎ কার হাতে?

৪ ঘণ্টা আগে
নামফলকে লেখা হলো, মুছে গেল, আবার ফিরল—ঢাবির এক হল, দুই নাম আর অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত প্রশ্ন

নামফলকে লেখা হলো, মুছে গেল, আবার ফিরল—ঢাবির এক হল, দুই নাম আর অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত প্রশ্ন

১ দিন আগে
গোল নয় গোলপাতা: সুন্দরবনের সবুজ আচ্ছাদন, যার আড়ালে লুকিয়ে বাঘের নিঃশ্বাস

গোল নয় গোলপাতা: সুন্দরবনের সবুজ আচ্ছাদন, যার আড়ালে লুকিয়ে বাঘের নিঃশ্বাস

৪ দিন আগে
মেহেরুনকে নিয়ে ‘উধাও’ আইএইচটি শিক্ষক অসীম কুমার

মেহেরুনকে নিয়ে ‘উধাও’ আইএইচটি শিক্ষক অসীম কুমার

২ সপ্তাহ আগে
চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগে কোন দল এগিয়ে? সংবাদ-অনুসন্ধানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অপরাধচিত্র

চাঁদাবাজি-দখলের অভিযোগে কোন দল এগিয়ে? সংবাদ-অনুসন্ধানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অপরাধচিত্র

৩ সপ্তাহ আগে
র‍্যাবের কাঠামো বহাল রেখে নাম বদল, আপত্তি শফিকুরের

র‍্যাবের কাঠামো বহাল রেখে নাম বদল, আপত্তি শফিকুরের

৩ সপ্তাহ আগে
ছয় মাসেই ফাটল: তারেক-শফিকুরের সমীকরণ ও রাজনীতির নতুন মোড়

ছয় মাসেই ফাটল: তারেক-শফিকুরের সমীকরণ ও রাজনীতির নতুন মোড়

৩ সপ্তাহ আগে
টুপি-দাড়ি মানেই ভিলেন? সিনেমা-পাঠ্যবইয়ে মুসলিম চিত্রায়নের গবেষণা

টুপি-দাড়ি মানেই ভিলেন? সিনেমা-পাঠ্যবইয়ে মুসলিম চিত্রায়নের গবেষণা

৩ সপ্তাহ আগে

সর্বাধিক পঠিত