বৃহত্তর জাতীয় সরকার নিয়ে আলোচনায় রাজি নেতানিয়াহু, শর্ত নিজের নেতৃত্ব
সোমবার (২ নভেম্বর) এক্সে নেতানিয়াহু জানান, লিকুদ বৃহত্তর সরকার নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত, তবে নেতৃত্ব তাঁকেই দিতে হবে। আরব দলের ওপর নির্ভরশীল সরকার তিনি চান না। গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩, বিরোধী জোট ৪৮ ও আরব দলগুলো ১৯ আসন পেয়েছে। কোনো পক্ষের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। বেনেট, গোলান ও লিবারম্যান প্রেসিডেন্ট হারজগের কাছে গাদি আইজেনকোটের নাম সুপারিশ করবেন। আরব জোটগুলো যোগ দিলে তাঁর সমর্থন ৬৭-তে পৌঁছাতে পারে। বুধবার থেকে প্রেসিডেন্ট হারজগ দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ শুরু করবেন।#Israel #Netanyahu #Knesset #Eisenkot #MeehaNews

ইসরায়েলে বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আলোচনায় বসতে রাজি আছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে নতুন সরকারের নেতৃত্ব তাঁকেই দিতে হবে বলে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক্সে দেওয়া পোস্টে নেতানিয়াহু বলেন, ‘লিকুদ তার অংশীদারদের সঙ্গে এবং যারা সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করে না, এমন যেকোনো দলের সঙ্গে বৃহত্তর সরকার গঠনে আগ্রহী। এ বিষয়ে আলোচনায় বসতেও আমি প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, প্রথম দিন থেকেই তাঁরা আলোচনার হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। রা’আম ও জয়েন্ট লিস্ট, এই দুই আরব জোটের ওপর নির্ভরশীল সরকার ইসরায়েলের মানুষ চায় না বলেও দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর এই প্রথম নেতানিয়াহু কোনো ধরনের সরকার গঠনের কথা বললেন বলে জানিয়েছে জেরুসালেম পোস্ট। গত সপ্তাহে তিনি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জোট’ গঠনের কথা বলেছিলেন বলে লিখেছে দ্য মিডিয়া লাইন। নেতানিয়াহুর দাবি, ইহুদি জনগোষ্ঠীর স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ লিকুদকে বৃহত্তম দল হিসেবে বেছে নিয়েছে এবং তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চেয়েছে।
গত সপ্তাহের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, বিরোধী দলগুলো ৪৮টি, আরব দলগুলো ১৯টি। ১২০ সদস্যের নেসেটে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। জেরুসালেম পোস্টের তথ্যমতে, এর মধ্যে লিকুদ একাই ২৭ আসন জিতেছে, আর আইজেনকোটের ইয়াশার ২১টি।
বিরোধী শিবিরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টুগেদার পার্টি, ইয়ার গোলানের ডেমোক্র্যাটস ও আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু ইয়াশার নেতা গাদি আইজেনকোটের নাম প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে সুপারিশ করবে। এখন পর্যন্ত আইজেনকোটের পক্ষে ৪৮ জন আইনপ্রণেতা আছেন। দুটি আরব জোটও তাঁকে সুপারিশ করবে বলে প্রত্যাশা, তাহলে সমর্থন ৬৭-তে দাঁড়াতে পারে। তবে সুপারিশ করলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয় না। লিবারম্যান বলেছেন, আরব দলকে নিয়ে বা তাদের সংসদীয় সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল কোনো সরকারে তিনি যোগ দেবেন না।
আইজেনকোট শনিবার সরকারে যোগ দেওয়ার চারটি নীতি ঘোষণা করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এসব নীতি মেনে নিলে যেকোনো সংসদ সদস্য অংশীদার হতে পারবেন। তিনি সম্ভাব্য সর্বাধিক বিস্তৃত জায়নবাদী সরকার চান বলে জানিয়েছেন।
নির্বাচনের ফল নিয়ে লিকুদও আলাদা চাপ তৈরি করেছে। দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের তথ্যমতে, বিদেশি হস্তক্ষেপের সন্দেহে তদন্ত চলার কথা উল্লেখ করে দলটি ফল প্রত্যয়ন পিছিয়ে দিতে চেয়েছিল। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান বিচারপতি নোম সোলবার্গ তা নাকচ করে বলেন, কমিটির প্রত্যয়ন আটকানোর কিংবা চলমান তদন্তে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার নেই। ওই তদন্ত প্রমাণিত হলেও ফলে বড় প্রভাব ফেলার মতো নয় বলে কমিটি আগেই জানিয়েছে। আইজেনকোট লিকুদের এ পদক্ষেপকে ফলের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক ও সহিংস বৈধতা-নাশের প্রচারণা’ বলে অভিহিত করেছেন।
নির্বাচনের সরকারি ফল ৪ নভেম্বর উপস্থাপন করার কথা। বুধবার থেকে প্রেসিডেন্ট হারজগ দুই দিনের পরামর্শ শুরু করবেন, এরপর সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে একজন আইনপ্রণেতাকে মনোনীত করবেন। হারজগ প্রকাশ্যে নেতানিয়াহু ও বিরোধীদের নিয়ে ঐক্যের সরকারের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে দ্য মিডিয়া লাইন। নতুন নেসেটের সদস্যরা ১০ নভেম্বর শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে এএনআই।





