মূল কনটেন্টে যান
রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬২৩ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার ৮ নভেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন আইজেনকোট

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গাদি আইজেনকোটকে। আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর রোববার (৮ নভেম্বর) হওয়ার কথা। হারজগের পরামর্শসভায় আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭ জন এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতা সমর্থন জানান। ইসরায়েল বেইতেনুর নেতা আভিগদর লিবারম্যান আরব দলের সমর্থননির্ভর সরকারে যেতে রাজি নন। এটি আইজেনকোটের পরিকল্পনায় বড় বাধা। আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়তে পারে। ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে দায়িত্ব দিতে পারবেন।#Israel #GadiEisenkot #Netanyahu #Knesset #MeehaNews

ইসরায়েলের ইয়েশার পার্টির নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট
গাদি আইজেনকোট।

ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকোটকে সিদ্ধান্তটি জানানো হয়। সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, রোববার (৮ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব তাঁর হাতে তুলে দেওয়ার কথা। দায়িত্ব পাওয়া মানে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নয়। তাঁকে নেসেটে (ইসরায়েলের পার্লামেন্ট) ৬১ জনের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়তে হবে।

গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে কোনো দল বা জোট ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩ আসন। আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী চার দল ৪৮টি আসন পেয়েছে। দুটি আরব দল পেয়েছে ১৯ আসন।

গত সপ্তাহে হারজগ পার্লামেন্টের দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা আইজেনকোটকে এবং ৪৬ জন নেতানিয়াহুকে সরকার গঠনের জন্য সুপারিশ করেন। ইসরায়েলের গণমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কাউকেই সুপারিশ করেনি। এপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি আরব দলই আইজেনকোটকে সুপারিশ করেছে। যদিও আইজেনকোট তাদের নিয়ে সরকার গঠন করবেন না বলে জানিয়েছেন। হারজগ ওই বৈঠকের পর বলেছেন, দলগুলোর পারস্পরিক ভেটোর কারণে সরকার গঠনের সম্ভাবনা অনিশ্চিত।

আইজেনকোট সাবেক সেনাপ্রধান ও মধ্যপন্থী ইয়েশার পার্টির নেতা। তিনি চার দল নিয়ে জাতীয় জরুরি সরকার গঠন করতে চান। দলগুলো হলো ইয়েশার, নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের টুগেদার, আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু এবং ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস। তাঁর শর্ত চারটি: ইসরায়েলকে ইহুদি, গণতান্ত্রিক, উদার ও সমতাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মূল্যবোধ মানা, সবার জন্য সামরিক, জাতীয় বা বেসামরিক সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা।

এই পরিকল্পনার বড় বাধা লিবারম্যান। তিনি আরব দলের সমর্থনে গঠিত সংখ্যালঘু সরকারে যোগ দিতে চান না। তাঁর আশঙ্কা, এমন সরকার বেশিদিন টিকবে না এবং নেতানিয়াহু আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরতে পারেন। বিকল্প হিসেবে তিনি অতি-গোঁড়া ইহুদি দল শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমকে নিয়ে ৬১ সদস্যের জোটের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর ধারণা, পরে লিকুদের তিন-চারজন আইনপ্রণেতা দল ছেড়ে আসতে পারেন। তবে ওই দুই দল অতি-গোঁড়া পুরুষদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতির পক্ষে। আইজেনকোট ও লিবারম্যান প্রচারে সবার জন্য সেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহু নির্বাচনের ফল চ্যালেঞ্জ করে অভিযোগ করেছেন, ঘুষ ও বিদেশি অর্থায়নে আরব দলগুলো ভোট “চুরি” করেছে। এ অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে প্রমাণ দেওয়া হয়নি। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন হয়নি। শনিবারের ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেছেন, আরব দলের সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার হলে ইসরায়েল টিকবে না। তিনি নিজের জোটের দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের আহ্বান জানান। আইজেনকোট তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দলের ভাষ্য, লিকুদ সত্যিই ঐক্যের সরকার চাইলে কট্টরপন্থী দলগুলোর সঙ্গে জোট ভেঙে আইজেনকোটের সরকারে আসতে পারে। লিকুদের প্রতিনিধি ইয়োয়াভ কিশ হারজগকে আরব দলের ওপর নির্ভরশীল সরকারের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

নিয়ম অনুযায়ী আইজেনকোট ২৮ দিন সময় পাবেন, প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে। ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য আইনপ্রণেতাকে দায়িত্ব দিতে পারবেন। দ্বিতীয় চেষ্টাও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট তৃতীয় প্রার্থীকে প্রস্তাব করতে পারবে, যিনি ১৪ দিন পাবেন। সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট ভেঙে নতুন নির্বাচনের পথ খুলবে। সরকার গঠনের জন্য সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। তবে বিকল্প সরকার গঠনের পক্ষে কমপক্ষে ৬১ জনের সমর্থন থাকতে হয়। আরব দলগুলো মন্ত্রিসভার বাইরে থেকে সমর্থন দিলেও আইজেনকোটের সুযোগ আছে।

মঙ্গলবার নতুন নেসেট সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা। ওই দিন বিরোধীরা স্পিকার বদলের উদ্যোগ নিতে পারে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার আগে নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যর্থতা তদন্তে রাষ্ট্রীয় কমিশন গঠনের চেষ্টাও হতে পারে। প্রায় ১৯ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহু এবার সরকার গঠনের সমীকরণে পিছিয়ে পড়েছেন। আইজেনকোট ব্যর্থ হলে তিনি আবার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

আন্তর্জাতিক ডেক্স

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।