শিন বেতের তদন্ত নিয়ে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ‘অভ্যুত্থানচেষ্টা’র অভিযোগ বিরোধীদের
নির্বাচনের পর শিন বেতের তদন্তকে কেন্দ্র করে ইয়ার গোলান, ইয়ার লাপিদ ও গাদি আইজেনকোট নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র দুর্বল করা ও অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ফল প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করেছে। শিন বেত জানিয়েছে, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং এটি বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, এক হাজারের বেশি অভিযোগ পর্যালোচনা করেও একটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করা হয়নি।#Netanyahu #ShinBet #Israel #IsraelElection #MeehaNews

ইসরায়েলের নির্বাচনের পর দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের তদন্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী রাজনীতিক ও বিশ্লেষকেরা। তাঁদের দাবি, ক্ষমতায় টিকে থাকতে নেতানিয়াহু ভোটের ফল প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন।
নির্বাচনে ফিলিস্তিনিপন্থী দল রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট নেসেটে সম্মিলিতভাবে রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে। আজকের পত্রিকার তথ্যমতে, নেতানিয়াহুর দল লিকুদ ২৭ আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হয়েছে। এরপর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির প্রধান বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ বিদেশি অর্থায়নে নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব খাটানোর সন্দেহ তদন্তে শিন বেত প্রধান ডেভিড জিনিকে নির্দেশ দেন। লিকুদ দাবি করে, আরব দলগুলো ঘুষ, হুমকি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে।
মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিন বেত ফিলিস্তিনি ভোটারদের ভোট নিয়ে জালিয়াতি, ঘুস ও বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে। এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। সংস্থাটি প্রকাশ্যে জানিয়েছে, তদন্ত এখনো শেষ হয়নি এবং এটি বৈধভাবে ভোট দেওয়া পুরো আরব সম্প্রদায়কে অভিযুক্ত করছে না।
মঙ্গলবার শিন বেত মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদক আবদ আবু শাহাদেহকে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট তদন্তের কথা জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহমাদ তিবি, সামি আবু শাহাদেহ, মানসুর আব্বাস ও আয়মান ওদেহকে জিজ্ঞাসাবাদের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বলেন, দেশের গণতন্ত্র হুমকির মুখে। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বিনা পরোয়ানায় রাজনৈতিক কর্মীদের আটক করছে এবং শিন বেত প্রমাণ ছাড়াই নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে। পরে তিনি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানচেষ্টা ও জোর করে ক্ষমতা দখলের অভিযোগ তোলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদের অভিযোগ, নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানে সরকারের অনুগতদের সহায়তায় নেতানিয়াহু নির্বাচনের ফল চুরির চেষ্টা করছেন। বিরোধী জোটের নেতা গাদি আইজেনকোট বলেছেন, সহিংসতায় উসকানি ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দুর্বল করার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। হারেৎজের সাংবাদিক আমোস হেরেল পুরো ঘটনাকে অভ্যুত্থানের চেষ্টা বলে বর্ণনা করেছেন।
বুধবার কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট হারজগের কাছে হস্তান্তর করে এবং ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ নাকচ করে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কমিটির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ডিন লিভনে বলেছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা পদ্ধতিগতভাবে লঙ্ঘনের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
এরপরও শিন বেতের তদন্ত চলছে। ওয়াইনেটকে এক সূত্র জানিয়েছে, তদন্তের পক্ষে প্রাথমিক প্রমাণও নেই। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জালিয়াতির এক হাজারের বেশি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে, কিন্তু একটিকেও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। হারেৎজ জানিয়েছে, নির্বাচনের আগে এ-সংক্রান্ত একটি তদন্তই শুরু হয়েছিল; নেতানিয়াহুর জোট হারছে বোঝা যাওয়ার পর বাকিগুলো শুরু হয়।
জিনি গত বছর নেতানিয়াহুর নিয়োগে শিন বেতের প্রধান হন। তাঁর কট্টর ডানপন্থী অবস্থান ও বসতি স্থাপনকারী আন্দোলনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে শুরু থেকেই সমালোচনা আছে। চ্যানেল ১৩-এর এক সূত্রের অভিযোগ, তিনি প্রমাণ ছাড়া নাম সামনে আনছেন ও লিকুদের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি করছেন। চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, নির্বাচনের পর তদন্ত চালাচ্ছেন সংস্থার উপপ্রধান, যিনি নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।





